উৎকণ্ঠায় নগরীর সাধারণ মানুষ

দশ বছর পর জুলাই থেকে চট্টগ্রামে বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দশ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগরীতে গৃহ ও ভূমি কর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাড়াচ্ছে সিটি করপোরেশন। বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স আগামী অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে। তবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশংকায় সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দিচ্ছে না।

চট্টগ্রাম: দশ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগরীতে গৃহ ও ভূমি কর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাড়াচ্ছে সিটি করপোরেশন। বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স আগামী অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে। তবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশংকায় সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দিচ্ছে না।

হোল্ডিং টেক্স বাড়ানো নিয়ে নগরীর বাড়ি ও ভূমির মালিক এবং ভাড়াটিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। ভাড়াটিয়ারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের ওপর আরেক দফা বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য ‘দি সিটি করপোরেশন ট্যাক্সেশন রুলস ১৯৮৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী বর্তমানে নগরীতে ভূমি ও স্থাপনা পুনর্মূল্যায়ন জরিপের কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

ওয়ান ইলেভেনের পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এম মনজুর আলম ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকার সময় তার সিদ্ধান্তে কর পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়। এ সময় প্রথম পর্যায়ে তিন দফায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ডে জরিপ সম্পন্ন করা হয়।

সে সময় সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কারাগার ছিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনর্মূল্যায়ন কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তও স্থগিত করা হয়।

নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান মেয়র এম মনজুর আলম আবারও পুনর্মূল্যায়ন কাজ শুরুর নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর গত জানুয়ারি মাসে ৮টি এবং গত এপ্রিল মাসে আরও ৮টিসহ মোট ১৬টি ওয়ার্ডে জরিপ সম্পন্ন হয়।

বাকি ১১টি ওয়ার্ডে রোববার থেকে শেষ পর্যায়ের পুনর্মূল্যায়ন জরিপ শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- পূর্ব ষোলশহর, পশ্চিম ষোলশহর, সরাইপাড়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দেওয়ানবাজার, রামপুর, উত্তর হালিশহর, পাঠানটুলী, পশ্চিম মাদারবাড়ি, মুনিরনগর ও উত্তর পতেঙ্গা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দীপক চক্রবর্ত্তী বাংলানিউজকে বলেন, ‘শেষ পর্যায়ের জরিপ কাজের জন্য ৮৪ জনকে মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের ১৫ দিনের মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, ভূমির তালিকা প্রস্তুত করে করপোরেশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘পুনর্মূল্যায়নের পর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়বে। জুলাই মাস থেকে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় শুরু হবে।’

সূত্র জানায়, এলাকাভিত্তিক ভূমি ও স্থাপনার বর্তমান বাজার দর হিসেব করে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এদিকে শেষ হওয়া পুনর্মূল্যায়ন তালিকা অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবনের মালিক শফর আলী বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করেন, ভূমিসহ তার ভবনের বাৎসরিক হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ৪০ হাজার টাকা। পুনর্মূল্যায়নের পর তার হোল্ডিং ট্যাক্স হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

শফর আলী বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। কিন্তু আকস্মিকভাবে একশ থেকে দু’শ শতাংশ পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো অমানবিক। আমরা তো আর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করতে পারব না। ভাড়াটিয়ারাই বা কোত্থেকে দেবেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের দু’বার নির্বাচিত এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘অতীতে কখনো দশ শতাংশের বেশি হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। এখন একবারে ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এলাকার সাধারণ লোকজন এসে আমাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন, তাদের কোনো জবাব দিতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে ১৯৯৫ সালে এবং ২০০১ সালে দু’দফায় নগরীতে হোল্ডিং টেক্স বাড়ানো হয়েছিল। এরপর গত দশ বছর নগরীতে আর কোনো হোল্ডিং টেক্স বাড়ানো হয়নি।

চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দীপক চক্রবর্ত্তী বাংলানিউজকে বলেন, ‘পাঁচ বছর পরপর ঘরবাড়ি, স্থাপনা পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন তালিকা প্রস্তুত করার বিষয়টি আইনেই আছে। আর পুনর্মূল্যায়নের পর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বাড়তি টাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কাজ করবে করপোরেশন।’

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) আঞ্চলিক সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, ‘বর্তমান মেয়র এম মনজুর আলমের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল কোনো ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হবে না। এক্ষেত্রে নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার ভঙ্গ করলেন। এক বছরে তিনি যেখানে সিটি করপোরেশনের সেবার মান বাড়াতে পারেননি, সেখানে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

এদিকে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে নগরীর ভাড়াটিয়া বাসিন্দাদের সংগঠন ‘নিয়ন্ত্রণহীন বাড়িভাড়া বিরোধী নাগরিক আন্দোলন’।

সংগঠনের অন্যতম সহযোগী সংগঠক শ্যামল ধর বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর পর বাড়িওয়ালারা অবশ্যই ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন। এমনিতেই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন, ভোগপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার কারণে নগরীতে জীবনযাত্রার মান অনেক বেড়ে গেছে। এর ওপর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম নগরীতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’


বাংলাদেশ সময় : ০১৩৭ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১১

চাঁদপুর লকডাউন
জন্মদিনে নিঃসঙ্গ জয়া, আবেগঘন বার্তা অভিষেক-শ্বেতার
বরিশালে অটোরিকশায় বাসদের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
খুনি মাজেদের ফাঁসি যেকোনো সময়
করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম দিল চায়না রেলওয়ে গ্রুপ


পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সদরদপ্তরের আহ্বান
করোনার কারণে বাংলাদেশ সফরে আসছে না অস্ট্রেলিয়া
রোববার থেকে ব্যাংক লেনদেন আড়াই ঘণ্টা
মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট ১৩ এপ্রিল
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধানকাটা শ্রমিকদের হাওরে যেতে বলেছে সরকার