php glass

২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া সবুজ ক্যাম্পাসে বুকে করাত চালিয়ে অবাধে বৃ নিধনের ঘটনায় বারবার বিতর্কিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জাবি: ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া সবুজ ক্যাম্পাসে বুকে করাত চালিয়ে অবাধে বৃ নিধনের ঘটনায় বারবার বিতর্কিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আর সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ওপর শিক্ষকের যৌন হয়রানির অভিযোগ।

তবে এ বছর নতুন বিভাগ খোলা, ভবন নির্মাণ, সেশনজট কমানোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২০১০ সালে জাবিতে নতুন দুটি বিভাগ খোলা হয়েছে। একটি হলো- বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যটি অ্যাকাউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম। ৪ ডিসেম্বর জাবির সপ্তম ছাত্র হল ‘শহীদ রফিক জব্বার হল’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ। ৩০ মে ২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সরকার এই গবেষণা কেন্দ্রের জন্য ১০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। কয়েকটি ছাত্র-ছাত্রী হলে ওয়াই-ফাই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাজ চলছে।

জাবি ছাত্রলীগ
১৯ মে রাশেদুল ইসলাম শাফিনকে সভাপতি ও নির্ঝর আলম সাম্যকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সহ-সভাপতি হন রকিবুল হাসান রানা, রাশেদ রেজা ডিকেন, নিয়ামুল পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ হাসান, এস ফরহাদুর রহমান, আজগর আলী, নুরুল হাসনাত তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসাইন রেজা ও অভিজিৎ চৌধুরী।

৬ জানুয়ারি এক সাধারণ ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় দুটি হলের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ৪ জনকে ৬ মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করেন। বহিস্কৃতরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের অমিত কুমার মণ্ডল (দর্শন বিভাগ, ৩৮তম ব্যাচ) ও রিয়াজ রহমান (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ৩৬তম ব্যাচ) এবং আফম কামালউদ্দিন হলের কামরুজ্জামান সোহাগ (দর্শন বিভাগ, ৩৭তম ব্যাচ) ও ফরহাদ রহমান (দর্শন বিভাগ, ৩৬তম ব্যাচ)।
 
২০ ফেব্রুয়ারি জাবির আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন ইমনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় ৬ নেতা-কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কৃতরা হলেন- ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক গালিব ইমতিয়াজ নাহিদ, অপর যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিউল আমিন মিথুন, কর্মী সাব্বির আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা আজিবুর রহমান, সফিউল্লাহ সুজন ও আসাদুল হাকিম।

২০ এপ্রিল রাতে আফম কামাল উদ্দিন ও শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত, ৩০টি ক ভাংচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও আদৌ বিচার হয়নি।

২৯ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ ছাত্র আহত হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৫ ছাত্রকে তিন মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করে। বহিস্কৃতরা হলেন- সৈয়দ নাজমুল হোসাইন, ওয়াজিদ হোসাইন বাপ্পি ও এম ফরহাদুর রহমান (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), জহিরুল ইসলাম ও রেজাউল করিম রেজা (গণিত বিভাগ)।

৫ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের মধ্যে প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয় এবং প্রায় ৩০ ছাত্রলীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়। ঘটনার দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার ৪ ও ৫ এবং ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্স-এর ৮ ধারা বলে উপাচার্য ১৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করেন। এ ঘটনায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ‘ছাত্রশৃংখলা বিধিমালা অনুযায়ী’ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নিয়মিত সভায় জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্যকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কারসহ ২১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করে।

জাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন রেজাসহ ৬ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয় সহ-সভাপতি রকিবুল হাসান রানাসহ ৮ শিক্ষার্থীকে। এছাড়া ৫ শিক্ষার্থীকে তিন মাসের জন্য ও ২ শিক্ষার্থীকে দুই মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

তদন্ত কমিটি ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় সিন্ডিকেট তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কারাদেশ থেকে অব্যহতি দেয়।

জাবির কয়েকটি অকাল মৃত্যু
১২ এপ্রিল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের একটি বাসায় বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্রী ফারহা-নাজ-রুহী।

২৭ জুলাই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ থানা পুলিশ নাফ নদীর পাশে শাহ-পরীর দ্বীপ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র স্বাপ্নিক সোহানের মরদেহ উদ্ধার করে।

৩ অক্টোবর রোববার সাভারের তুরাগ নদীতে ডুবে যাওয়া বৈশাখী পরিবহন দুর্ঘটনায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্রী মনোয়ারা খাতুন তারা।

বাংলাদেশ সময় : ২৩২৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে খেলছে বৃষ্টি
আসামে বিক্ষোভের জেরে ভারত সফর বাতিল করলেন শিনজো আবে 
নূরকে পেয়ে আপ্লুত প্রতিমন্ত্রী এনাম, সালাম করলেন পা ছুঁয়ে
চূড়ান্ত তালিকায় মুশফিকসহ পাঁচ বাংলাদেশি!
৭১ একটি চেতনা, তার প্রকাশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর


অনশনরত পাটকল শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বাসদের মানববন্ধন
৫ দিন পর নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার
শীতের খাবার চিকেন মোমোর রেসিপি
সিলেটকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয় জয় রাজশাহীর
মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে ত্রিপুরা: বিপ্লব