php glass

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড: মফস্বলে পাশের হার কম, ঝরে পড়েছে ৩০ শতাংশ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হয়েছে। পাশের হার ও ভালো ফলাফলের দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম: প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হয়েছে। পাশের হার ও ভালো ফলাফলের দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক লাখ ১ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭১ হাজার  ৪ জন। জিপিএ- ৫ পেয়েছে মোট ৫১৮ জন।

এদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী জিপিএ- ৫ না পাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী এবং  অভিভাবকরা। জিপিএ-৫ না পাওয়ায় অনেক খুদে শিক্ষার্থীকে কাঁদতে দেখা গেছে। জিপিএ- ৫ কম পাওয়ার কারণে খুশি নন নামি-দামী স্কুলের শিক্ষকরাও।


তৃতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতিতে  জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কারণে হয়তো ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। এছাড়া উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন নাও হয়ে থাকতে পারে। আমার ১৫০ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পাবে বলে প্রত্যাশা করেছিলাম। ’  

তিনি আরো বলেন, আমাদের কর্মকৌশল, পাঠদান পদ্ধতি এবং উত্তর লিখনের  ক্ষেত্রে গলদ ছিল কিনা সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সেরা ২০ এর মধ্যে শীর্ষ স্থানে আছে চট্টগ্রামের ফৌজদার ক্যাডেট কলেজ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে ডা.খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম সরকারী কলেজিয়েট স্কুল। এক হাজার ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিতে কোন শিক্ষার্থী পাশ করেনি। ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাশ করেছে।

ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. পীযুষ
দত্ত বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার মতো জেএসসি পরীক্ষায়ও টেস্ট পরীক্ষার সিস্টেম থাকলে সেখানে অনেকেই ঝরে যেতো। এতে পাশের হার আর বাড়তো।  এর পরেও জেএসসি পরীক্ষার জুনিয়রদের পারফরমেন্সে আমি সন্তুষ্ট।

এই পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে এবং গণিত ও ইংরেজিতে ফেলের সংখ্যা বেশি বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর তুলনায় চট্টগ্রাম জেলায় পাশের হার অনেক কম। চট্টগ্রাম মহানগরীতে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৬ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৫হাজার ৮৬৪ জন।  ছাত্র পাশের হার ৮৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ছাত্রী পাশের হার ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এদিকে  চট্টগ্রাম জেলায় পাশের হার মাত্র ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় পাশের হার তুলনামূলক ভালো। তবে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পাশের হার কম। রাঙ্গামাটিতে পাশ করেছে ৭৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ,  বান্দরবানে ৫৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এছাড়া কক্সবাজার জেলায় পাশ করেছে ৬৩ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ।  চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলার প্রতিটিতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা কম পাশ করেছে।

সেরা ২০:
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মতো ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ জেএসসি পরীক্ষায় ও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। গ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী সবোর্চ্চ ৬৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট পেয়ে র্শীষ স্থান লাভ করেছে চট্টগ্রামের   ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ২০১০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষ স্থানে ছিল ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ।

জেএসসি পরীক্ষায় এই কলেজের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাশ করেছে। জিপিএ -৫ পেয়েছে ২৮ জন।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডা. খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪১ জন ছাত্রীর মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে। এই স্কুলে সর্বোচ্চ ৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, কলেজিয়েট স্কুলে ৩৮১ জনের মধ্যে এক জন ফেল করেছে, জিপিএ-৫  পেয়েছে ৭১ জন।

খাস্তগীর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হাসমত জাহান ভালো ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায়  বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রথমবারের অনুষ্ঠিত এই জেএসসি পরীক্ষায় বিরাট সাফল্য লাভ করতে পারায় আমরা খুবই আনন্দিত। এতো অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের ছাত্রীরা মেধার স্বাক্ষর রেখে ভালো ফলাফল আনতে পেরেছে। এজন্য প্রথমেই তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ’

হাসমত জাহান আরো দাবি করেন, গ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী জিপিএ-৫, পাশের হার এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দিক থেকে তার প্রতিষ্ঠানই সেরা ২০ এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করার কথা। ’  

এটাকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সেরা ২০-এর মধ্যে দুটি ছাড়া ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই চট্টগ্রাম জেলার এবং ১৭টি মহানগরীর। চট্টগ্রামের বাইরের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার করক বিদ্যাপীঠ এবং কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ দুটি স্কুল যথাক্রমে  ১৪ ও ১৫তম অবস্থানে আছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫১ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০,২০১০

৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা
পঞ্চম জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী সম্মিলন অনুষ্ঠিত
৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত দিবস
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের টিআরএফ সেমিনার
৭ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস


হোয়াটস অ্যাপ আইডি হারাচ্ছেন কাশ্মীরের ব্যবহারকারী
কজনা’র সভাপতি অলোক বসু-সম্পাদক অনিমেষ কর
জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন শনিবার
আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল, টেলিপ্যাবের নিন্দা
বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্ম