php glass

মিশর-তিউনিসিয়া সীমান্তে সীমাহীন দুর্ভোগে বাংলাদেশিরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

মিশর-তিউনিসিয়া সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশিরা সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। একদিকে প্রচণ্ড শীত, এর ওপর চলছে দফায় দফায় বৃষ্টি। পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও মরুঝড়ে (সাইমুম) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের জীবন।

ঢাকা: মিশর-তিউনিসিয়া সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশিরা সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। একদিকে প্রচণ্ড শীত, এর ওপর চলছে দফায় দফায় বৃষ্টি। পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও মরুঝড়ে (সাইমুম) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের জীবন।

সেখানে প্রায় আট হাজার বাংলাদেশি গত দু’সপ্তাহ ধরে নিরেট খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। এখন রোগ বালাই হয়েছে তাদের নিত্যসঙ্গী। মুঠোফোনে প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা জানা গেছে তাদের দুর্ভোগের ভয়াবহ অবস্থা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, রেডক্রিসেন্টের চিকিৎসা সহায়তা অসুস্থদের খুব একটা কাজে লাগছে না। একইভাবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর দেওয়া খাদ্য সহায়তাও নিয়মিত বাংলাদেশিদের ভাগ্যে জুটছে না।

পাশ্ববর্তী আফ্রিকান দেশগুলোর নাগরিকেরা যারা বাংলাদেশিদের মতো সেখানে অবস্থান করছেন তারা বাংলাদেশিদের  তাঁবুগুলোতে হানা দিচ্ছে। তারা লুটে নিচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী, খাবার, ওষুধপথ্য ও মূল্যবান জিনিসপত্র।

উদ্বাস্তু শিবিরের আদলে খোলা আকাশের নিচে বেশ কিছু তাবু টানিয়ে ২০/২২ হাজার লোক অবস্থান করছেন সেখানে। বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও ভারত, ঘানা, সুদান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে রয়েছেন। সেসব দেশের সরকারি উদ্যোগে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অবিরাম। কেবল সেখান থেকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত বিশেষ কোনো ব্যবস্থা জুটছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী লোকজন।
 
তিউনিসিয়ার সীমান্তে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অবস্থান নেওয়া সাজ্জাদুল ইসলাম (ময়মনসিংহ), মনজুর আহমেদ (নরসিংদী), বুলবুল আহমেদ ভুলু (রাজবাড়ী), সাদেক মিয়াসহ (শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ) কয়েকজন বাংলাদেশি জানান, তারা লিবিয়ার ত্রিপোলীর কেন্দ্রস্থল আলমারকুজ এলাকায় বসবাস করতেন। ৪/৫ বছর ধরে অবস্থানকালে বেশ সহায়-সম্পদ গড়ে তুলেন, ছিল নানা ব্যবহার সামগ্রি। বাড়িতে পাঠানোর জন্য কয়েকজনের ওয়ারড্রোব ও আলমিরায় লাখ লাখ টাকাও রক্ষিত ছিল।

২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের উপর যেন আরেকটি কালোরাত্রি নেমে আসে। সে রাতে লিবিয় দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশিদের বসতি স্থানে হামলা চালায়, লুটে নেয় সবকিছু। দায়ের কোপ, ছড়রা গুলি, লাঠির আঘাত সহ্য করেও কোনোমতে তারা ঘর ছেড়ে আধার রাতেই রাস্তায় নেমে পড়েন। টানা তিন রাত দুই দিন পায়ে হেঁটে তবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি কাফেলা তিউনেসিয়া সীমান্তে পৌঁছুতে সক্ষম হয়।

কুমিল্লার বাসিন্দা ফিরোজ আলম জানান, তিউনেসিয়া সীমান্ত রেখার কাছাকাছি পৌঁছেও নিস্তার ছিল না পলায়নপর বাংলাদেশিদের। সেখানেও আরেকবার লিবিয় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন সর্বস্বহারা মানুষগুলো। ওই হয়রানি, জিম্মি রাখা, মেরে ফেলার নানা কসরৎ চালানোর বর্ণনা দিতে গিয়ে রীতিমত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আরেক বাংলাদেশি আব্দুল্লাহ ইয়াদ ওরফে ইয়াদউল্লাহ (৪৮)। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার চৌমুহনী বাজার এলাকায়।

ত্রিপোলীতে ৭ বছর ধরে চাকরি সূত্রে অবস্থানকারী মোতালিব আলী (৪২)। তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন সহায় সম্পদ। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তার বাড়ি। সব ফেলে শুধু জীবন হাতে নিয়ে তিউনেসিয়া সীমান্তে পৌঁছতে পেরে তবু খুশি তিনি। গত তিন দিনে তার ভাগ্যে মাত্র চারটি মোটা রুটি জুটেছে, পানি পেয়েছে বড়জোর ২লিটার। তারপরও প্রাণটা বেঁচে আছে-সে খুশিতে রীতিমত কেঁদে ফেলেন  মোতালিব আলী।

মোতালিব আলী বুধবার রাতে (আইওএম) সেন্টারের মুঠোফোন (নম্বর-০০২১৬৫৫৮২৭৬৮৭) থেকে সেখানকার নানা বেহাল পরিস্থিতির কথা বাংলানিউজকে জানান। তিনি বলেন, ‘২/৪ দিনের অনাহারে তো মারা যাবো না-কংকালসার দেহটা নিয়েও বাড়িতে ফিরতে পারলে অনেক খুশি হবো।’

তিউনিসিয়া সীমান্তের সাহেতুরা মহল্লায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নূরানি হক বাবু তার সহকর্মি-প্রবাসী বন্ধুদের কাছে ফ্যাশন বাবু হিসেবেই বেশি পরিচিত। একটি দোকানের বিক্রয়কর্মি পদে চাকরি করলেও বাবু ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিজের শার্ট-প্যান্ট পোশাক পাল্টে ধোপদুরস্ত থাকতেন। সেই ফ্যাশন বাবু গত ১৬ দিন ধরে এক পোশাকেই পড়ে আছেন শরনার্থী শিবিরে-মরুভূমির বালু রাশির মেঝেতে। একখণ্ড পলিথিন বিছিয়ে আরও ১০/১২ জন বাংলাদেশিসহ একত্রে শুয়ে বসে রাত দিন কাটাচ্ছেন।

ফ্যাশন বাবু বলেন, বৃষ্টির কারণে মেঝেতে বিছানো পলিথিনটা ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করায় খালি বালুর মধ্যেই বসে থাকতে হচ্ছে। এক পোশাক থাকায় ময়লা জামা-কাপড়ের দুর্গন্ধে নিজেই যেন টিকতে পারছি না-অন্যরা যে কিভাবে আমার সঙ্গে থাকছেন তা বুঝা মুশকিল। তিনি বলেন, দুই দিনে বড়জোর আড়াই-তিন লিটার পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়- সেখানে গোসল করা দূরের কথা ; হাত-মুখ ধোয়ার মতো পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময় : ১৮০৯ ঘন্টা, মার্চ ১০, ২০১১

ksrm
নিখোঁজের দিনই মেরে ফেলা হয় স্কুলছাত্র আশরাফুলকে 
জনসাধারণকে সচেতন করতে গিয়ে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
রাজবাড়ীতে রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহের পদাবলী মঞ্চস্থ
মিলান ডার্বিতে জিতলো ইন্টার মিলান
রোনালদোর নৈপুণ্যে জিতলো জুভেন্টাস


আবৃত্তিও এক ভাষা আন্দোলন: মুনমুন মুখার্জী
গ্রানাদার কাছে বার্সার পরাজয়
ঘুরে দাঁড়াতে চায় ‘নড়বড়ে’ সিলেট বিএনপি
সিলেট চেম্বার নির্বাচনে দুই প্যানেলেই জয় জয়কার
জাতীয় নারী দাবায় তৃতীয় রাউন্ড শেষে শীর্ষে ৬ জন