সন্তানের কাছে ফেরা হলো না এক মমতাময়ী মায়ের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: ইন্টারনেট

walton

সন্তানের কাছে ফেরা হয়নি মমতাময়ী মায়ের। দুই সন্তানের জন্য দু’মুঠো খাবার জোটাতে গিয়ে জীবন হারালেন তিনি। সোমবার নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় করুণ মৃত্যু হয় তার।

ঢাকা: সন্তানের কাছে ফেরা হয়নি মমতাময়ী মায়ের। দুই সন্তানের জন্য দু’মুঠো খাবার জোটাতে গিয়ে জীবন হারালেন তিনি। সোমবার নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় করুণ মৃত্যু হয় তার।

মমতাময়ী এ মায়ের নাম বেগম (৫০), স্বামী মৃত কালু গাজী, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উত্তর চাষাঢ়া (চানমারী) এলাকায় তার বাড়ি।

সংসার চালানোর আর কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার সকালে বেগম তারই ছোট বোনের বাসা মুগদাপাড়ার দিকে রওনা দেন। ট্রেনের যাত্রী ছিলেন তিনি। পাগলার নন্দলালপুর এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর ‘অজ্ঞাত লাশ’ হিসেবে তার ঠাঁয় মেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার ভাতিজা মিলন মিয়া বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মর্গে পৌঁছে বিকেল ৪ টার দিকে ফুফু বেগমকে শনাক্ত করেন।

স্বামী কালু গাজী মৃত্যুর পর দুটি নাবালক ছেলে নিয়ে সীমাহীন বিপাকে পড়েন বেগম। ভাই-বোন-স্বজনদের সহায়তায় খুবই কষ্টে জীবন চললেও ছেলেদের লেখাপড়া করানোর ব্যাপারে খুবই আগ্রহ ছিল তার। এর জন্য আশপাশের বাসা-বাড়িতে চুপিচুপি ফুট-ফরমায়েশ খেটেও প্রতি মাসে কিছু অর্থ জোটাতেন বেগম। তা দিয়ে ছেলে দুটির বই-খাতা, বাড়তি আবদার পূরণের চেষ্টা করতেন তিনি।

নিশ্চিত আয়ের কোনো পথ না থাকায় প্রতিমাসেই তার দুই ভাই ও এক বোনের কাছে ছুটে যেতে হতো বেগমকে।

বেগমের চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে মায়া আক্তার (৩০) ও মেঝো মেয়ে শিউলিকে (২৫) কয়েক বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে শামীম (১১) ও সালমানকে (৯) নিয়েই ছিল বেগমের সংসার। শামীম স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র, সালমান পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে। মায়ের অবর্তমানে দুই শিশু সন্তানের জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিহত বেগমের ভাতিজা মিলন মিয়া বলেন, ‘দুদিন আগেই ফুফুর বাজার সওদা শেষ-এরপর খুবই কষ্ট শুরু হয়। মাস শেষ না হওয়ায় ভাই বোনদের কাছেও যেতে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু সন্তানদের উপোস প্রায় অবস্থা আর তার সহ্য হয়নি। বাধ্য হয়েই সোমবার সকালে বেগম রওনা দেন ছোট বোনের মুগদাপাড়া বাসার উদ্দেশে।’

বেগম তার বড় ছেলে শামীমকে বলেছিলেন, যেভাবেই হোক কিছু টাকা আর বাজার সওদা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। কিন্তু মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বেগমের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে, বাজার সওদা নিয়ে সন্তানদের কাছে আর ফেরা হয়নি তার।

ময়না তদন্তের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার রাতেই বেগমের মৃতদেহ নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  
বাংলাদেশ সময় : ১৯২২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১১

Nagad
সাহেদকে ধরতে মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযান
মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি সাতক্ষীরার বাকীর মৃত্যু
ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ
মালদ্বীপে বিক্ষোভের সময় ৩৯ বাংলাদেশি আটক
করোনা পরিস্থিতি ‘খারাপ থেকে আরও খারাপের’ দিকে যেতে পারে: হু


বগুড়ায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন
মুজিব শতবর্ষ ঘিরে ১০০ নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোঙর’র
চালককে মারধরের পর অটোরিকশা ছিনতাই
আর্যবিশপ মজেস কস্তার মৃত্যুতে নওফেলের শোক
স্বল্প পরিসরে বেচাকেনা হচ্ছে, স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা