শেষ হল চট্টগ্রামে ১০ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসব

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বৃষ্টিতে ভিজে গেছে মঞ্চ। সামিয়ানার পর্দার কাপড় চুপসেপড়া ফোটা ফোটা পানিতে ভিজে যাচ্ছে চেয়ার। মেঝের কয়েকটিস্থানে জমে আছে পানি। অথচ এরই মধ্যে প্রায় শতাধিক দর্শক টিকেট কেটে মঞ্চের তিন দিকের সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে আছেন।

চট্টগ্রাম: বৃষ্টিতে ভিজে গেছে মঞ্চ। সামিয়ানার পর্দার কাপড় চুপসেপড়া ফোটা ফোটা পানিতে ভিজে যাচ্ছে চেয়ার। মেঝের কয়েকটিস্থানে জমে আছে পানি। অথচ এরই মধ্যে প্রায় শতাধিক দর্শক টিকেট কেটে মঞ্চের তিন দিকের সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে আছেন।
 
প্রতিদিন এ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই চট্টগ্রামে দশ দিন ধরে চলেছে যাত্রা উৎসব। এ উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী।

আবহমান গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম উপাদান যাত্রা শিল্প। কালের প্রবাহে সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে বিলুপ্তির পথে আজ এই শিল্প।

শিল্পের এই মাধ্যমে নিয়োজিত শিল্পীদের কদর নেই বললেও চলে। যে শিল্পীরা এখনো এই পেশার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের অনেকের নেই সচ্ছল জীবনযাপনের সামর্থ। সমাজের কেউ কেউ তাদের বাঁকা চোখে দেখে  ।

যাত্রা শিল্পীদের জন্য নেই কোন স্থায়ী মঞ্চ যেখান থেকে উঠে আসবে দেশ বরেণ্য শিল্পী। সৃষ্টি হবে কালজয়ী পালা । পাল্টাবে এই অভিনয় শিল্পীদের প্রতি মানুষের বাকা চোঁখে দেখার প্রবনতা।

গ্রীনরুমে অতি সাধারণ মানের মেককাপ ব্যবহার করে রাজা-উজিরের বৈচিত্রময় মালার ঝকমকে নবাবী পোশাক পড়ে শিল্পীরা তৈরী হচ্ছেন - দর্শকের সামনে নিজের অভিনয় সত্তাকে ফুটিয়ে তুলতে।

হিন্দু-মুসলিমের অসম প্রেম তার উপর রাজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সাধারণ প্রজার মেয়ের সম্পর্কের কারণে সমাজচ্যুত হওয়ার করুণ পরিণতি। আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঐক্য বর্ণ-বৈষিম্যহীন সমাজ গঠনে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবানের মধ্য দিয়ে পালাকার জিতের বসাক ও সুদর্শন চক্রবর্তীর নির্দেশনায়  কর্ণফুলি অপেরার প্রথম প্রযোজনা ‘বাগদত্তা’ মধ্য দিয়ে রোববার গভীর রাতে শেষ হয় যাত্রা উৎসব।

গত ১৩ মে ঢাকার লোক নাট্যগোষ্ঠীর পালা ‘গঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা’ মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হল এই উৎসব।

উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা: আফসারুল আমিন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রাদল লালদিঘী ময়দানে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে প্রতিদিন যাত্রাপালা প্রদর্শন করে।

রোববার রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাহীন এই শিল্প রক্ষা সম্ভব নয়। স্থায়ী যাত্রা মঞ্চ প্রতিষ্ঠায় শিল্পীদের জায়গা খোঁজার অনুরোধ করেন। যাতে অদূর ভবিষ্যতে সেখানে  আধুনিক যাত্রামঞ্চ স্থাপন করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রামের স্থায়ী  আধুনিক যাত্রামঞ্চ নির্মাণ ও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প মাধ্যমকে যাত্রা শিল্পীদের রক্ষায় সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় যাত্রা শিল্পী পরিষদের নব নির্বাচিত সভাপতি পংকজ বৈদ্য সুজন।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৪ ঘন্টা, মে ২৩, ২০১১

৭-১০ দিনের মধ্যে সব বিভাগে করোনা শনাক্ত পরীক্ষা
হোম কোয়ারেন্টিনের শর্ত ভঙ্গ: ২৫ প্রবাসীকে জরিমানা
করোনায় রোগী কমেছে চমেক হাসপাতালে, চব্বিশ ঘণ্টায় ভর্তি ১৪ জন
মুশফিক-লিটন অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে: তামিম
আইসোলেশনে থাকা শিশুটি সুস্থ হলেও বাড়ি ফিরতে পারছে না 


সব এসিল্যান্ডকে সতর্ক করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
গৃহবন্দি জীবনে অস্বস্তি, বাড়ছে পারিবারিক বন্ধনও
গাজীপুরে প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
বেগমগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার  
রাজশাহীর ৮ জেলায় ৭৩৫ জন হোম কোয়ারেন্টিনে