বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক দল রাখার বিপক্ষে বুদ্ধিজীবীরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মর্মবাণীর সঙ্গে এই তিনটি বিষয় সাংঘর্ষিক বলে মত দেন তারা।

ঢাকা: সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মর্মবাণীর সঙ্গে এই তিনটি বিষয় সাংঘর্ষিক বলে মত দেন তারা।

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তারা এ অবস্থানের কথা জানান।
 
একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা প্রয়োজন আছে বলেও তারা মনে করেন।

এছাড়া সংসদ সদস্যদের ভোট দান অধিকার সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার ব্যাপারে আরও আলোচনা করার আছে বলে মনে করছেন তারা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবিধান সংশোধনে ২৬ বুদ্ধিজীবী মত নিতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বৈঠক শুরু করে। তা চলে বেলা পৌনে দু’টা পর্যন্ত।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মীয় রাজনীতি সংবিধানে থাকতে পারে না। আমরা কমিটির কাছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা বলেছি মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আজ মিশ্র প্রস্তাব এসেছে। অনেকে বলছেন এই ব্যবস্থার দরকার নেই। অনেকে বলেছেন দুই মেয়াদের পর এই বিধান উঠয়ে দেওয়া উচিত। তবে এক্ষত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ।’

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচন পদ্ধতি বলতে যা আছে তাতে জালিয়াতি হয়। এতে সঠিকভাবে জনমত প্রতিফলিত হয় না। এজন্য কী ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত। রাষ্ট্রপতি যদি প্রধানমন্ত্রীর কোনো সুপারিশে একমত না হন তবে তা পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদে পাঠানোর বিধান রাখার প্রস্তাব করেছি’।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বড় দুইটিসহ সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে কোনো লাভ হবে না।’

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কার্যকরী সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘বৈঠকে আমরা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেছি। আমরা বলেছি সংবিধানে বিসমিল্লাহ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল রেখে দলটি জাতির পিতার সঙ্গে প্রতারণা করছে।’

নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে বলেছে জানান তিনি।

কবি সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭২-র সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বাদ রেখে যদি নিজেকে মুসলমান প্রমাণ করতে পারেন তবে এখন কিসের সমস্যা। জিয়া ও এরশাদ যে মতলবী কাজ করেছে এখন সেটা করারতো দরকার নেই।’

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোট দানের ক্ষেত্রে বাজেট সংক্রান্ত এবং অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি বাদ রেখে বাকি বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবার দরকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার বিধান যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নাগরিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক অধিকার সংবিধানে উল্লেখ রাখা প্রয়োজন। এবিষয়টি নিয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান আরো নমনীয় করা দরকার বলে আমরা জানিয়েছি।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানে জাতির জনক ও ঘোষকের নাম যুক্ত করা উচিত নয়। এবিষয়টি যাতে না থাকে সেজন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমি বলেছি, এমন কোনো বিধান রাখা যাবে না যাতে পরবর্তী সরকার এসে তা পরিবর্তন করতে পারে।’

এছাড়া সংবিধান সংশোধনে দুই-তুতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সমর্থনের স্থলে তিন-চতুর্থাংশ রাখার প্রস্তাব করেছেন বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক সংবিধান সংশোধনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রস্তাব সমর্থন করেছেন বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান।

এছাড়া তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ৭ মার্চের ভাষণকে সংবিধানে যুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সংবিধানকে ’৭২ এর চেতনায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’

এরপর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন,‘ওই অনুচ্ছেদে লেখা আছে- কোনো নাগরিকের প্রতি অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না।’

ওই অনুচ্ছেদে তিনি শাস্তির বিধান সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
 
বৈঠকে আমন্ত্রিত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-  জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম মুসা, সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, কবি সৈয়দ শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার কবির, সাবেক উপদেষ্টা এসএম শাজাহান, সাবেক উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার পত্রিকার সম্পাদকদের মতামত নেবে কমিটি।

যেসব পত্রিকার সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেগুলো হলো- কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, দৈনিক ইত্তেফাক, ইনকিলাব, দিনকাল, নয়াদিগন্ত, আমারদেশ, মানবজমিন, আমাদের সময়, জনকণ্ঠ , প্রথমআলো, যুগান্তর, সমকাল, খবর, ডেইলি স্টার, নিউ নেশন, নিউ এজ, ইনডিপেন্ডেন্ট, যায়যায়দিন, সংবাদ, ডেসটিনি, ভোরের কাগজ ও নিউজ টুডে।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে। ২৫ এপ্রিল প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় কমিটি। কিন্তু বিএনপি ওই বৈঠকে অংশ নেয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, মে ০৩, ২০১১

Nagad
সিলেট বিভাগে চার চিকিৎসকসহ আরও ১০৫ জন করোনা আক্রান্ত
১৮৬ যাত্রী নিয়ে দুবাই পৌঁছালো বিমান
সাহেদকে ধরতে মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযান
মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি সাতক্ষীরার বাকীর মৃত্যু
ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ


মালদ্বীপে বিক্ষোভের সময় ৩৯ বাংলাদেশি আটক
করোনা পরিস্থিতি ‘খারাপ থেকে আরও খারাপের’ দিকে যেতে পারে: হু
বগুড়ায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন
মুজিব শতবর্ষ ঘিরে ১০০ নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোঙর’র
চালককে মারধরের পর অটোরিকশা ছিনতাই