php glass

ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়া গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন গোপালগঞ্জের ফরিদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়া গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন গোপালগঞ্জের হতভাগ্য যুবক ফরিদ খলিফা (২০)।

গোপালগঞ্জ: ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়া গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন গোপালগঞ্জের হতভাগ্য যুবক ফরিদ খলিফা (২০)।

দালালকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি গ্রামের নুরুল হক খলিফার ছেলে ফরিদ খলিফা পাড়ি জমান লিবিয়ায়। সেখানে যাওয়ার পর একটি কে অনাহারি রেখে তাকে আটক রাখা হয়। দিনের পর দিন চালানো হয় নির্যাতন। দুই মাস আগে কৌশলে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে ফরিদ একটি কোরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে লিবিয়ায় শুরু হয় সরকারবিরোধী বিদ্রোহ। এ পরিস্থিতিতে ওই কোম্পানির প থেকে শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠাতে জাহাজে তোলা হয়। জাহাজটি গ্রিস পৌঁছানোর পর জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা যান ফরিদ।
 
বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদের লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছুলে গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। ফরিদের মা সুফিয়া খাতুন ও বাবা নুরুল হক খলিফা প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

এদিন দুপুর ১২টায় বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে ফরিদের লাশ রাগদী গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফরিদের বড়ভাই মকবুল হোসেন (৩২) বলেন,  আদম পাচারের দালাল জাকির হোসেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ১ বছর ঘোরানোর পর ফ্রি ভিসার নামে ১ মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা দিয়ে প্রতারণা করে গত ২০১০ সালের ২৯ জানুয়ারি  লিবিয়া পাঠায়। সেখানে তাকে একটি ঘরে অটক করে রেখে খেতে না দিয়ে নির্যাতন করা হতো। দুই মাস আগে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে ফরিদ একটি কোরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের চাকরি শুরু করে। পেটের খাবার জোগাড় করতে পারলেও সে বাড়িতে কোনো টাকা পাঠাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘টাকাও গেলো, ভাইকেও হারালাম। সব হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব।’

মকবুল হোসেন জানান, জাকির কাজ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে নিয়ে ডোমরাকান্দিসহ আশপাশের ৫ গ্রামের অন্তত ৫০ যুবককে ট্যুরিস্ট ভিসায় লিবিয়া পাঠিয়ে প্রতারণা করেছে। তাদের অবস্থা এখন শোচনীয়।

ফরিদের সহকর্মী লিবিয়া প্রবাসী শাহাবুদ্দিন (২২) বাংলানিউজকে বলেন, ‘দালালরা সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের লিবিয়া নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়। তারপর পুলিশ ও স্থানীয়রা আমাদের অত্যাচার-নির্যাতন করে। দিন কাটে মানবেতর।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। কোরীয় কোম্পানি আমাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে দিতে ৩ মার্চ ত্রিপোলি বন্দর থেকে জাহাজে তোলে। শনিবার রাত ২টায় জাহাজ গ্রিস পৌঁছুলে ৪৯ জন জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। এদের মধ্যে ৩৫ জনকে জীবিত ও ৩ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। অপর ১১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আমাদের মতো অনেকেই এখনো লিবিয়া রয়ে গেছে।’

লিবিয়ায় অতিকষ্টে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানা শাহাবুদ্দিন।

বাংলাদেশ সময়: ২০২২ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১১

ksrm
সুনামগঞ্জে ধোপাজান নদীতে ৪ টি ড্রেজার পুড়িয়েছে প্রশাসন
বনানীতে ওয়ান ম্যান ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড
সাংবাদিক বহিষ্কারে আর্টিকেল নাইনটিনের নিন্দা
খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত নারীর মৃত্যু
ছন্দবিশারদ প্রবোধচন্দ্র সেনের প্রয়াণ


রমনায় সাবেক যুগ্ম সচিব এর মরদেহ উদ্ধার
শাহজালালে ৬০ লাখ টাকার স্বর্ণ আটক
আবেদীন টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে রাজউকের কমিটি
সে সাংবাদিক না, কেনো ছবি তুললো: মিন্নির বাবা
যুবলীগ নেতা খালেদ ডিবি হেফাজতে