php glass

তিনবার চাঁদা দিয়েও বাঁচতে পারলেন না আবুল কালাম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

তিন দফা চাঁদার দাবি পূরণ করেও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবুল কালামের জীবন রক্ষা হলো না। সন্ত্রাসীরা আবার তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। আর চতুর্থ দফা চাঁদার দাবি পূরণ না করাই কাল হলো তার। চাঁদাবাজদের গুলিতে খুন হতে হয়েছে তাকে।

ঢাকা: তিন দফা চাঁদার দাবি পূরণ করেও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবুল কালামের জীবন রক্ষা হলো না। সন্ত্রাসীরা আবার তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। আর চতুর্থ দফা চাঁদার দাবি পূরণ না করাই কাল হলো তার। চাঁদাবাজদের গুলিতে খুন হতে হয়েছে তাকে।

বুধবার বিকেলে তাঁতীবাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি গুলিতে আবুল কালাম নিহত হওয়ার ঘটনায় তার প্রতিবেশি স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বাংলানিউজকে এসব কথা জানান।

ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে পুলিশের লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার খুরশিদ হোসেন এর বক্তব্যের যথেষ্ট মিল পাওয়া গেছে।

উপ-কমিশনার বলেছেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ুব্ধ সন্ত্রাসীদের হাতেই খুন হয়েছেন কালাম। তার ধারণা, উঠতি বয়সের সন্ত্রাসীরা এ খুনের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন খান দাবি করেছেন, প্রাথমিকভাবে খুনিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। খুব শিগগির তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযানও চালানো হচ্ছে জোরেসোরেই।

কিন্তু নিহত কালামের পরিবারের সদস্যরা বলছেন ভিন্ন কথা। কালামের ভগ্নিপতি শহিদুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ব্যবসায়িক কোন্দলের কারণেই আবুল কালামের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, আবুল কালাম ছিলেন স্বর্ণের পাইকার ব্যবসায়ি। তিনি তাঁতী বাজারের হাতে গোণা কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসার লেনদেন করায় আশপাশের কয়েকজন ব্যবসাীয়র সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

শহিদুল্লাহ আরও জানান, কিছুদিন আগে এসব ব্যবসায়িক কোন্দল নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঝগড়াও হয় আবুল কালামের। তারা এই আক্রোশে ভাড়াটে খুনি লোক আবুল কালামকে খুন করিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে কালামের বড় ভাই আব্দুল আউয়াল বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি সন্দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে কালাম খুনের প্রকৃত রহস্য। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কালামের খুনের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে, কালাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে বন্ধ করে দেওয়া দোকানপাট বৃহস্পতিবারও খোলা হয়নি। তাঁতীবাজার ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য ও ব্যবসায়ী খুনের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধমর্ঘট করছেন।

ব্যবসায়ীরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে কালামের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে খুনের মুল কারণ উদঘাটন করতে হবে। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনে নামারও ঘোষনা দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে দুপরে আবুল কালামের মৃতদেহ তাঁতীবাজার মসজিদের সামনে নিয়ে গেলে শত শত ব্যবসায়ী সেখানে জড়ো হন। এ সময় ব্যবসাীয়রা বিুব্ধ হয়ে উঠেন এবং তাঁতিবাজারে একের পর খুন, অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে দায়ি করে নানা স্লোগান দেন।

মসজিদের সামনে জানাজা নামাজ শেষে আবুল কালামের মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার হোসেনপুরে পারিবারিক কবরস্থানের দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ব্যবসা করতে চাঁদা, জীবন বাঁচাতেও চাঁদা !

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের অব্যাহত অত্যাচার, খুন-খারাবি, চাঁদা দাবি, হুমকি থেকে তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা রেহাই পাচ্ছেন না কোনোভাবেই। তারা বছরের পর বছর জিম্মি হয়ে আছেন। অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে উপস্থিত লালবাগ জোনের উপ-কমিশনারসহ ওই জোনের সহকারী কমিশনার ও পরিদর্শকদের উদ্দেশে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয় তাঁতীবাজার স্বর্ণ পট্টিতে।

ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিলেও জীবনের ভয়ে মুখ খোলেন না।  তারা জানান, এখনও তিন শতাধিক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজদের হুমকির মুখে রয়েছেন। চাঁদাবাজদের হুমকি-ধামকি থেকে বাঁচতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকানের ল্যান্ডফোনের সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন।

ুব্ধ ব্যবসায়িরা প্রশ্ন তোলেন, ‘মুখ খুলে অভিযোগ দিতে রাজি আছি, জীবন রক্ষার গ্যারান্টি কে দিবে ?’

পোদ্দার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একেএম আসাদুর রহমান টুটুল জানান, গত চার বছরে তাঁতীবাজারের ১০ জন ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণেই তাদেরকে খুন করা হয়।

৭২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবদুল জব্বার বলেন, ডাকাত শহীদ গ্রুপ ও ভুট্ট গ্রুপের হাতে তাঁতীবাজারে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জিম্মি। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, ডাকাত শহিদের ক্যাডার কলতাবাজারের আমান, আনোয়ার ও জিন্দাবাহারের কামাল জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই চাঁদাবাজির অত্যাচার, হুমকি-ধামকি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।

লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার খোরশেদ হোসেন তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের তালিকা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁতীবাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন, এক্ষেত্রে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তিনি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান। উপ-কমিশনার এক সপ্তাহের মধ্যে কালাম হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১০

মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছে বিজয় মেলা
১৪ ডিসেম্বর বান্দরবান মুক্ত দিবস
ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
বিক্ষোভের মুখে শিলং যাত্রা বাতিল অমিতের
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
ইতিহাসের এই দিনে

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড



শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস শনিবার
পর্দা নামলো ১৫তম স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী হাসপাতালে
তামিম-পেরেরা জেতালেন মাশরাফির ঢাকাকে
রক্তের ফেরীওয়ালারা কখনও অপরাধে জড়াতে পারেনা