php glass

দিরাইয়ের উজানধলে ১১ ও ১২ মার্চ শাহ্ আব্দুল করিম লোক উৎসব

‘বেটা, তুমি শ্রেষ্ঠ শিল্পী হবে একদিন!’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তার গণসঙ্গীত শুনে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী আশীর্বাদ করেছিলেন, ‘বেটা, তুমি শ্রেষ্ঠ শিল্পী হবে একদিন!’

সুনামগঞ্জ: ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তার গণসঙ্গীত শুনে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী আশীর্বাদ করেছিলেন, ‘বেটা, তুমি শ্রেষ্ঠ শিল্পী হবে একদিন!’

ভাসানীর সেই আশির্বাণী ফলেছে অরে অরে। জীবনের বেলাভূমিতে বাউল আব্দুল করিম তার গানের ভেলায় চড়ে দেশ-বিদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় ঠাঁই নিয়েছেন।   

জাগতিক উচ্চাশা, লোভ-লালসার প্রতি নির্মোহ এই খ্যাতিমান বাউলকে ভক্তজনরা ‘কলিকালের অবতার’ বলে মানতেন। চুক্তিবদ্ধ হয়ে কোনও অনুষ্ঠানে তিনি গান করতেন না। মন-পসন্দ যেসব অনুষ্ঠানে তিনি গাইতেন, সেখান থেকে সম্মানী হিসেবে যা পেতেন তার সিংহভাগই বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষকে। জন্মাবার পর যেমন তার তেমন কোনও সম্পদ ছিল না, মৃত্যুকালেও তার।

কিংবদন্তির এই বাউলসম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের গ্রামের বাড়ি উজানধলে প্রতি বছর শাহ্ আব্দুল করিম লোক উৎসবের আয়োজন করা হয় ২ ও ৩ মার্চ। ২০০৬ সালে প্রথম বারের মতো প্রচলন হয় এই লোক উৎসবের। প্রতিবছর বাউল উৎসবের সময়ে সঙ্গীত পিপাসু লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এই উৎসবে অংশ নিতে দেশ-বিদেশ থেকে তার ভক্ত-অনুরাগী, শিল্পী-কলাকুশলী  ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা ছুটে আসেন। ২০০৬ সালের ২ মার্চ বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পায়রা উড়িয়ে শাহ্ আব্দুল করিম লোক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথমবারের ওই উৎসবে অংশ নেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, প্রখ্যাত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান মরহুম কবি মমিনুল মউজদীন প্রমূখ। এ বছর নানা কারণে আয়োজকরা লোক উৎসবটি পিছিয়ে ১১ ও ১২মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ভাটি বাংলার হাওরাঞ্চলের এককালীন রাখাল বালক শাহ্ আব্দুল করিম এখন আর নেই। একজন সাধক, বাউল হিসেবে বাংলার হাওর জনপদে তার বিচরণ চল্লিশের দশক থেকে। গায়ের মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে তিনি গান রচনা করেছেন। সে গানে সুর সংযোজন করে দর্শক-শ্রোতাকে বিমোহিত করেছেন। উত্তর প্রজন্মের কন্ঠে করিমের মারফতি, মুর্শিদী, দেহতত্ত্ব, বিরহ-বিচ্ছেদ এবং গণসঙ্গীত সফল তালে ধ্বনিত হচ্ছে সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ সারা দেশের সীমানা পেরিয়ে আসাম-ত্রিপুরা-লন্ডন-প্যারিস-নিউ ইয়র্কসহ সমগ্র বিশ্বে।


জন্মস্থান

বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন ধলআশ্রম গ্রামে। সম্ভবত ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কৃষিমজুর ইব্রাহিম আলীর ঔরসে তার জন্ম। মাতার নাম নাইওরজান বিবি। তার আদি নিবাস ধলআশ্রম হলেও ১৯৫৭সাল থেকে ধলআশ্রমের পাশ্ববর্তী পাড়া উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দিনমজুর ইব্রাহিম আলীর ৬ সন্তানের মধ্যে করিমই হচ্ছেন একমাত্র ছেলে। শাহ্ আব্দুল করিমের পিতা ইব্রাহিম আলী ১০৩ বছর বয়সে ১৯৮৪ সালে মারা যান। ৮০ বছর বয়সে ১৯৮৮সালে মৃত্যুবরণ করেন মা নাইওরজান বিবি। আত্মপরিচয় বর্ণনা করে রচিত শাহ শাহ্ আব্দুল করিমের এই গানে পরিচয় পাওয়া যাবে তিনি কতটা সাদাসিধা আর নির্মোহ মাটির মানুষ ছিলেন:
 
কেউ বলে শাহ্ আব্দুল করিম কেউ বলে পাগল
যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝি না আসল-নকল।
জন্ম আমার সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমায়
বসত করি দিরাই থানায় গ্রামের নাম হয় ধল।
ধল একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম দূর দূরান্তে আছে নাম
এই গ্রামেতে জন্ম নিলাম নাই কোনো সম্বল।
স্কুল-মাদ্রাদি শিক্ষা-দীক্ষায় আছে বিধি
মধ্যে বহে কাল্নী নদী তাতে কালো জল।
কাল্নী নদীর উত্তর পাড়ে আছি এক কুঁড়ে ঘরে
পোস্ট অফিস হয় ধলবাজারে ইউনিয়ন তাড়ল।
পিতার নাম ইব্রাহিম আলী সোজা সরল আল্লার অলি
মা নাইওরজান...

অভাব অনটনে বেড়ে ওঠা গানের মানুষ, প্রাণের মানুষ করিম কিশোর বয়সে দু’টাকা মাসিক বেতনে গরুর রাখালের কাজ নেন গ্রামের এক গৃহস্থ ঘরে। এসময়টায় দূর সম্পর্কীয় দাদা নছিব উল্লার গানে মন উদাস হয়ে হয়ে যেতো তার। নছিব উল্লা একতারা বাজিয়ে প্রায়ই সুর ধরতেন-

‘ও মন ভাবিয়া দেখরে মনে
মাটির সারিন্দা তোর বাজায় কোন্ জনে’

এ গানটি করিমের কিশোর মনকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। মাঠে গরু ্চরানোর সময় তার কন্ঠেও জেগে ওঠে সেই সুর। তিনি রাখালের কাজ করে কাটিয়েছেন কৈশোর-যৌবনকাল। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অরজ্ঞান ছিল না করিমের। ১৫ বছর বয়সে ভর্তি হন গ্রামেরই একটি নৈশ বিদ্যালয়ে। ৮দিন চালু থাকার পর বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয় থেকে পাওয়া বর্ণমালার বইটি বগলে নিয়ে মাঠে যেতেন গরু চড়াতে। অরজ্ঞান সম্পন্ন কাউকে দেখলেই বইটি মেলে জানতে চাইতেন বইয়ে থাকা অরগুলোর নাম। গরু থামানোর কঞ্চি দিয়ে মাটিতে লিখতেন অ-আ-ক-খ।

২০০৮সালের ৩১আগস্ট রোববার দুপুরে দিরাইয়ের উজানধলের নিজ বাড়িতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে বাউল করিম ভাঙা গলায় অতীতের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘অর শেখার পর থেকে গাজীর গান, বাউলা গান, ঘাটু গান ও সারী গান গাইতাম আমরা। অনেকে মিইল্যা নৌকা বাইছ করতাম। নৌকায় বইয়া গাইতাম:

কোন মেস্তরি নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়
ঝিলমিল্ ঝিলমিল্ করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও।’

একুশে পদকে ভূষিত বাউল করিম নেত্রকোনার উকিল মুন্সীসহ ভাটি অঞ্চলের অন্যান্য বাউলরা নবীর জীবনী, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ইত্যাদি গেয়ে আনন্দের ঢেউ তুলতেন বিভিন্ন আসরে।

গান গাইতে গাইতে গান রচনায়ও মনোনিবেশ করেন তিনি। তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে, বাউলা, মুর্শিদী, জারী, সারী, ভাটিয়ালী, ধামাইল প্রভৃতি। গান রচনা করেছেন প্রায় দেড় হাজার। প্রকাশিত গানের বই হচ্ছে, আপ্তাব সংগীত, গণসংগীত, কাল্নীর ঢেউ, ধল মেলা, ভাটির চিঠি ও কাল্নীর কুলে।

আব্দুল করিম একজন বাউল হিসেবে শুধু দেহতত্ত্ব, মুর্শিদী ও মারফতি গানই রচনা করেননি, চারণ কবি হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখ অভাব অভিযোগ যেমন তেমনি  অত্যাচার ও শোষন-নির্যাতনও সার্থকভাবে উঠে এসেছে তার গানে।
 
১৯৫৪’র নির্বাচন, ৫৭’র ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন, ৬৯’র গণঅন্দোলন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র গণঅভূত্থানে তিনি স্বরচিত গণসঙ্গীত পরিবেশন করে গণমানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছেন। যুক্তফ্রন্টের সময় আব্দুস সামাদ আজাদের (বর্তমানে মরহুম) সঙ্গে বিভিন্ন সমাবেশে গান গেয়েছেন। দুর্ভিরে সময় জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উপস্থিতিতে সিলেট সমাবেশে করিম গেয়ে ওঠেন:

‘এবারের দুর্দশার কথা
কইতে মনে লাগে ব্যথা।’

মুক্তিযুদ্ধর সময় পথে পথে ঘুরে গান গেয়ে গণজাগরণ সৃষ্টিতে বাউল-কবিদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনহীনতা করিমকে পীড়িত করেছিল। তিনি গেয়েছেন: ‘রক্ত দিয়ে স্বাধীন হলেম তবু দুর্দশা কেন যায় না/ শোষিতের সুখশান্তি শোষক কভু চায় না।’

দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় সঙ্গীত পরিবেশ করে হাজার হাজার জনতাকে মাতিয়ে রাখতেন এই বাউল।
 
২০ বছর বয়সে আপ্তাব সঙ্গীত নামে প্রথম বই ছাপা হয় তার। এখন আর ওই বইটির কোনো হদিস নেই। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৬টি।

লন্ডন সফর

ভক্তদের আমন্ত্রণে শাহ্ আব্দুল করিম ৩বার লন্ডন ভ্রমণ করেন। ১৯৬৪ ও ১৯৮৫ সালে ইস্টার্ন ফিল্ম কাবের আমন্ত্রণে ছুটে যান লন্ডনে। বাউলা গান গেয়ে তন্ময় করে দেন প্রবাসী দর্শক-শ্রোতাদের। সেখানে উপার্জিত টাকা দিয়ে দেশে এসে সামান্য কিছু ধানী জমি কেনেন তিনি। পরে আবার ওই জমি বিক্রি করেই তার গানের বই ‘কালনীর ঢেউ’ ছাপার খরচ মেটান। কারণ আব্দুল করিমের বই ছাপার মত আগ্রহ তখন কারও ছিল না।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে পুত্র শাহ নূরজালালকে নিয়ে লন্ডন যান তিনি। বৃদ্ধ বয়সে দীর্ঘ ভ্রমণ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লন্ডনের রয়াল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

পদক ও সম্মাননা

অসংখ্য পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন প্রথিতযশা এই বাউল। ২০০১সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শাহ আব্দুল করিমকে একুশে পদকে ভূষিত করে। রাকিব-রাবেয়া সাহিত্য পদক (২০০০), মেরিল-প্রথমআলো আজীবন সম্মাননা (২০০৪), সিলেট রোটারি কাব সম্মাননা (১৯৯৫), উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সংবর্ধনা স্মারক, অহনা পর্ষদ শ্রদ্ধাঞ্জলী (১৯৯৭), অভিমত পদক (২০০৬), সূর্যসেনা যুবসংঘ পদক, আইডিয়া পদক (২০০২), প্লেব্যাক অ্যাওয়ার্ড (২০০৩), মৌলভীবাজার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট (২০০১), ফুলজুড়ি (২০০১), আব্দুর চৌধুরী স্মৃতি পদক (২০০১), দিরাই টাউন কাব সম্মাননা (২০০২), আল-বীর সম্মাননা (২০০৬), বাউলা সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সংস্থা সম্মাননা (২০০৬), শতদল শিশুকিশোর সংগঠন সম্মাননা, মান্দারুকা সম্মাননা (২০০৬), পল্লী বাংলা মিউজিক্যাল গ্রুপ সম্মাননা (২০০৪), দর্পণ ত্রিয়েটার সম্মাননা (১৯৯৭), দিরাই সমিতি সম্মাননা (২০০১), নিউইয়র্ক হাছন রাজা লোকোৎসব সম্মাননা (২০০৫), নূপুর সঙ্গীতালয় সংবর্ধনা (২০০৭), দিরাই উপজেলা সম্মাননা (২০০৪) ও সিলেটস্থ বৃহত্তর সুনামগঞ্জ যুব সমিতি গুণীজন সংবর্ধনা (২০০২)।

এছাড়া সুরমা রোটারি কাব, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড আজীবন সম্মাননা, কুলঞ্জ সম্মাননা, ভারতীয় পথনাট্য সংঘ সম্মাননা, সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননাসহ  আরও অনেক সম্মাননা ও পদক পেয়েছেন তিনি।

সংবর্ধনা গ্রন্থ

বাউলসম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘শাহ্ আব্দুল করিম সংবর্ধনাগ্রন্থ’। সুমন কুমার দাশ সম্পাদিত এই গ্রন্থে দেশ-বিদেশের ৩২জন লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে আছেন- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, দিলওয়ার, আনোয়ার চৌধুরী, মুস্তাফা জামান আব্বাসী, ড. তপোধীর ভট্টাচার্য্য, ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী, নন্দলাল শর্মা, শামসুল করিম কয়েছ, তুষার কর, মহিউদ্দিন শীরু, দীপক চৌধুরী, শোভেন্দু ইমাম, ড. আবুল ফতেহ ফাত্তা, ড. তপন বাগচী, ইকবাল কাগজী, আল-আজাদ, সুবাস উদ্দিন, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, সাইমন জাকারিয়া, আহমদ মিনহাজ, মুস্তাক আহমাদ দীন, উজ্জ্বল মেহেদী, টিএম আহমেদ কায়সার, অনুরূপ আইচ, শাহ নূর জালাল, হাবিব, আবিদ ফায়সাল, সঞ্জয় নাথ সঞ্জু, উজ্জ্বল দাস ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাউল আব্দুল করিমের মতে তার প্রতিভার বিকাশের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন তার মুর্শিদ মৌলাবক্স, স্ত্রী সরলা এবং সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক প্রসারতা। মুর্শিদ তাকে দোয়া করেছেন। মরহুমা স্ত্রী সরলা বেগম তাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন অভিভাবকের মতো। তার জীবনে সরলা না এলে এমন বিরল খ্যাতি বোধ হয় আসতো না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সুনামগঞ্জে প্রবহমান কালনীর ঢেউ তাকে আলোড়িত করেছে সারাটা জীবন। জাগতিক আশা-আকাক্সা, লোভ-লালসার প্রতি নির্মোহ করিম নদীর সঙ্গে জীবনের স্বরূপ অন্বেষণ করেছেন বাউলের উদার মন দিয়ে।

ভক্তজনের ‘কলিকালের অবতার’ অসামান্য সাধক আব্দুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের একটি কিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন উজানধল গ্রামে নিজ বাড়িতে সহধর্মিনী সরলার কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৯ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১১

ksrm
দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার-১৯ পেলেন ড. মনোয়ার হোসেন
মানিকগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, সেবাবঞ্চিত রোগীরা
প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেখানে পড়াশোনা 
উলিপুরে নছিমনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু, আহত ৩
ময়লার স্তূপে নবজাতকের মরদেহ, হঠাৎ উধাও!


সবাই থাকতেও ‘সম্বল’ শুধু লাঠি
‘হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ’
দুই পিলারেই শেষ ব্রিজের সব টাকা!
থানায় ডেকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে: সত্যতা মিলেছে তদন্তে
মেহেরপুরে ফেনসিডিলসহ আটক ২