রানা প্লাজা ধস

চিকিৎসক থেকে এমপি এনাম

শাহেদ ইরশাদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ডা. এনামুর রহমান

ঢাকা: রানা প্লাজা ধসে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা দিয়ে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এনামুর রহমানের। অন্যদিকে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার আশ্রয়দাতা হিসেবে ছিটকে পড়েন তখনকার এমপি তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদ জংকে টপকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ডা. এনামুর রহমান। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চিকিৎসাসেবায় সময় দিতে না পারলেও এখন তার ব্যস্ত সময় কাটছে সভা-সমাবেশ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।  

রানা প্লাজা ধস দেশের ইতিহাসে যেমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনা, তেমনি এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানবসেবায় ডা. এনামুর রহমানের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভূমিকাও কম নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনার সময় ১ হাজার ৭শ’ ৭৬ জনকে চিকিৎসা দিয়ে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুনাম অর্জন করেছেন ডা. এনাম। দেশ-বিদেশের সব ধরনের গণমাধ্যমে তার এ নিবেদিতপ্রাণ মানবসেবার সংবাদ প্রকাশিত-প্রচারিত হয়।

এনাম মেডিকেলের অবদান ও সরকারি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুত্র ধরেই এগিয়ে যান ডা. এনামুর রহমান। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের দশম নির্বাচনে।

তিনি এখন সব সময় থাকেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী বেষ্টিত হয়ে। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নানা রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে চিকিৎসক পরিচয় ছাপিয়ে এনামুর রহমান এখন পুরোপুরি রাজনীতিবিদ।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়লে একের পর এক আহতদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিন মাস বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসা দিয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্র্রতিষ্ঠাতা ডা. এনামুর রহমান। পরবর্তীতে পাল্টে যেতে থাকে রাজনীতির দৃশ্যপটও। মুরাদ জংয়ের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় তাকে।

কেন এবং কিভাবে রাজনীতিতে এলেন বা কিভাবে মিলল ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন। জানতে চাইলে, ডা. এনাম বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর আহতদের চিকিৎসা দিয়ে গণমাধ্যমের প্রচারে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও আর্ন্তজাতিক মহলের কাছে উদার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করি। দেশ-বিদেশে আমার অবদানের কথা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের  ঘাঁটি বলে পরিচিত সাভার আসনের ভাবমূর্তি রক্ষা ও জনগণকে সেবা করার বিষয়ে আমার ওপর ভরসা রেখেই দশম সংসদে আমাকে মনোনয়ন দেয় দলটি।

ডা. এনাম বলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং ও তার কর্মী সর্মথকদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই আমার। আমি সব সময় সকলের সঙ্গে মিলে মিশে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতাই আমার প্রয়োজন- বললেন ডা. এনাম।

রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে এখন আর রোগী দেখা হয় না ডা. এনামের। শুধু চিকিৎসক হিসেবে নয়, রাজনীতিতেও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চান তিনি। এলাকার উন্নয়নে এখন সব সময় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান এই চিকিৎসক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

১৯৯২ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রথমে একটি ভাড়া বাসায় এনাম ক্লিনিক নামে ছয় শয্যার একটি ছোট ক্লিনিক করেন ডা. এনাম। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। পরের বছরই শুরু হয় শিক্ষার্থী ভর্তি। বর্তমানে এটি এক হাজার শয্যার বিশাল বেসরকারি হাসপাতাল।

১৯৮২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন তিনি। সাভারেই ছিল তার কর্মস্থল। পরবর্তীতে তাকে গোপালগঞ্জ জেলায় বদলি করা হলে চাকরি ছেড়ে দেন। ফিরে এসে সাভারে ক্লিনিক ব্যবসা শুরু করেন। পরিধি বেড়ে হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বর্তমানে এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শির্ক্ষার্থীর সংখ্যা সাত শতাধিক।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০১৪

** ক্রেতাদের সঙ্গে বেড়েছে মালিকদের দূরত্ব

জলঢাকায় উপজেলা নির্বাচনে বৈধতা ফিরে পেলেন বাহাদুর 
‘বিকশিত হোক শত ভাবনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
গাপটিলকে থামালেন সাইফ 
খুলনায় পচা মিষ্টি বিক্রির দায়ে বনফুলকে জরিমানা 
ঘরের মাঠে লিভারপুলের হোঁচট


কানাডায় আগুনে পুড়ে ৭ সিরিয়ান শরণার্থী শিশুর মৃত্যু
বার্সাকে জিততে দিল না লিঁও
শেষ ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
রাবিতে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু ২৮ ফেব্রুয়ারি  
মান হারিয়ে আবেদন হারাচ্ছে লিটল ম্যাগ