সিরাজগঞ্জে ওএমএস চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত, ডিলার জেল হাজতে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সিরাজগঞ্জে ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) চাল কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও এক ডিলারকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) চাল কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও এক ডিলারকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ডিলারের দোকানে ওএমএসের চাল সঠিকভাবে মজুদ না করে খোলাবাজারে বিক্রি করা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগশাজশে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে চাল বিতরণের হিসাব মিলানো ও কালোবাজারে চাল বিক্রির লাভের টাকা একশ্রেণীর অসাধু ডিলার ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ওএমএসের চাল নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম নিজেই বুধবার সকাল ১১টায় শহরে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট মোঃ গোলাম রব্বানী ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান বকাউলসহ পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

অভিযানের শুরুতেই পৌর এলাকার ফজলুল হক রোডের ডিলার আহসানুল কবির দুলালের দোকানে ঢুকে অভিযোগের প্রমাণ পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ওই দোকানে ২ দিনের মজুদ ১ হাজার ৬০০ কেজি চালের পরিবর্তে পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৪০৫ কেজি। বাকি ১৯৫ কেজি চাল কালোবাজারে বিক্রির তাৎণিক প্রমাণ পান তারা।

ডিলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রিকশাওয়ালা শাহজাদার কাছ থেকে বিক্রীত চালের প্রায় ৫০ কেজি উদ্ধার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রিকশাওয়ালার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কালোবাজারে চাল বিক্রির দায়ে সিরাজগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মোঃ আখতার হোসেন ও ডিলার দুলালের ছোটভাই মোঃ খোকন সরকারকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

ঘটনার পর ডিলার আহসানুল কবির দুলাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল জলিল তালুকদার বাংলানিউজকে জানান, কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তাকে তাৎণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী জানান, ডিলারকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তার ডিলারশিপ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সদর পৌরসভায় ১৫টিসহ জেলায় ৫৫টি ওএমএস চাল বিক্রির কেন্দ্র রয়েছে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিটি কেন্দ্রে ডিলারদের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫ দিন চাল বিক্রি করা হয়।

প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন ১টন করে চাল দেওয়া  হলেও তারা ৮’শ কেজি করে বিক্রি করে। নিয়ম অনুযায়ী বিক্রির আগের দিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে চাল উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চাল বিক্রি করার কথা।

কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই সরবরাহকৃত চালের সঙ্গে নমুনার মিল থাকে না। এমনকি, বিক্রির সময় ঠিকমতো তদারকিও করা হয় না। আর  এজন্যই চাল কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এদিকে, প্রতি কেজি চালের দাম ২৪ টাকা হলেও খোলাবাজারে এ ধরনের চাল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১১

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো
রাজধানীতে ‘এস্কিমি টেড আড্ডা’
ভারতের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ: অনিন্দ্য ব্যানার্জী
কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
মুজিববর্ষে ৭০০ থানায় চারটি করে হেল্পডেস্ক: আইজিপি


প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে ‘আঁরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান’
শরীয়তপুরে নকল জর্দ্দা তৈরির কারখানাকে জরিমানা
রোহিঙ্গারা এখনও পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট!
গণসংযোগে সুপরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি: আমু
ঈদে মুক্তি পাবে ফেরদৌস-পূর্ণিমার ‘গাঙচিল’