php glass

২০১০: আলোচিত ১০

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

চলে গেল আরও একটি বছর। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক ঘটনাবহুল বছর ছিলো ২০১০। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবছরই কার্যকর হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কয়েকজনের ফাঁসির রায়।

ঢাকা: চলে গেল আরও একটি বছর। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক ঘটনাবহুল বছর ছিলো ২০১০। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবছরই কার্যকর হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কয়েকজনের ফাঁসির রায়। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার কার্যক্রম। এ বছর আদালত নিয়েছে সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে ক’টনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, হয়েছে চুক্তি। আবার এ চুক্তির বিরোধিতা করে রাজনৈতিক অঙ্গণ গরম করে রাখে বিরোধী দল।

বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া তার ৪০ বছরের স্মৃতির বাড়ি ছেড়ে গেছেন যা ছিলো রাজনীতির আরেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণব্যাংক নিয়ে বছরের শেষ নাগাদ আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। আবার আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়েছে মানুষ, পুড়েছে ঘর-বাণিজ্য।  

১. বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর
জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের কয়েক জনের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মধ্যে দিয়ে গোটা জাতির মনের স্বস্তি ফেরে ২০১০ সালের গোড়াতেই। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয় ২৭ জানুয়ারি। ওই রাতে এক এক করে ফাঁসি দেওয়া হয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা বজলুল হুদা, একে মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ারকে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, পৃথিবীর জঘন্যতম একটি হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলো। বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃত খুনিদের আরও কয়েকজন এখনো পলাতক। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে কবে রায় কার্যকর হবে তারই প্রতীক্ষায় রয়েছে জাতি।  

২. যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার
মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর এই বছরের ২৫ মার্চ গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দেশের বেশিরভাগ মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে হতাশায় ছিল এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়।  সংশয় ছিল যুদ্ধাপরাধীরা আদৌ শাস্তি পাবে কিনা। তবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ ২৯ জুন গ্রেপ্তারের পর সেই শঙ্কা দূর হতে শুরু করে। এরপর ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ  কামারুজ্জামানকে। তবে এ মামলায় যে ব্যক্তিটির গ্রেপ্তার নিয়ে খোদ সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল সেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও অন্য একটি মামলায় ১৬ ডিসেম্বর করা হয় গ্রেপ্তার। এর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও তাকে কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেওয়া হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম বারের মতো  হাজিরও করা তাকে। আরেক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কয়েক দফা ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিলেও অসুস্থতার কারণে তাকে হাজির করা হয়নি। অবশেষে গত ২ নভেম্বর তাকে হাজির করা হলে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত জমা দিতে না পারায় ২৯ ডিসেম্বর আবারও ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাঈদীকে আটক রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

০৩. সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়েন খালেদা জিয়া
রাজনৈতিক ইস্যু বিবেচনায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত। আদালতের রায় অনুযায়ী ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া তার ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ছেড়ে আসেন। পরের ২৪ ঘণ্টা ছিল বেশ উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগের। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর ক্রন্দনরত মুখ দেখে অসংখ্য নেতাকর্মী সেদিন নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। পরদিন হয় বিএনপির ডাকে পালিত হয় হরতাল। তবে বাড়ি ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়া সাধারণ মানুষের যতো সহমর্মিতা পেয়েছিলেন, তার সবটুকুই কর্পূরের মতো উবে যায় ঈদের আগে দেওয়া হরতালে। এর আগে ১৩ অক্টোবর বিচারপতি নাজমুন আরা ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার নোটিসের বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজ করে দেন। রায়ে বাড়ি ছাড়ার জন্য বেঁধে দেওয়া হয় ৩০ দিন। অপরদিকে গত ১ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে খালেদা জিয়ার দায়ের করা আদালত অবমাননার রিট অ্যাডভোকট অন রেকর্ড’র পরিপ্রেক্ষিতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

০৪. সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিল
২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল করেন হাইকোর্ট। আর কিছু সংশোধনী এবং কিছু পর্যালোচনাসহ প্রায় ৫ বছর পর ২০১০ এর ২ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের ফলে খন্দকার  মোশতাক, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের শাসন অবৈধ হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শাসনকালের কিছু কাজকে হাইকোর্ট মার্জনা করেন রায়ে। এছাড়া সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার বিধান আবার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে ‘ধর্মনিরপেতা’ পুনর্স্থাপিত হয়।

অপর দিকে, ২৬ আগস্ট সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এই রায় অনুযায়ী ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের জারি করা সামরিক শাসন, এরপর থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা সব সামরিক আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন আদেশ ও সামরিক আইন নির্দেশ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা অন্য কোনো কর্তৃপরে আদেশ অবৈধ। ২৬ আগস্টের হাইকোর্টের রায়ের র্পুণাঙ্গ কপি বের হয় গত ২৯ ডিসেম্বর। পূর্ণাঙ্গ রায়ে মহাজোট সরকারের অংশীদার সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের এরশাদের সামরিক ক্ষমতা গ্রহণকে ন্যক্কারজনক, জনবিরোধী এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন আদালত। বিভিন্ন দেশে এক্ষেত্রে যেভাবে বিচার হয়, সেভাবে তার বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন আদালত। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার ও সংসদ।

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া প্রকাশিত রায়ের চূড়ান্ত কপিতে আদালতের এসব বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।

০৫. ভারতের সঙ্গে চুক্তি: ১শ কোটি ডলারের ঋণ-সহায়তা চুক্তি
গত ৭ আগস্ট ভারতের কাছ থেকে ১শ কোটি ডলার ঋণসহায়তা নেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ঢাকায় আসলে বার্ষিক ১.৭৫ শতাংশ হার সুদে ঋণ সহায়তার এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মোশাররফ হোসেন ভ’ঁইয়া ও ভারতের পক্ষে দেশটির এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম) চেয়ারম্যান টিসিএ রঙ্গনাথন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রণব মুখার্জি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

তিনি জানান, তার দেশ ভারত বাংলাদেশের কাছে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ মেট্রিক টন গম রপ্তানি করবে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ দমনে দুই দেশকে একসঙ্গে আরো জোরদার ভূমিকা পালনের আহবান জানান প্রণব মুখার্জি। এদিকে ঋণের টাকা সঠিকভাবে কাজের লাগানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ১৪টি প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছেন। এসবের মধ্যে ১০টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের, যেগুলোর ৫টি আবার রেলওয়ের উন্নয়ন সংক্রান্ত। এর মাধ্যমে রেলওয়ের ট্যাং ওয়াগন, বগিসহ সরঞ্জামাদি কেনা হবে। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জে দুটি নতুন রেলসেতু তৈরি করা হবে।

০৬. ড. ইউনূূস ও গ্রামীণব্যাংক প্রসঙ্গ:
বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের একটি তহবিল থেকে প্রায় ৭শ কোটি টাকা বা ১০ কোটি ডলার সরিয়েছেন বলে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। নরওয়ের ওই টেলিভিশনে প্রথমবারের মত প্রচারিত ‘ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে’ (ঈধঁমযঃ রহ গরপৎড় ফবনঃ) নামে এই প্রামাণ্য চলচ্চত্রটি নির্মাণ করেছেন ডেনমার্কের চলচ্চিত্র নির্মাতা টম হাইনেমান। ১৯৯৬ সালে গ্রামীণব্যাংকের দরিদ্র ঋণ গ্রহীতাদের জন্য আসা এই অর্থসাহায্য তার মালিকানাধীন আরেকটি কোম্পানিতে স্থানান্তর করেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস।

চলচ্চিত্রটিতে বলা হয়, ড. ইউনূস তার বিখ্যাত গ্রামীণব্যাংকের মাধ্যমে গ্রামের বহু দরিদ্র নারীকে ৩০ ভাগ সুদের হারে ঋণ দিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলেছেন। নির্মাতা অভিযোগ করেছেন, প্রায় ৬ মাস ধরে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এবং বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ড. ইউনূস তাকে কোনো সময় দেননি। ইউনুস বির্তকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ ডিসেম্বর তার কার্যালয়ে বলেন ‘গরীব মানুষের রক্ত চুষে বেশি দিন টেকা যায় না সেটাই প্রমাণিত হয়েছে’। নিজের আখের গোছাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন ড. ইউনূস।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে গরিব মানুষ দেখিয়ে টাকা আনা হলেও গরিবের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনার ভালোভাবে তদন্ত হওয়া উচিত এবং কোনোভাবেই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক এটা সরকার চায় না।’ এরপর ১২ ডিসেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক সাংবাদিক সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

০৭. পুজিবাজারের উত্থান পতন:
ডিএসইতে রের্কড পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হয় গত ৫ ডিসেম্বর। সেদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে নতুন রের্কড হয়। ডিএসইতে ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়। এর পত ৮ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই শেয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়। সেদিন দুপুর নাগাদ ডিএসই সাধারন সূচক ৫৪৬ পয়েন্ট কমে যায়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা। ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। আবার হঠাৎ করেই ব্যাপক ধসের পর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে শেয়ারবাজার। তবে বিশ্লেষকরা একে বাজার সংশোধন বলে আখ্যা দেন। তবে দরপতনকে তারা বিপর্যয়ই বলেন। বিনিয়োগকারীরা যাতে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করেন সে পরামর্শও দেন তারা।

০৮. নিমতলী ট্রাজেডি:
শুধু এই বছরের নয়, স্মরণকালের ভয়াবহতম অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে পুরান ঢাকার নিমতলীতে। গত ৩ জুন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের শুরু হয় বিয়েবাড়ির রান্নার আগুন থেকে। এই আগুনে প্রায় ৫০টি বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডে একই পরিবারের ৩৫ জন সহ ওই বিয়েবাড়িতে আসা প্রায় ৯০ জন মানুষ ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওই ঘটনায় সর্বশেষ ১২৫ জন মানুষ প্রান হারায়, আহত হয় প্রায় দুইশতকেরও বেশি। বছরের ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডে সরকার জাতীয় শোক ঘোষণা করে। যেই বিয়ে বাড়ি থেকে এই আগুনের সুত্রপাত সেই বিয়ে বাড়ির দুই মেয়ে সহ আরেক মেয়েকে নিজের কণ্যা বলে ঘোষণা করে তাদের নিজে অভিভাবক হয়ে বঙ্গভবন থেকে তাদের বিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

০৯. অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক
এ বছর দেশের অন্যতম আলোচিত এবং আতঙ্কের বিষয় ছিলো এনথ্রাক্স। এবছরের ১৮ আগস্ট সিরাজগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে প্রথম ধরা পরে এনথ্রাক্স যা পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পরে। আক্রান্ত হয় ৫০০শ’র মতো মানুষ। দেশব্যাপী আতঙ্ক তৈরি হয়। গরুর মাংসের চাহিদা ব্যপকভাকে কমে যায়। সরকার সারা দেশে পশু সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য রেড এর্লার্ট জারি করে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবহিনীকে মাঠে নামানো হয়।  

১০. জাহাজ ছিনতাই:  
গত ৫ ডিসেম্বর আরব সাগরে বাংলাদেশি একটি জাহাজ হাইজ্যাক হয়। এমভি জাহান মণি নামের জাহাজটিতে ২৫ জন বাংলাদেশি নাবিক এবং এক নাবিকের স্ত্রী রয়েছেন। জিম্মি সঙ্কট এখনো চলছে। জাহাজটি উদ্ধারের জন্য এরই মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। গোটা ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেলেও জাহাজটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে জাহাজের কয়েকজন নাবিক লুকিয়ে তার স্বজনদের কাছে ফোন করে জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়েছে। খেতে দিচ্ছে, তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রায় প্রতিদিনই জাহাজে থাকা নাবিকদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী, জাহাজটির মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করছেন জাহাজে থাকা নাবিকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে।

বাংলাদেশ সময় ২০৩৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

ঘটছে দুর্ঘটনা, তবুও উল্টো পথে চলছে গাড়ি
কাতারকে হারিয়ে গালফ কাপের ফাইনালে সৌদি আরব
লন্ডনের বাতাসে নিশ্বাস ১৬০টি সিগারেট গ্রহণের সমান!
আড়াইহাজারে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক
কাউখালীতে খামারে আগুন, ২ হাজার মুরগি পুড়ে ছাই


হাই হিল জুতায় হতে পারে যেসব ক্ষতি
বিকল্প শক্তি গড়তে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে
‘সরকার দেখে না, আর গিরস্থি করতাম না’
ফাওয়াদ আমলা না কী ফাওয়াদ আলম?
কাতারে বাংলাদেশি হাফেজদের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য