হাকিমপুরে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তন, নেপথ্যে ইউএনও

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দরপত্র ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০টি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

হিলি (দিনাজপুর): ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দরপত্র ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০টি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আর এ কাজে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তোফাজ্জল হোসেন।

নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কেটে ফেলা গাছগুলোর স্থানীয় মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। চলতি ১৫ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত গাছগুলো কাটা হয়।

এদিকে, এ অপকর্ম জায়েজ করতে কাটা গাছগুলোর কিছু খ- বিক্রির উদ্দেশ্যে লোক দেখানো দরপত্র আহ্বানের জন্য উপজেলা চত্বরে রাখা হলেও বেশির ভাগ গাছই রাতারাতি স্থানীয় একটি স-মিলে সরিয়ে ফেলা হয়।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হিলি-ঘোড়াঘাট রাস্তার দু-পাশে হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী-জালালপুর এলাকার কাঁঠাল, আকাশমণি. রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

ইউএনও তার অফিস পিয়ন বিশত চন্দ্র রায় ও হাকিমপুর শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ মোঃ শুভকে দ্বায়িত্ব দেন গাছগুলো কাটার জন্য। তারা স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও আলিফ ফার্নিচারের মালিক আজমলের মাধ্যমে গাছগুলো কাটেন।

বাংলানিউজের সংবাদদাতা ওই স-মিলে গিয়ে সরিয়ে ফেলা সরকারি কাটা গাছ দেখতে পান ।

এ সময় স-মিলের কর্মচারী খলিল বাংলানিউজকে জানান, ‘গাছগুলো হিলির কাঠ ব্যবসায়ী ও আলিফ ফার্নিচারের মালিক আজমল নিয়ে এসে এ স-মিল রেখে গেছেন।’

কাঠ ব্যাবসায়ী আজমলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ইউএনও সাহেবের লোক আমাকে যে গাছগুলো কাটার নির্দেশ দিয়েছেন আমি শুধু সে গাছগুলোই কেটেছি।’

এ প্রসঙ্গে হাকিমপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা আহসান হাবিব বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, হিলি-ঘেড়াঘাট রাস্তার কিছু গাছ কাটা হয়েছে।‘

তিনি বলেন, ‘বিনা টেন্ডারে গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। গাছ কাটতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হয়।’

হাকিমপুর পৌর মেয়র শাখাওয়াৎ হোসেন শিল্পী বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, আমার পৌর এলাকার মধ্যে রাস্তার ৩০টি গাছ কাটা হয়েছে। তবে কেন এবং কী নিয়মে গাছগুলো কাটা হলো তা আমাকে জানানো হয়নি।’

দরপত্র ছাড়াই সরকারি গাছকাটা প্রসঙ্গে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাকিমপুর শিশু নিকেতনের উন্নয়নের জন্য রাস্তা থেকে কিছু গাছ কাটা হয়েছে।’

সরকারি কাটা গাছ স-মিলে থাকা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে দু-একটি গাছ এদিক-ওদিকে চলে গেছে। তবে এ বিষয়টি আমি দেখবো।’

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে সরকারি গাছ কেটে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা মনে করেন, এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ লোপাট করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০১৭ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১১

মাগুরায় যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি তৈরিতে হচ্ছে সাগরলতা বনায়ন 
ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা সন্দেহে ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ 
নদী তীরের মাটি কাটায় সোয়া লাখ টাকা জরিমানা
ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করলো ‘সহযোগী’


উপোস থাকবে না রাস্তার কুকুরগুলোও
দেশের ৯ জেলায় ছড়িয়েছে করোনা সংক্রমণ 
না’গঞ্জের পুরাতন পালপাড়ায় অঘোষিত লকডাউন 
র‌্যাব সদস্য করোনা আক্রান্ত, টেকনাফে ১৫ বাড়ি-দোকান লকডাউন
তালিকা টাঙিয়ে হঠাৎ ১৮৯ পোশাক শ্রমিককে অব্যাহতি