php glass

জিডিপির ৩৭ শতাংশই কালো টাকা

২০০৯-১০ অর্থবছরে ২১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি : টিআইবি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

২০০৯-১০ অর্থ বছরে বাংলাদেশে কর ফাঁকি বা আত্মসাতের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংগৃহীত রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ এবং জাতীয় আয়ের প্রায় ২.৮ শতাংশ।

ঢাকা: ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বাংলাদেশে কর ফাঁকি বা আত্মসাতের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংগৃহীত রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ এবং জাতীয় আয়ের প্রায় ২.৮ শতাংশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ‘অদৃশ্য অর্থনীতি’ বা কালো টাকার পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৩৭ শতাংশ।

কর ফাঁকির ওই অর্থ সংগ্রহ করতে পারলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ ৩৪ শতাংশ বাড়তো।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

টিআইবির পক্ষে এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম জাকির হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ও আত্মসাৎ করা হয়েছে নানা উপায়ে। এর মধ্যে প্রকৃত আয় ও বেতন গোপন করা, আত্মীয়-স্বজনের নামে আর্থিক কর্মকা- চালানো, করযোগ্য আয় গোপন, ধার কর সম্পদ কেনা, বেতনের অংশ বিশেষ করমুক্ত রাখা ইত্যাদি।

এতে আরও বলা হয়, মূসক প্রদানের সময় উৎকোচ না দেওয়ায় ৫৮.১ শতাংশ করদাতাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

টিআইবি বলেছে, বাংলাদেশে পরোক্ষ করের পরিমাণ ৭২ শতাংশ। এ করের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষকে কষ্ট পেতে হয়। প্রতিবেশী যেকেনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই হার অনেক বেশি। বিপরীতে প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ মাত্র ২৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে টিআইবির পক্ষে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। সুপারিশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কীভাবে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ তুলে ধরা হয়। এনবিআরকে ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দেওয়া, চেয়ারম্যানকে কমপক্ষে তিনটি বাজেটের জন্য নিয়োগ, জনবল বাড়ানো, প্রশিক্ষণ প্রদান, কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন, তাদের সম্পদের হিসাব রাখা।

বলা হয়, ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহ ১০ গুণ বাড়লেও এর জনবল বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে গড়ে একজন পরিদর্শককে ১০ হাজার নথি এবং একজন উপকমিশনারকে ১৫ হাজার ফাইল পরীক্ষা করতে হয়।  

প্রতিবেদনে টিআইবির খানাজরিপ ২০১০ এর উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রায় ৪১.৫ শতাংশ আয়কর প্রদানকারীকে উৎকোচ দিতে হয়।

টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান ও ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘মাছ পানিতে থেকে পানি খায় না, মৌমাছি মধু খায় না। এটা ঠিক নয়। পানিতে থেকে মাছ পানি খায় না সেটাও ঠিক নয়। তাই এনবিআরের কর্মকর্তারা সরকারের টাকা খায় না এটা ঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনবিআরকে কার্যকর করতে এর মানবসম্পদ বাড়াতে হবে। তবে শুধু জনবল বাড়ালেই হবে না। যোগ্য লোক নিয়োগ নিতে হবে। বাংলা ও ইংরেজিতে ভালো করে রাজস্ব বিভাগে চাকরি করবেন, হিসাব বুঝবেন না, সেটা হয় না।’

মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এনবিআরকে কার্যকর করতে করণীয় অনেক। এর ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে হবে। সঙ্গে তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।’

টিআবির প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত ক্রটি তুলে ধরে বলেন, ‘তারপরও এই প্রতিবেদন থেকে এনবিআরকে বিশ্লেষণ করতে হবে। সংশোধন হতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সদস্য ফরিদ উদ্দিন, সাবেক সচিব আব্দুল লতিফ ম-ল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তারা অনেকে নিজেদের হয়রানির কথা তুলে ধরেন।  

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিআইবি এ গবেষণা চালায়। গবেষণায় মোট ৭১৩ কর প্রদানকারীকে নমুনা হিসেবে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭০ জন আয়কর প্রদানকারী, ৩১৮ জন মূসক প্রদানকারী ও ১৩৫ শুল্ক প্রদানকারী ।

বাংলাদেশ সময় : ১২৫৯ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০১১

ksrm
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্যকে দুদকের নোটিশ
জোট থেকে জামায়াত বাদ দেয়া হবে অদূরদর্শিতা: এহসানুল হুদা
মহিমাগঞ্জ ইউপি উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী
হাঁস-গবাদিপশু ছাড়াই চলছে যুব কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ
বাতি অকেজো, হাতের ইশারায় চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থা


পর্যটন বিকাশে বিদেশে মেলা, আসছে নতুন নীতিমালা
উৎপাদনের আগেই বাজারজাত কেক!
বরিশালে দুই হোটেলকে জরিমানা
মোড়ক পরিবর্তন করে বাজারে সরিষার তেল, জেল-জরিমানা
বরিশালে কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের হালখাতা