php glass

সুপেন অপহরণ ও হত্যা

মূল পরিকল্পনাকারী দূর সম্পর্কের চাচা, সম্পত্তি গ্রাস করাই ছিল উদ্দেশ্য

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

একমাত্র ছেলেকে হত্যার মাধ্যমে উত্তরাধিকার শূন্য করে সুপেনদের সম্পত্তি গ্রাস করাই ছিল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য পরিকল্পিতভাবে বান্দরবানে বেড়াতে পাঠিয়ে মেধাবী ছাত্র সুপেনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল তারই দূর সম্পর্কের চাচা সুনীল দাশ।

চট্টগ্রাম: একমাত্র ছেলেকে হত্যার মাধ্যমে উত্তরাধিকার শূন্য করে সুপেনদের সম্পত্তি গ্রাস করাই ছিল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য পরিকল্পিতভাবে বান্দরবানে বেড়াতে পাঠিয়ে মেধাবী ছাত্র সুপেনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল তারই দূর সম্পর্কের চাচা সুনীল দাশ।

ওই চাচাসহ সুপেনকে অপহরণ এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

সিএমপি’র ডবলমুরিং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত বাংলানিউজকে জানান, সুপেনকে হত্যার মিশনে অংশগ্রহন নেয় আট জন। আর হত্যার মূল পরিকল্পনা করেছিল সাতকানিয়ার ধর্মপুর ইউনিয়নের প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেবের ছেলে মিজান ও সুপেনের চাচা সুনীল। সুপেনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি হত্যা করা ছিল তাদের উদ্দেশে। এজন্য ইসলামসহ অন্যদের ভাড়া করে সুনীল ও মিজান।  

রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে পুলিশের উপস্থিতিতে সুপেন হত্যার বিবরণ দেয় দুই সহোদর আসামি মাহমুদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম।

সুপেনকে হত্যা ও অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে মাহমুদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, চাচা সুনীল দাশ সুপেনকে হত্যার জন্য তিন মাস ধরে তাকে প্ররোচিত করছিল। সুপেনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা আদায় করে এর মধ্যে দুই লাখ টাকা তাদেরকে দেওয়ার লোভ দেখিয়েছিল সুনীল।

আর এই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে শ্যালক সোহেলের মাধ্যমে সুপেনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল ইসলাম। কয়েক মাস আগে চাচার প্রতিষ্ঠানের স্টাফ সোহেলের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় সুপেনের। আর তাই সরল বিশ্বাসে মা’র কথা না শুনে গত ৮ মে রোববার বান্দরবানে বেড়াতে চলে যায় সুপেন।

গত তিন দিনের অভিযানের পর শনিবার বিকেলে বান্দরবানের কানাপাড়ার নাগাঝিরি’র কয়েকশ’ ফুট নীচের খাদ থেকে  সুপেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার মুক্তিপণ নিতে আসা মাহমুদল  ও পরে বান্দরবান থেকে তার ভাই নজরুলকে আটকের পর তারা সুপেনকে হত্যার কথা স্বীকার করলে তাদের নিয়ে টানা অভিযান চালিয়ে  লাশ উদ্ধার করতে  সক্ষম হয় পুলিশ।

আসামি মাহমুদুল বাংলানিউজকে জানায়, একটি হাইয়েস গাড়িতে রাতে তারা বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সঙ্গে ছিল বান্দরবান সদরের  রাজমিস্ত্রীর মাঝি সাগর ও সেলিম। গাড়িতে তাদের তুলে দিয়েছিল সুনীল ও মিজান। রাতে সাগরদের বাড়িতে রাত কাটায় তারা।

হত্যার বর্ণনা দিয়ে দুই ভাই ইসলাম  ও নজরুল জানায়,  সোমবার সারা দিন শহর ঘুরে রাত ১০টার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বান্দরবানে সদর থানার নাগাঝিরি পাহাড়ের উপরে নিয়ে সুপেনকে হত্যা করে তারা।

সেখানে পাহাড়ের ভেতরে নেওয়ার পর সুপেনের মাথায় গাছের ডাল দিয়ে বাড়ি মারে সাগর। এরপর সেলিম মুখে শার্ট গুজে দেয়, পা  চেপে ধরে নজরুল। এসময় সুপেনের প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সাগর, সেলিম, ইসলাম ও নজরুল। হত্যার পরে তাকে টেনে ঝিরির নীচে ফেলে দেওয়া হয়। এসময় বরিশালের দুই ছেলেও তাদের সঙ্গে ছিল।

হত্যার পর সুনীল এবং মিজানের কথামতো সুপেন বেঁচে আছে বলে তার পরিবারের কাছ থেকে  ইসলাম এক লাখ টাকা দাবী করে বলে সাংবাদিকদের জানায়।

তবে চাচা সুনীল ভাতিজাকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

সুনীল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ১২ মে বৃহস্পতিবার সুপেনের মা পাপিয়া সেন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তাকে খোঁজ নিতে বললে তিনিসহ অন্যরা ইসলামকে খুঁজে বের করেন ।

এদিকে ইসলাম দাবি করছে সুনীল দাশ সুপেনের বাবাকেও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তাকে বলেছে।  

সুপেনের মা সাংবাদিকদের জানান, স্বামী সুনীল কুমার দাশের মৃত্যুর পর গ্রামের সম্পত্তি নিয়ে তিনি তেমন মাথা ঘামাতেন না। দূরসম্পর্কের  দেবর সুনীল দাশের সঙ্গে অন্যদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও তিনি জানান। কিন্তু দেবর তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের মুখ থেকে এ খবর পেয়ে তিনি হতবিহবল হয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে টাইগার পাসের রেললাইন থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সুপেনের বাবা সুনীল কুমার  দাসের লাশ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখনকার রেলওয়ে পুলিশ সুপার এটিকে অপমৃত্যু বলে উল্লেখ করায় কোনো মামলা হয়নি।

ডবলমুরিং থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বাংলািনউজকে জানান, সুপেন হত্যার  পেছনে পারিবারিক বা অভ্যন্তরীণ আর কোনো বিষয় আছে কিনা সেটা তদন্ত করবে পুলিশ। সুপেনকে হত্যার অপর পরিকল্পনাকারী মিজানকে গ্রেপ্তার করা হলে এই খুনের পেছনে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা বের হয়ে আসবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপমের লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে ভলুয়ারদীঘি শশ্মানঘাটে সৎকার করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫০ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১১

বিএবি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খা‌লেদার অবমাননা মামলার অ‌ভি‌যোগ গঠন শুনা‌নি ৪ ডিসেম্বর
মহেশপুরে অস্ত্রসহ ডাকাত আটক
ডিএসইর সূচক বাড়লেও কমেছে সিএসইতে
মাঠে সতীর্থকে মেরে বড় শাস্তির অপেক্ষায় শাহাদাত


দীপন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর
নতুন বিয়ে, জরুরি ঘর আর অফিস ব্যালেন্স 
বন্দুকযুদ্ধে ‘আইজ্জা ডাকাত’ নিহত
‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে, কিন্তু রাতারাতি সম্ভব নয়’
২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনলেন সিসিক মেয়র