php glass

গুরুর জন্য কান্না

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

‘ঘড়ির কাটা থেমে গেছে। আমারও সময় বুঝি ফুরিয়ে এসেছে।’ লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার  আগের রাতে বড় মেয়ে ইমা খানের সঙ্গে এটাই ছিল পপগুরু আজম খানের শেষ কথা। পরদিন ২৭ মে সকালে অচেতন অবস্থায় পপগুরুকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতালে সিসিইউয়ের দেওয়াল ঘড়িটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজম খান মেয়েকে বলেছিলেন এই কথা। এরপর একাধিকবার চেতনা ফিরে এলেও ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া পপগুরু ছিলেন বাকরুদ্ধ।

‘ঘড়ির কাটা থেমে গেছে। আমারও সময় বুঝি ফুরিয়ে এসেছে।’ লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার  আগের রাতে বড় মেয়ে ইমা খানের সঙ্গে এটাই ছিল পপগুরু আজম খানের শেষ কথা। পরদিন ২৭ মে সকালে অচেতন অবস্থায় পপগুরুকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতালে সিসিইউয়ের দেওয়াল ঘড়িটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজম খান মেয়েকে বলেছিলেন এই কথা। এরপর একাধিকবার চেতনা ফিরে এলেও ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া পপগুরু ছিলেন বাকরুদ্ধ।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৫ জুন রোববার বেলা ১২টায় বাবা আজম খানের মরদেহ দেখার পর ইমা খান কান্নায় ভেঙে পড়ে স্মরণ করলেন সেই কথা। সকাল ১০টা ২০মিনিটে আজম খানের মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা তার পরিবারকে জানানোর জন্য ইমা খানকেই প্রথম ফোন করেন।

আজম খানের দীর্ঘদিনে সহকর্মী ও বন্ধু আবদুল মতিন বাংলানিউজকে জানালেন, সিএমএইচের আইসিইউতে মৃত্যুর আগের রাতে অর্থাৎ ৪ জুন রাত সাড়ে আটটায় আজম খানের জ্ঞান ফিরে আসে। অন্যসময় জ্ঞান ফিরে আসার পর তিনি চরম অস্থীরতা প্রকাশ করলেও তখন ছিলেন বেশ শান্ত। এ সময় পপগুরু ইশারায় পানি খেতে চান এবং ইশারা-ইঙ্গিতেই ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর নেন। আজম খান পাকা পেপে খুব পছন্দ করতেন। তাই তাকে পাকা পেপে খাওয়ানো হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ছিল। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের কমানডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহবুবুল হক বাংলা নিউজকে জানান, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ০১ জুন রাত ১০টা ৩৫ মিনেটে পপসম্রাট আজম খানকে সিএমএইচের আইসিইউতে আনা হয়। তার চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছিল ৬ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। এই বোর্ডের প্রধান ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রবিউল, সমন্বয়ে ছিলেন কর্ণেল পাশা। স্কয়ার হাসপাতালে আজম খানকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল সিএমএইচে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। । ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহবুবুল হক আরো জানান, ৫ জুন রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় আজম খান ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আজম খান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টেই ছিলেন।

পপগুরুর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হরতাল উপেক্ষা করে শিল্পী-শুভানুধ্যায়ীরা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভিড় জমান। আইয়ুব বাচ্চু, কুমার চৌধুরী, তপন চৌধুরী, ফকির আলমগীর সহ আরো অনেক শিল্পীকে সিএমএইচের হিমাগারের সামনে অশ্রুসজল চোখে দীর্ঘসময় অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু বাংলানিউজকে নিজের মনের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, `এ মুহূর্তে আমাদের একটাই শুধু স্বান্তনা যে গুরুর প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমরা শেষ চেষ্টা করতে পেরেছি`।

আজম খানের মরদেহ ৬ জুন সকাল পর্যন্ত সিএমএইচের হিমাগারে থাকবে। সকাল ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পপগুরুর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে মরদেহ শিল্পীর কমলাপুরের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে কিছু সময়ের জন্য। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে জোহর নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে জানাজা। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে পপসম্রাটকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আজম খান তার বাম হাতে  হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন।  বিষয়টি জানান বন্ধু-সহযোগী মতিনকে। সব শুনে মতিন তাকে ডাক্তারের কাছে  যেতে পরামর্শ দেন। আজম খান তাকে জানান, হাতে ব্যথা এ জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কী আছে। এমনিতেই সেরে যাবে। আজম খান থেমে থাকলেও ব্যথা থেমে থাকেনি, ক্রমেই বাড়তে থাকে।  তাকে জোর করেই স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি ফিজিওথেরাপি নেওয়া শুরু করেন। ২২ মে রাতে হাতের ব্যথা সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে রাতে পপগুরু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৭ মে সকাল থেকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। ০১ জুন স্কয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যান প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আজম খানকে সিএমএইচে নেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের জুলাইয়ে আজম খানের মুখগহ্বর-জিহ্বার নিচে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সহকর্মী  শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৪ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।২০ জুলাই মাউন্ট এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টারে আজম খানের মুখে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। ৭ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা রেডিওথেরাপি নিতে সিঙ্গাপুর যান। তাকে মোট ৩০টি টমোথেরাপি (রেডিওথেরাপি) ও ৫টি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা থাকলেও ২১টি টমোথেরাপি (রেডিওথেরাপি) ও ১টি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর সুস্থ বোধ করায় অস্থীর হয়ে ২৭ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

রেডিওথেরাপির পূর্ণাঙ্গ কোর্স শেষ না করাই আজম খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মৃত্যুর কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।



বাংলাদেশ সময় ১৬৩০, জুন ০৫, ২০১১

আশুলিয়ায় হিটার মেশিন বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহত
ইন্টারের বিপক্ষে বিশ্রামে মেসি
গাজীপু‌রে ইয়াবাসহ আটক ২
মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থলে আসছেন নেতাকর্মীরা
৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির সামরিক বিমান ‘নিখোঁজ’


পটিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় হচ্ছে না বিএনপির র‌্যালি
রাজশাহীর ‘টিপু রাজাকারে’র রায় বুধবার
গাজীপুরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট
বাকলিয়ায় ওষুধের দোকানে আগুন