php glass

লালন ভক্তদের চুল-গোঁফ কর্তনকারী ১৩ জনের নামে মামলা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে লালনভক্ত ২৮ বাউলকে তওবা পড়িয়ে মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দেওয়ার ঘটনায় রোববার পাংশা থানায় স্থানীয় ইমাম ও মুসুল্লিসহ ১৩  জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে লালনভক্ত ২৮ বাউলকে তওবা পড়িয়ে মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দেওয়ার ঘটনায় রোববার পাংশা থানায় স্থানীয় ইমাম ও মুসুল্লিসহ ১৩  জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আসামিদের অধিকাংশই চরমোনাই পীরের অনুসারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

পাংশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুন্সী মোফাজ্জেল হোসেন বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইউসুফ ক্বারি, করিম বাজারি, ইনদার শেখ, জয়নাল শেখ, আব্দুল মালেক, রিয়াজ সিকদার, ইনসান ফারাজী, নজরুল ক্বারি, মুক্তার শেখ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম ফেলা ক্বারি, মোশারফ মোল্লা, নুরু খাঁ ও শহিদুল খাঁ।

এদের সকলের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাড়া বেলগাছী ও চর রামনগর গ্রামে।

হাবাসপুর ইউপির চররামনগর গ্রামের লালন ভক্ত প্রবীণ বাউল মোহম্মদ ফকিরের অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলা রুজু করা হয়।

এদিকে রাজবাড়ী পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসী ও ঘটনার শিকার বাউলদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাজবাড়ীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে জানান, এলাকাবাসী ও ঘটনার শিকার বাউলদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
 
রোববার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ও দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ী জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, কালেরকণ্ঠ শুভসংঘ, টিআইবি, অরণি সাংস্কৃতিক সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, লালন বাউল সংগীত একাডেমি, মঙ্গনাট, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠন প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পথ সভা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করেছে।

এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ্বাস, জেলা উদীচীর সভাপতি ডা. সুনিল কুমার বিশ্বাস, জেলা ওয়ার্কার্স পাটির সম্পাদক জ্যোতি শংকর ঝন্টু, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আবুল কালাম, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক, জেলা লালন বাউল সংগীত একাডেমির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন মমিন ও ঘটনার শিকার লালন সংগীত শিল্পী মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ঘটনার শিকার বাউল শিল্পী আলাউদ্দিন ফকির বাংলানিউজকে জানান, ‘এ ঘটনার সাথে জড়িতরা শুধু আমাদের চুল ও গোঁফ কেটেই ক্ষান্ত হননি, তারা আমাদের চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তারা অধিকাংশই চরমোনাই পীরের অনুসারী।’

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল পাংশার হাবাসপুর ইউপির চররামনগর গ্রামে লালন ভক্ত প্রবীন বাউল মোহাম্মদ ফকিরের বাড়ীতে সাধুসংঘের ২দিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ষাটোর্দ্ধ ২৮ জন লালন ভক্ত সেখানে আসেন। ৫ এপ্রিল সমাপনী দিনে তারা ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নিজেদের কৃষ্টি অনুযায়ী গান গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা সেখানে যান এবং লালন ভক্তদের পাশের মসজিদে ধরে নিয়ে গিয়ে তওবা পড়ানোসহ জোর করে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল ও গোঁফ-দাড়ি কেটে দেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ১০, ২০১১

ksrm
আখাউড়ায় রেলস্টেশনের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
হাইকোর্টে এনামুল বাছিরের জামিন আবেদন
প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
ব্যক্তিগত অস্ত্র অন্যের নিরাপত্তায় ব্যবহার নিষিদ্ধ
স্মিথের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন কোহলি, এগিয়েছেন সাকিব


তিনদিনের সফরে কাতার যাচ্ছেন সেনাপ্রধান
বগুড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
দিল মনোয়ারা মনুর মৃত্যুতে আর্টিকেল নাইনটিনের শোক
নাম করা হাউসের শর্মা এবার ঘরেই হবে 
পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে ফের অভিযান: ডিসি