ঢাকা, শনিবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৪ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে আদিবাসী নারী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

মিলন ত্রিপুরা, জেলা প্রতিনিধি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১১

খাগড়াছড়ি: সম্প্রতি বন্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ত্রিপুরা আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতি, দুর্বার নেটওয়ার্ক খাগড়াছড়ি, জেলা কারবারি অ্যাসোসিয়েশন, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন।       

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে সংগঠনগুলো রোববার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসকাবের সামনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধন শেষে প্রেসকাব হল রুমে একটি সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনগুলোর নেতারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনিস-উল-হক ভূঁইয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ।

বক্তারা আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে, বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, সম্পাদক সুশীল জীবন ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক বিবিস্যুৎ ত্রিপুরা, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, উইমেন্স রিসোর্স নেটওয়ার্ক সহ-সভাপতি লালসা চাকমা, দুর্বার নেটওয়ার্ক-এর প্রতিনিধি রেলি চাকমা, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) সহ-সভানেত্রী নমিতা চাকমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের জেলা সভাপতি সুনেন্দা মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি বিপুল চাকমা, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধন ত্রিপুরা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও আদিবাসী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। তবে বিগত কয়েক বছরে ত্রিপুরা আদিবাসী নারীদের ওপরে আশঙ্কাজনকভাবে যৌন নির্যাতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, গত ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহালছড়ি উপজেলার সিন্ধুকছড়িতে, ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর মাটিরাঙ্গার ওয়াসুতে এবং এবছরের ২৬ জানুয়ারিতে মাটিরাঙ্গার পোড়াবাড়িতে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের শিলেঝিরিতে নির্মমভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ত্রিপুরা নারীরা।  

মাটিরাঙ্গার পোড়াবাড়ির ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ওই এলাকার দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার আসামি বাবুল মিয়া ও সুরুজ মিয়াকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই আসামিদের গ্রেপ্তার করবো।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa