চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে স্বাচিপের ‘ডক্টরস হোম প্রজেক্ট’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী সহ ১৩ জন চিকিৎসক নগরীর খুলশীতে পাহাড় কেটে ‘ডক্টরস হোম প্রজেক্ট’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প বানাচ্ছিলেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী সহ ১৩ জন চিকিৎসক নগরীর খুলশীতে পাহাড় কেটে ‘ডক্টরস হোম প্রজেক্ট’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প বানাচ্ছিলেন।

পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতরা সবাই আওয়ামীলীগপন্থি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা। পাহাড় কাটার দায়ে মঙ্গলবার এই ১৩জন  স্বাচিপ নেতা পরিবেশ অধিদপ্তরে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়েছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী ১৩ জন চিকিৎসক ও এক চিকিৎসকের স্ত্রী’র কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের সত্যতা বাংলানিউজের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

মুনীর চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘সেলিম আকতার চৌধুরী সহ প্রকল্পের মালিকরা সবাই সরকারি-বেসরকারী চিকিৎসক। এদের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া কেটে ফেলা পাহাড়ের মাটি ভরাট করে পাহাড়টিকে আগের উচ্চতায় ফিরিয়ে আনারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এর আগে সোমবার নগরীর পশ্চিম খুলশীতে লেকভিউ আবাসিক এলাকায় ‘ডক্টরস হোম প্রজেক্ট’ নামে ওই আবাসন প্রকল্পে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।  

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ১৩ চিকিৎসক হলেন ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী, ডা.মো.শরীফ, ডা.আকবর হোসেন, ডা.আব্দুর রহিম, ডা.আবু তাহের, ডা.নাসিম ভূঁইয়া, ডা.মো.হোসাইন, ডা. মো.মাইনুদ্দিন আহমেদ, ডা.আব্দুল মোমেন, ডা.ওবায়দুল্লাহ, ডা.বিধান রায় চৌধুরী, ডা.প্রকাশ কুমার বড়–য়া ও ডা.ইয়াসমিন সুলতানা। এছাড়া আবাসন প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে আছেন সেলিম আকতারের স্ত্রী জেবুন্নেসা চৌধুরীও।

উল্লেখ্য, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামাতা। জেবুন্নেছা চৌধুরী সাবেক মেয়রের মেয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অভিযানের পর সাবেক মেয়রের নগরীর চশমাহিলের বাসভবনে নোটিশ পাঠায় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিভাগের মহাপরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা ও স্বাচিপ নেতা মুনীর চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে জরিমানা দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে ডা.সেলিম আকতার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পে স্ত্রী ও তার অংশিদারিত্ব থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

সেলিম আকতার বাংলানিউজকে বলেন, ‘পাহাড় তো আমি একা কাটিনি, আমার সঙ্গে তো অনেকেই আছেন। আর প্রকল্প তৈরির বিষয়টিও আমি দেখাশোনা করি না। অন্য একজন চিকিৎসক দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ তো অনেক আগেই শুরু করেছি, এতদিন পর কেন এটা নিয়ে কথা উঠল!’

ডা.সেলিম চশমাহিলের ঠিকানায় কোন ধরনের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত. ডা.সেলিম আকতার সস্ত্রীক চশমাহিলের সাবেক মেয়রের বাসভবনে বসবাস করেন।

সোমবার কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি এ প্রকল্পে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ সহ কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা না দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ঘণ্টা, ৩মে, ২০১১

Nagad
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ
ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে
পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩


রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়
সিলেটে করোনার নমুনা জট নেই
খুলনার সাবেক এমপি নুরুল হকের অবস্থা সংকটাপন্ন