php glass

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ২০১০ সালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া ২০১০ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর পরই অন্যতম আলোচিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধকালে ঘটা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু।

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া ২০১০ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর পরই অন্যতম আলোচিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধকালে ঘটা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১০ সালের গোড়ার দিকে য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এ লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু করে।

এ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মাদকামারুজ্জামান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রমুখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। আরো কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

উচ্চ আদালতের রায়ে সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলের পর সরকারের ‘৭২ এর সংবিধান ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণও ২০১০ সালের আর একটি আলোচিত পদক্ষেপ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২১ জুলাই জাতীয় সংসদে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে  কো-চেয়ারম্যান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৯ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ কমিটি ৬টি বৈঠকের পর সংবিধান পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১২ অক্টোবর কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের পর পুনর্মুদ্রণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে সংবিধান পুনর্মুদ্রণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বর্তমান সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, একমখি শিক্ষানীতি জাতির দীর্ঘ দিনের দাবি ছিলো। এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরণের একটি শিক্ষানীতি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে চলতি বছর এ শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়। নতুন এ শিক্ষানীতি মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়। সংসদের এ বছরের শেষ অধীবেশনে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ পাশ হয়।

পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জাতীয় শিক্ষানীতির জোর দাবি দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চারিত হলেও নতুন এই শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এই শিক্ষানীতিতে বিজ্ঞানমনস্ক, মুক্ত চিন্তার মানুষের আকাক্সার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না ঘটলেও সামগ্রিকভাবে দেশের মানুষ নতুন এ শিক্ষানীতিটি গ্রহণ করেছে।

গত দুই বছরে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে না পারায় বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে চলমান বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার চলতি বছর সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।  

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সৌর শক্তি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি, বেসরকারি খাতকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল পদ্ধতি গ্রহণ, বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামত, নতুন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নভেম্বরে রাশিয়া সফরকালে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের চলতি বছরের শেষ অধিবেশনে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে সরকারকে প্রায় সারা বছরই সমালোচনার মধ্যে থাকতে হয়েছে। সরকার বার বার পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেও তেমন একটা কাজ হয়নি। চাল, ডাল, আটা, তেল, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকেনি।  

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কথা সরকারকেও স্বীকার করতে হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীদের অনেকেই এটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে বলেছেন,কৃষকের কথা চিন্তা করে চালের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে যাতে তারা ধানের ন্যায্য দাম পায়।

জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন অর্থাৎ বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমে আসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ২০১০ সালে। এ বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

২০১০ সালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলেছে প্রায় বিরোধীদলহীন। নবম জাতীয় সংসদে এ বছর অনুষ্ঠিত ৪টি অধিবেশনের মোট ৮৮ কার্যদিবসের মধ্যে বিরোধী দল বিএনপি সংসদে উপস্থিত ছিলো মাত্র ২৩ দিন।

সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় না অভিযোগ তুলে বিরোধী দল লাগাতার সংসদ বর্জন করে  চলেছে। তবে সরকারি দল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে, বিরোধী দল সংসদকে অকার্যকর করতে পরিকল্পিতভাবে সংসদ বর্জন করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১০

সু চির অস্বীকার: রোহিঙ্গারা বললেন ‘মিথ্যুক’
সোলায়মানের পদত্যাগ নিয়ে জামায়াতে তোলপাড়
রাজশাহীর মধ্য শহর থেকে বাস টার্মিনাল সরবে আগামী বছর
স্মার্ট রেফ্রিজারেটরের বিজ্ঞাপনে মাশরাফি
নেপিদোতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সেনাপ্রধানদের বৈঠক


এবার রাজ্যসভায়ও পাস হলো ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
আগুনের সূত্রপাত ‘গ্যাস রুমে’, নেভাতে গিয়েই দগ্ধ শ্রমিকরা
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন মেয়র আতিকুল
মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট কোর্টে, শুনানি বৃহস্পতিবার
চট্টগ্রামে বিজয় স্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হবে