php glass

হবিগঞ্জে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে: লন্ডনে শেখ হাসিনা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। আওয়ামী লীগের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয় সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

লন্ডন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। আওয়ামী লীগের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয় সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোর ভোটের হিসেব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখবে আওয়ামী লীগ।

লন্ডনের হোটেল হিলটনের বলরুমে শনিবার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিদায়ী সভাপতি আলহাজ সামসুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাশেমের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি অ্যান মেইন, হাউজ অব লর্ডসের সদস্য লর্ড আহমেদ, সিলেটের মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুলতান শরীফ।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পর বঙ্গবন্ধু লন্ডনে এসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন।’

ঐ সময় তিনি নিজেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন দেখেছি বঙ্গবন্ধুর জন্যে প্রবাসীরা কি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু মক্তিযুদ্ধ নয়, দেশের যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রবাসীরা সব সময়ই দেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। যখন গণতন্ত্র ভুলণ্ঠিত হয়েছে সামরিক শাসনের যাঁতাকলে তখনই এই লন্ডনে এসেই আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন শুরু করেছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হল থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্রবাসীরা। ওই সময় স্যার উইলিয়াম টমাস এমপি’র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের লক্ষ্যে একটি আইনজীবী দল বাংলাদেশে যেতে  চাইলেও তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান তাদের বাংলাদেশে যেতে অনুমতি দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙ্গালি জাতির দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য আমি জানি না, প্রতিনিয়ত এই জাতিকে আন্দোলন সংগ্রাম করতেই হচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম থেকে শুরু করে দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। বিরামহীন এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই চলছে আমাদের দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ  দিতে তাঁর সরকারের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে মতা হস্তান্তর হয়েছিল ২০০১ সালে একমাত্র আওয়ামী লীগের আমলেই। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট মতায় এসে গণতান্ত্রিক সরকারের লেবাসে কি রকম ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল তা বাংলার জনগণ এখনও ভোলেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলঙ্কিত মাগুরা উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে ঘৃণ্য ইতিহাস রচিত হয়েছিল, আজকের বিরোধী দল আশা করেছিল সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন ও সংসদীয় উপনির্বাচনে বর্তমান সরকারও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। এভাবে তারা আগেই আন্দোলনের হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

কিন্তু নির্বাচনে চাহিদার চেয়ে আসন একটু কম পেলেও আওয়ামী লীগ মনে করে এটি গণতন্ত্রেরই বিজয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, পৌর নির্বাচনে জয় করা আসনগুলোর বিষয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রশংসা না থাকলেও জয় করতে না পারা আসনগুলোর জন্যে আছে সমালোচনা, নিন্দা ও আন্দোলনের হুমকি।

তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের নিরাপদ আসন বলে খ্যাত হবিগঞ্জ-১ এ আওয়ামী লীগ সামান্য ভোটে হেরে পরাজয় মেনে নিলেও, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেরে বিএনপি হরতালের ডাক দিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি কোন ধরনের গণতন্ত্রচর্চা? আওয়ামী লীগের মতার দুই বছর ও বিএনপির বিগত মতার ৫ বছরের তুলনা করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই শাসনামলের তুলনা করলেই বিএনপির আসল চেহারা বেরিয়ে আসবে। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নই আমার একমাত্র ল্য।

‘বিএনপির রাজনীতি লুটপাটের রাজনীতি’ এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মৃত্যুর সময় ছেড়া গেঞ্জি আর ভাঙ্গা বাক্স রেখে গেলেও, এ থেকে এখন বের হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।’ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে আমরা যখন মতা গ্রহণ করি, তখন চালের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা। মতা নিয়ে আমরা তা ১০ টাকায় নামিয়ে এনেছিলাম। মুদ্রাস্ফিতি ৬দশমিক ৪ শতাংশ থেকে নামিয়ে এনেছিলাম ১ দশমিক ৫৯ শতাংশে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে মতা গ্রহণ করেই বর্তমান সরকার বিগত সরকারের আমলে কেজি প্রতি ৪৩/৪৫ টাকা চালের দাম কমিয়ে আনে ১৮ টাকায়।’

বর্তমানে চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চালের দাম ২৮ টাকা করা হয়। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনের আগে হঠাৎ  করে কেন চালের দাম বেড়ে গেলো তা খতিয়ে দেখছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সীমিত আয়ের মানুষের  জন্যে ন্যায্যমূল্যে চাল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি চালু করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্যে সম্ভব সব কিছু করছে।

মুদ্রাস্ফীতির হার ১১শতাংশ থেকে ৬/৭ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  মানুষের দৈনন্দিন গড় আয় বেড়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দায়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা মজবুত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মন্দার সময়েও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের এর মধ্যেই ছিল।

বিগত বাজেট  বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির শতকরা ৯২ ভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নেই তাদের মতার মেয়াদকে কাজে লাগাচ্ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের রিজার্ভ ফান্ডের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো। যা সমৃদ্ধ করতে প্রবাসীদের রেমিটেন্স রেখেছে এক বিরাট ভূমিকা। আওয়ামী লীগ মতায় এলেই হাজারো সমস্যা কাঁধে নিয়ে আসতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঞ্জাল পরিষ্কার করতে করতেই আওয়ামী লীগের সময় চলে যায়। জিয়া পরিবারের দূর্নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের খবর এখন আমেরিকার ফেডারেল কোর্টেও উঠেছে। একজন বিএনপি নেতার ২০টি এফডিআরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলেরাসহ বিএনপি  দলীয় নেতাদের এত দুর্নীতি থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল যখন বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে আন্দোলনের হুমকি দেয়, তখন  এটি চোরের মায়ের বড় গলার মত শোনায়।

প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দিন বদলের নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই স্বপ্ন পূরণ করা হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে ২ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেকার সমস্যা কমাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কাজের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে সরকার।  

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান। দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের রায়ে আমরা আমাদের সংবিধানের মূল চেতনা ফিরে পাচ্ছি।

বতমান সরকারের আমলে একটি  যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, শিক্ষার হার না বাড়ালে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান শরীফকে সভাপতি ও সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৩৫ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১১

ksrm
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে উস্কানি দিচ্ছে কিছু এনজিও
রুমায় অপহরণের চারদিন পর জিপ চালক মুক্ত
মঞ্চনাটকেই যাত্রা শুরু আমির-কন্যার
ছয় ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা
উজানের ঢলে ফুলছে পদ্মা, বিপদসীমার কাছাকাছি


মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
দীঘিনালায় বাল্যবিয়ে থামালেন ভ্রাম্যমাণ আদালত
শিল্পকলা প্রাঙ্গণে বাউলের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু
সিলেটে দারাজের ‘ফ্যানমিট’
ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদ আর নেই