php glass

এবারের বাজেটে সরকারের তিন চ্যালেঞ্জ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আগামী রোববার শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদে ২০১১-২০১২ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। বাজেট সরকারের এক বছরের অর্থনৈতিক কর্মপরিধি ও পরিকল্পনা। এটা হচ্ছে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের বাজেট। এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ৪৭ হাজার কোটি টাকা। আর রাজস্ব বাজেট এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা: আগামী রোববার শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদে ২০১১-২০১২ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। বাজেট সরকারের এক বছরের অর্থনৈতিক কর্মপরিধি ও পরিকল্পনা। এটা হচ্ছে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের বাজেট। এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ৪৭ হাজার কোটি টাকা। আর রাজস্ব বাজেট এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের এ বাজেটে জাতীয় আয় বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে।
 
আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের।

এবারের বাজেটে শিক্ষা, জ্বলানি ও বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
 
পাশাপাশি আগামী বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ৯ শতাংশ। চলতি বাজেটে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি বেড়ে ২০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

তবে এবারের বাজেটে সরকারি খাতে লক্ষাধিক নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আসন্ন বাজেটে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে মূল্যস্ফীতিকে। তিনি মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির বড় বাধা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই হবে আগামী বাজেটের মূল্য লক্ষ্য।’

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা ড. আকবর আলী খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকারের মধ্যে এখন তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে উন্নয়ন কাঠামো বৃদ্ধি করা। জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টি করা এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবারাহ বাড়ানো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে এগুলোর দিকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে এগুলোর প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়বে। বাড়বে দ্রব্যমূল্য। ফলে মধ্যবিত্তদের আয়-ব্যয়ের পার্থক্য বেড়ে যাবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হবে আগামী বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ।’

তিনি মনে করেন, মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকারের হাতে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকার যা করতে পারে তা হচ্ছে, খাদ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা।

বাজেট সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক, বিধবাসহ সব ধরনের বিদ্যমান ভাতা অব্যাহত রাখা হবে। তবে ভাতার পরিমাণ না বাড়িয়ে আওতা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে। তবে বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা।

খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মজুদ ক্ষমতা বাড়াতে আরও নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী বাজেটে ভ্যাট ও করের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কর নির্ধারণে বড় কোনো পরির্বতন আনা হয়নি।

এদিকে করের আওতা বাড়ানোর লক্ষে ৫ লাখ নতুন করদাতা শনাক্ত করার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ব্যক্তিশ্রেণীর আয়ের ক্ষেত্রে আরও ১৫ হাজার টাকা ছাড় দিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বার্ষিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব থাকছে। তবে ন্যূনতম আয়কর দুই হাজার টাকা বহাল থাকছে।

এছাড়া উপজেলা পর্যন্ত কর-জাল বিস্তৃত করার প্রস্তাব থাকছে।

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের পণ্য ও সেবার সব খাতে রেয়াতি সুবিধা তুলে দিয়ে ছোট-বড়সহ সব ব্যবসায়ীর জন্য সমহারে ভ্যাট দেওয়ার ঘোষণা থাকছে।
 
একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সঞ্চয়পত্র সুদের হার।

দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ শুল্ক হার ২৫ শতাংশ বহাল রাখা, একইসঙ্গে আমদানি করা সব প্রস্তুত পণ্যের ওপর বিদ্যমান আরোপিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি আরও এক বছর বহাল রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

নতুন বাজেটে সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় আয়কর সেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশে ১০০টি `ট্যাক্স পেয়ার সেন্টার` স্থাপনের ঘোষণা থাকছে। করদাতারা যেন অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা থাকছে।

আসন্ন বাজেটে রফতানিমুখী সব পোশাক খাতে উৎসে কর আরোপ হতে পারে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে বা এডিআর আইনের ঘোষণা থাকবে নতুন বাজেটে।

এনবিআরকে শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত করতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব থাকছে। ভ্যাট আইন আরও সহজ করতে নতুন আইনের ঘোষণাও দেওয়া হতে পারে বলে জানা য়ায়।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে এডিপি’র ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এডিপি কাটছাঁট করার পর সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। এডিপি থেকে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি আপত্তি জানালেও সরকার বলেছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা আশাবাদী।

বাংলাদেশ সময় : ১৭৫১ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০১১

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে সাহিত্যে বিষয়ক কর্মশালা
‘ভারতের প্রধান বিচারপতিকে মোদীর চিঠি লেখার খবর মিথ্যা’
মিরপুরে বাসের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু
দেশের সব নাগরিককে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা হবে
ফিলিস্তিনিদের আকুতি কী কানে যাচ্ছে মেসি-সুয়ারেসদের?


পশ্চিমাঞ্চল রেলের টেন্ডার নিয়ে সংঘর্ষে আহত রাসেলের মৃত্যু 
যাত্রাবাড়ীতে বাস কাড়লো শিশুর প্রাণ
ট্রেন দুর্ঘটনার দশ কারণ খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ফিড মিল লাইসেন্স অনলাইনে
লতা মঙ্গেশকরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি