php glass

‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা’

জোট সরকারের ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র খোঁজে সিআইডি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র চালান খালাসের বিষয়ে আগে থেকে অবগত থাকা তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডি। চাঞ্চল্যকর অস্ত্র চালান খালাসের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া রাঘব-বোয়ালরা জিজ্ঞাসাবাদ এবং জবানবন্দিতে বারবার এ ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র কথা বলেছেন।

চট্টগ্রাম: চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র চালান খালাসের বিষয়ে আগে থেকে অবগত থাকা তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডি। চাঞ্চল্যকর অস্ত্র চালান খালাসের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া রাঘব-বোয়ালরা জিজ্ঞাসাবাদ এবং জবানবন্দিতে বারবার এ ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র কথা বলেছেন।

এ মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি অস্ত্র চালানটি খালাসের জন্য বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র সঙ্গে জোট সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একাংশ এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা’র কয়েকজন কর্মকর্তার যে সমঝোতা হয়েছিল এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়া অস্ত্র চালান সংগ্রহ এবং খালাসে অর্থায়নের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ‘আগা রহমান ইউসুফ (এআরওয়াই)’ গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

প্রশ্ন উঠেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় চারদলীয় জোট সরকারের ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র ভূমিকা কি ছিল।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি এবং আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের এএসপি মো.মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে তাদেরকে অবশ্যই মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। তবে তদন্তে যেসব বিষয় আসেনি সেগুলো নিয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলা উচিৎ নয়।’

উল্লেখ্য, শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দশ ট্রাক অস্ত্র ও একুশে আগস্ট গ্রেনেডে হামলার মামলার সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

বিএনপি নেতার এ বক্তব্যের পর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালত অঙ্গনে আরও জোরেশোরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে ১৬৪ ধারায় ৪৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ জবানবন্দি দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার থাকা চোরাচালানী হাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের আগে উলফা কমান্ডার পরেশ বড়–য়া তাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়েছিলেন।

হাওয়া ভবনে পরেশ বড়–য়া দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করলেও সেই বৈঠক কার সঙ্গে হয়েছিল এ ব্যাপারে হাফিজুর রহমান কিছুই জানায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দশ ট্রাক অস্ত্র চালান খালাসের আগে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে কেন শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, এক্ষেত্রে তার নিজের কোন আগ্রহ ছিল কিনা, আলাদা একটি সরকারি দপ্তর থেকে নূরুল আলমকে কেন শিল্প মন্ত্রণালয়ে নিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছিল, অস্ত্র খালাসের দিন তাকে কেন সিইউএফএল রেস্ট হাউসে পাঠানো হয়েছিল, এতবড় ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কেন তদন্ত করল না, বাবর কার নির্দেশে বা কোন স্বার্থে মামলার তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছিলেন- এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সিআইডি।

সূত্র জানায়, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে এসব প্রশ্ন মতিউর রহমান নিজামীকে করা হলেও তিনি এড়িয়ে যান। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও বারবার ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’র দোহাই দেন।

তদন্তের সময় জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান চৌধুরী বীরবিক্রম এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ড. শোয়েব আহমেদও নিজামীকে উদ্ধৃত করে দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের বিষয়টি ‘জোট সরকারের ‘হাইয়েস্ট অথরিটির’ অবগত থাকার কথা বলেন। এছাড়া এ বিষয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে উদাসীনতারও অভিযোগ আনেন তারা।

সূত্র জানায়, উলফার সঙ্গে অস্ত্র খালাসের সহযোগিতায় জড়িতদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামী, লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, ডিজিএফআই’র তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার, একই সংস্থার সাবেক উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, এনএসআই’র সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেনসহ রাঘব বোয়ালদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।

জোট আমলে এদের মধ্যে কয়েকজনের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আদালতে জবানবন্দিতে ডিজিএফআই’র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমিও উল্লেখ করেছেন।

সূত্র জানায়, সিআইডি এসব কর্মকর্তার সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের বিষয়টি ব্যাপকভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ধনকুবেরের প্রতিষ্ঠান ‘এআরওয়াই’ গ্রুপের সঙ্গে সাবেক এনএসআই প্রধান আব্দুর রহিমের যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডি’র এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘নূরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হাইয়েস্ট অথরিটি কিংবা এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত ছিল তাদের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’
 
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১এপ্রিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র জেটিতে খালাসের সময় ধরা পড়ে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান।

এ ঘটনায় অস্ত্র আটক ও চোরাচালান আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ২০০৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
 
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা অধিকতর তদন্ত সম্প্রতি প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামালউদ্দিন আহমেদ।

তবে রোববার এ মামলা তদন্তের জন্য ১৪ দফায় আরও ৪৫ দিন সময় দিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির এএসপি মো.মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘আশা করছি এ সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করতে পারব। আর সময় নিতে হবেনা।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৫ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১১

সুবিধাজনক অবস্থানে রাজশাহী-খুলনা 
পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্স
কাউখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
সিলেটে মার্কেট-মোবাইল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড


হাবিবে মিল্লাতের সঙ্গে আইএফআরসির যুব চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ
দারুণ দিনে কোনালের কণ্ঠে রুনার গান
পেঁয়াজে নিম্নবিত্তের ভরসা টিসিবির ট্রাক সেলে 
খুলনায় চতুর্থ দিনে ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার কর আদায়
হৃদয়ের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে সিরিজ জিতল যুবারা