php glass

রাবিতে নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টা: পুলিশে অভিযোগ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রহমান সিদ্দিকী নিজের সুস্থ মেয়েকে মানসিক রোগী বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রহমান সিদ্দিকী নিজের সুস্থ মেয়েকে মানসিক রোগী বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তবে প্রতিবেশী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় অবশেষে মেয়েটি রা পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজের বাবা-মার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন।

এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মেয়েটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মেয়েটির নাম তারানা মেহ্জাবীন সিদ্দিকী ন্যান্সি। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২০০৯ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

ন্যান্সি অভিযোগ করেন, গত ২০ জানুয়ারি তাকে আরো একবার ঢাকার একটি মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার ২য় বার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে তিনি শনিবার আড়াইটার দিকে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

প্রত্যদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সিদের বাসায় (পশ্চিম-৭৫/সি) রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকার ‘গরীবে নেওয়াজ’ কিনিক থেকে কয়েকজন নার্সসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশেপাশের কোয়ার্টারের লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে প্রক্টরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ন্যান্সি রা পান।

ন্যান্সির অভিযোগ, তার বাবা জামায়াতপন্থি শিক্ষক। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে তার প্রণয়ের সম্পর্কের কারণে তাকে বারবার জোর করে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ছেলেটির নাম অরুণ চৌহান। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সহদেব চৌহানের ছেলে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের শান্তিনগরে। তিনি বর্তমানে পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিণরত। অরুণ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং হিন্দু ঘরের সন্তান হওয়ায় ন্যান্সির বাবা অরুণের চাকরিচ্যূতির জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছেন।

ন্যান্সি জানান, কলেজে পড়া অবস্থায় একই বিভাগের ছাত্র অরুণ তাদের বাসায় প্রাইভেট পড়াতো। ২০০৪ সালে এই বিভাগে ভর্তির পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস্টার্স শেষ করে অরুণ ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর অডিটর হিসেবে ঢাকায় চাকরিতে যোগ দেন। সম্পর্কের বিষয়টি ন্যান্সির বাবা-মা জানতে পেরে অরুণকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ন্যান্সিকে হেনস্তা করা শুরু করেন। সে সময় ন্যান্সিকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ন্যান্সি অভিযোগ করেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। অরুণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে চাকরিচ্যূত করতে তার বাবা-মা ষড়যন্ত্র করছেন। পুলিশকে প্রভাবিত করে অরুণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। অরুণের মুক্তিযোদ্ধা বাবাকেও নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ন্যান্সি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজির হস্তপে কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক আব্দুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে ন্যান্সির মা আকলিমা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের না জানাই ভালো।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি ন্যান্সিদের বাসার সামনে গিয়েছিলেন। ন্যান্সি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করেছে।

এ প্রসঙ্গে মতিহার থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ন্যান্সির মায়ের ডাকে পুলিশ শনিবার তাদের বাসায় গিয়েছিল।

তিনি আরো জানান, ন্যান্সির বাবা-মা জোর করে তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। সে কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মর্মে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৯, ২০১১

ksrm
জিএম পদে নিয়োগ দেবে বসুন্ধরা গ্রুপ
শিল্পকলার মঞ্চে ‘শেখ সাদী’ উদ্বোধনী মঞ্চায়ন
বিমানে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
‘সব অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত’
বানিয়াচংয়ে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ৪ জনের যাবজ্জীবন


অস্বাভাবিক মামলার জট কমিয়ে আনতে হবে: আইনমন্ত্রী
ব্রাজিলকে ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমানোর আহ্বান
সাভারেও বদলায়নি ট্যানারির পরিবেশ, ব্যবসায় নেমেছে ধস
যুক্তরাষ্ট্রেও পাওয়া যাবে ওয়ালটনের ল্যাপটপ
‘২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনা তারেকের, বাস্তবায়নে খালেদা’