php glass

কুমিল্লায় সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিক্সার ছড়াছড়ি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

কুমিল্লা জেলা জুড়ে এখন সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিক্সার ছড়াছড়ি। শো-রুম থেকে কিনে যাত্রী পরিবহনের জন্য সরাসরি রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে অটোরিক্সা মালিকরা। নিয়ম হচ্ছে, বিআরটিএ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে রাস্তায় চালানো।

কুমিল্লা: কুমিল্লা জেলা জুড়ে এখন সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিক্সার ছড়াছড়ি। শো-রুম থেকে কিনে যাত্রী পরিবহনের জন্য সরাসরি রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে অটোরিক্সা মালিকরা। নিয়ম হচ্ছে, বিআরটিএ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে রাস্তায় চালানো। কিন্তু অটোরিক্সা মালিক পক্ষ এ ব্যাপারে কোনো নিয়ম-নীতিরই   তোয়াক্কা  করে না। ফলে, এ সব অটোরিক্সা ব্যবহার করা হচ্ছে চোরাচালান, মাদক দ্রব্য পরিবহনসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে। সন্ত্রাসীরা অটোরিক্সা ব্যবহার করে অবাধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই  করে যাচ্ছে। এ ছাড়া অনুমোদনহীন সিএনজিচালিত অটোরিক্সা রাস্তায় চলাচলের ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।

কুমিল্লা বিআরটিএ সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলায় ৫ হাজারেরও বেশি অনুমোদিত সিএনজিচালিত অটোরিক্সা রাস্তায় চলাচল করছে।

এবিষয়ে কুমিল্লা বিআরটিএ-তে কর্মরত রেকর্ড জমাগ্রহণকারী করণিক মজিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ‘৫ হাজার ১শ ৭৫টি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা যেমন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তেমনি আরো ৫ হাজার অটোরিক্সার অনুমোদনের জন্য ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘এ ছাড়া দালালচক্র প্রতিদিন আরো ৫শ থেকে ৭শ অটোরিক্সার ফরম নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু সে ফরমগুলি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এখন সিএনজিচালিত অটোরিক্সার অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা রয়েছে।’


এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ-এর এক সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলার ১৬টি উপজেলায় কমপে ৭০/৮০টি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড রয়েছে। আর এ অটোরিক্সা স্ট্যান্ডগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের নিয়োজিত সোর্স বা দালাল রাখা হয়েছে। তারা রাস্তায় নতুন কোনো অটোরিক্সা নামলেই জানিয়ে দিচ্ছে পুলিশের দপ্তরে। আর এর সাথেই নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে ওই নতুন অটোরিক্সাটির ভাগ্য। অর্থাৎ বিনা বাধায় রাস্তায় চলাচল করতে হলে প্রতিদিন প্র্রতিটি অটোরিক্সাচালক বা মালিক গুণতে হবে এক থেকে দেড়শ টাকা। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হলে এর দায়-দায়িত্ব তারা নেয় না। দালালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ কিংবা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট স্বয়ং প্রতি মাসের চাঁদার টাকা নিজে সংগ্রহ করছেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  কুমিল্লায় অবৈধ বা নিবন্ধনহীন অটোরিক্সা থেকে প্রতি মাসে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কমপে ৭০ লাখ টাকা। এসব নম্বরবিহীন যানে বহন করা হচ্ছে অবৈধ পণ্য, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র। এ বাহনে করে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় পাচার হচ্ছে ওষুধ, সয়াবিন, পেট্রোল, ডিজেল, মাছসহ নানা পণ্য। আর ভারত থেকে  আসছে শাড়ি, থ্রি-পিছ, থান কাপড়, মাদক দ্রব্য।

এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘জেলায় ভারত সীমান্তে চোরাচালানের প্রধান বাহন এখন এ নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিক্সা। এছাড়া এ সকল অটোরিক্সা ব্যবহার করে আশপাশের জেলা চাঁদপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, লীপুরে চোরাচালানকৃত বিভিন্ন ধরনের আইটেম এবং মাদকদ্রব্য পাচার করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিআরটিএ-র সহকারী পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে জানান, ‘মানুষ এ সকল সিএনজি অটোরিক্সা ক্রয় করার সাথে সাথে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের মোহে যাত্রী বহনের জন্য রাস্তায় নামাচ্ছে। এক্ষেত্রে কখনো দেখা যাচ্ছে, দুর্বৃত্তরা চালককে অপহরণ করে হত্যা শেষে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। কখনো যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। কখনো কখনো এ সকল অটোরিক্সাযোগে অবৈধ চোরাচালানের মালামাল, মাদক ইত্যাদি পরিবহন করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, ‘আমাদের জনবল খুবই সামান্য। আমাদের পে অবৈধভাবে চলাচল করা সিএনজিচালিত অটোরিক্সা আটক করা সম্ভব না। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পুলিশের সহযোগিতা পেলে আমরা নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করতে পারবো।’

সেই সঙ্গে তিনি অটোরিক্সা মালিকদের নিবন্ধন ছাড়া রাস্তায় গাড়ি না নামানোর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১০

ডিসি হিল সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি
বিশ্বকাপ নয়, আপাতত বিপিএল নিয়েই ভাবছেন সানি
ধরে নিয়ে যাওয়া ২ জেলেকে ফেরত দিলো বিএসএফ
মৌসুমের শুরুতেই ভোলায় জেঁকে বসেছে শীত
মঞ্চ প্রস্তুত, উদ্বোধনের অপেক্ষা


চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মাহফুজুর রহমান খান
ঢাকায় তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির মহাসমাবেশ ৩ এপ্রিল
সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও মারা গেলেন বাবা
বরিশালে ই-নামজারি বিষয়ক কর্মশালা
বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেহাল দশা