ঢাকা, শনিবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

‘ইউপি নির্বাচন-২০১১’

প্রতিটি উপজেলায় ২জন নির্বাহী ও ১জন করে বিচারিক হাকিম: ছহুল হোসাইন

নিয়াজ জামান সজীব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৪ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১১
প্রতিটি উপজেলায় ২জন নির্বাহী ও ১জন করে বিচারিক হাকিম: ছহুল হোসাইন

ঢাকা: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)। যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট থাকবে।

তাদেরকে সাহায্য করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ২ জন করে নির্বাহী হাকিম এবং ১ জন বিচারিক হাকিম  থাকবেন।

সোমবার দুপুরে শেরে-বাংলা নগরস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশনার মুহাম্মদ ছুহুল হোসাইন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত হাকিম প্রার্থীদের দ- দিতে পারবেন। এর উদাহরণ উপকূলীয় এলাকায় প্রথম দফা ভোট গ্রহণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা স্থাপন করেছিলেন। আমরা নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে দীর্ঘমেয়াদী বিচার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে যতদ্রুত সম্ভব স্পটেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার হাকিমদের দিয়ে দিয়েছি। প্রয়োজনে সামারি ট্রায়ালকে গুরত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রথম দফা ভোট গ্রহণের  সময়  উপকূলীয় অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার কাজ সম্পন্ন করে সুফল পাওয়া গেছে। এতে ১৩০ জনকে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের আগে ও পরে ৫ দিন নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী হাকিম এবং বিচারিক হাকিম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এরপর যেকোন ধরনের  সহিংসতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয নির্দেশনা এরইমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর দিন পর্যন্ত ৪ দিন বিচারিক ও ভোটের ৩ দিন আগে থেকে পরের দিন পর্যন্ত ৫ দিন নির্বাহী হাকিম সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট আইন- ২০০৯-এর আওতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং ওই আইনের তফসিলে বর্ণিত ইউপি আইন ২০০৯ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভোটের তিন দিন আগে থেকে পর দিন পর্যন্ত  মোট ৫ দিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপজেলাভিত্তিক দু’জন করে ৮২৮জন নির্বাহী হাকিম  দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অপরাধসমূহ আমলে নেওয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য ভোটের পরের দিন পর্যন্ত মোট ৪ দিন উপজেলাভিত্তিক একজন করে মোট ৪১৪ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনার ব্রি.জে.(অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী  এলাকাগুলোতে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে যাতে ভোটারদের  চলাচলের ক্ষেত্রে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে  ভারতীয় হাই কমিশনকে চিঠি দেবে ইসি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দেশের ৫৭ জেলার ৪শ ১৪টি উপজেলার ৩ হাজার ৮শ ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ্ইসি। পরে আরও ২১টি ইউপি তফসিলে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। নানা কারণে ৯টি ইউপি তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে ৩ হাজার ৮শ ২৫টি ইউপির নির্বাচন ৩১ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের ১২টি জেলার ৭২টি উপজেলার ৫শ ৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৫শ ৫৩টি ইউপির ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে কমিশন। মামলা, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা, নদী ভাঙ্গনের কারণে ইউপির সংযোজন-বিয়োজনের ফলে ৪১টি ইউপির নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।


বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘন্টা,২৩ মে,২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa