php glass

বুড়িগঙ্গা তীরে অসমিয়া রোগ, শুদ্ধ বাতাসকে ভয় দুর্গন্ধমাখা জীবনের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দুষিত পানির উৎকট গন্ধ সখ্য গড়েছে বুড়িগঙ্গার বুকে নৌযান বেয়ে জীবিকা নির্বাহকারী মাঝি-মাল্লা-সারেঙদের সঙ্গে। দুর্গন্ধভরা বাতাসে প্রতিনিয়ত নিঃশ্বাস নিয়ে জীবনযাপন করছেন তীরের মানুষরাও। তবে দুর্গন্ধেরও রকমফের থাকে।

ঢাকা: দুষিত পানির উৎকট গন্ধ সখ্য গড়েছে বুড়িগঙ্গার বুকে নৌযান বেয়ে জীবিকা নির্বাহকারী মাঝি-মাল্লা-সারেঙদের সঙ্গে। দুর্গন্ধভরা বাতাসে প্রতিনিয়ত নিঃশ্বাস নিয়ে জীবনযাপন করছেন তীরের মানুষরাও। তবে দুর্গন্ধেরও রকমফের থাকে।

আহসান মঞ্জিলের আশপাশে বুড়িগঙ্গা থেকে ভেসে আসা গন্ধও যেন চাপা পড়ে যায় ফল পচা দুর্গন্ধে। আর ওই গন্ধের সঙ্গেই এখন দারুন দোস্তি স্থানীয় অধিবাসীদের। এই গন্ধের মধ্যেই সুস্থ থাকেন তারা। দুর্গন্ধে ভারি বাতাসে দিব্যি চলে নাওয়া-খাওয়া-নিশ্বাস। কোথাও যেনো এতোটুকু অসঙ্গতি নেই। দুর্গন্ধই যেন জীবনের অপরিহার্য উপদান হয়ে উঠেছে।

শুদ্ধ বাতাসেই বরং তৈরি হয় নানা শরীরি হ্যাপা। দেখা দেয় শ্বাস কষ্ট আর চর্মরোগসহ নানা রোগের উপসর্গ।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দুর্গন্ধের ওপর মানুষের এই নির্ভরতা তৈরি হওয়াটা আসলে এক রকমের মনোদৈহিক রোগ। অসমিয়া এর নাম। এতে মানুষের সাধারণ ঘ্রাণশক্তি লোপ পায়। কোনো সুনির্দিষ্ট ঘ্রাণ থেকে খুব বেশি সময় বিচ্ছিন্ন থাকলে দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক উপসর্গ।

এছাড়া এক ধরনের মানসিক বৈকল্যও তৈরি হয়। মেজাজ হয়ে পড়ে খিটমিটে। অপরাধপ্রবণতা বাসা বাঁধে মনে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিয়মিত দুর্গন্ধময় পরিবেশে থাকতে থাকতে সেটি মানুষের চিন্তাÑভাবনাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে।

বুড়িগঙ্গা তীরে বসবাসকারী কাগজ কুড়ানি শিশুদের মধ্যে এর ব্যপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এই আশঙ্কার সত্যতা পাওয়া গেলো বুড়িগঙ্গা তীরের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে।

ওয়াইজ ঘাট সংলগ্ন রাস্তায় ময়লা নিষ্কাশন ড্রেন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ভীষণ। ড্রেন থেকে তোলা ময়লার স্তুপ শুকিয়ে আছে রাস্তার ওপর। তাতে ভন ভন করছে মাছি। সেই স্তুপের ওপরই বেঞ্চি পেতে বসে আছেন টং দোকানের খরিদ্দাররা। তাদের সামনের ফুটপাতে চা দোকান। এমন দৃশ্য আহসান মঞ্জিল সংলগ্ন বীনা স্মৃতি ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত।

আহসান মঞ্জিল আর বুড়িগঙ্গার মধ্যবর্তী রাস্তায় আড়তের উচ্ছিষ্ট সবজি, গৃহস্থালী আবর্জনা আর ধূলা-ময়লা মিলে বিতিকিচ্ছিরি পরিবেশ।

পাশেই কাঁচা ও পাকা ফলের আড়ৎ এলাকায় নাকে হাত না চাপলে হাঁটাই দায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো-এ পরিবেশেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তারা। বরং অস্বস্তি হয় এখান থেকে অন্য কোথাও গেলে। দুর্গন্ধহীন স্বাভাবিক পরিবেশ যেন সহ্যই হতে চায় না।

ফলের আড়তদার মাইনুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা এখানে এক ধরনের গন্ধের ভেতর থাকতে থাকতে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে অন্য কোথাও গেলে অসস্তিবোধ হয়।’

ওয়াইজ ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো- এখানকার পথশিশুরা চুরি-ছিনতাই, ইভ টিজিংএর মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এরা এখানকার নিয়মিত স্থায়ী বাসিন্দা। কাগজ কুড়িয়ে এনে নিজ নিজ ঝুপড়িতে গাদা করে রেখে এখানেই রাত্রিযাপন করে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগের কথা বলছে সংশ্লিষ্ট সকল মহল। এখানকার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারী উদ্যোগে সংস্কারমূলক কার্যকলাপের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যকলাপ চালানোও জরুরি বলে মনে করছেন সবাই।

বেসরকারি সংগঠন গ্রিন কাব অব বাংলাদেশের (জিসিবি) সভাপতি নূরুর রহমান সেলিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকারিভাবে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার ও মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ না নিলে এখানকার পরিবেশের উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৪ ঘণ্টা,  ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১১
এমআরএন/জেডএম

 

একই কারখানায় ২ বছরে তিন বার আগুন
সু চির অস্বীকার: রোহিঙ্গারা বললেন ‘মিথ্যুক’
সোলায়মানের পদত্যাগ নিয়ে জামায়াতে তোলপাড়
রাজশাহীর মধ্য শহর থেকে বাস টার্মিনাল সরবে আগামী বছর
স্মার্ট রেফ্রিজারেটরের বিজ্ঞাপনে মাশরাফি


নেপিদোতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সেনাপ্রধানদের বৈঠক
এবার রাজ্যসভায়ও পাস হলো ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
আগুনের সূত্রপাত ‘গ্যাস রুমে’, নেভাতে গিয়েই দগ্ধ শ্রমিকরা
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন মেয়র আতিকুল
মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট কোর্টে, শুনানি বৃহস্পতিবার