php glass

উত্তোলন পদ্ধতি নির্দিষ্ট না করেই খসড়া কয়লানীতি চূড়ান্ত, বিদেশি কোম্পানির স্বার্থরক্ষার আশঙ্কা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

অবশেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে খসড়া কয়লানীতি। তবে খনন পদ্ধতি কী হবে তা খসড়া নীতিতে নির্দিষ্ট করা হয়নি।

ঢাকা: অবশেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে খসড়া কয়লানীতি। তবে খনন পদ্ধতি কী হবে তা খসড়া নীতিতে নির্দিষ্ট করা হয়নি।  এতে শুধু বলা হয়েছে, আবিষ্কৃত কয়লাখনির ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামো, ভূ-গঠন ও প্রকৃতি বিবেচনায় রেখে কারিগরি এবং অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি মাসের যে কোনো সময়ে এ খসড়া নীতি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলনের  সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে এশিয়া এনার্জি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন ও পুলিশের গুলিতে ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।  বহুল বিতর্কিত এই উন্মুক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে বহুজাতিক কোম্পানি লাভবান হলেও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করে আসছেন।  পদ্ধতি নির্দিষ্ট না করা হলে প্রকারান্তরে বহুজাতিক কোম্পানিরই স্বার্থরক্ষা করবে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, খসড়া নীতিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার আগে এ মাসেই আরও একবার সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হবে।

পাঁচ পৃষ্ঠার এ খসড়া কয়লানীতি ২০০৭ সালের জুন মাসে প্রণীত ৩৩ পৃষ্ঠার খসড়ানীতির সংক্ষিপ্তসার। নতুন খসড়া নীতিতে কয়লা উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, ‘ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতি/উন্মুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে খনি উন্নয়ন করা হবে।’

এরপর উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি উন্নয়ন না করার ঘোষণা দেয় তৎকালীন সরকার।

২০০৭ সালের খসড়া কয়লানীতির উপর রিভিউ রিপোর্ট প্রদানকারী জ্বালানী বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে আজ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’কে বলেন, ‘২০০৭ সালের খসড়া কয়লানীতির উপর রিভিউ রিপোর্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়। আমি তখন ২৬ পাতার রিপোর্টের নানা অসঙ্গতির উপর ২৮ পৃষ্টার মতামত দিই। এরপর থেকেই আমার সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব তৈরি হয়। ’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি খসড়া কয়লানীতি চূড়ান্ত করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কেউই আমাদের বিষেশজ্ঞদের মতামত নেয়নি। বরং আমি নিজ থেকে খসড়া কয়লানীতি দেখার জন্য এ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থানে যোগযোগ করলে তারা আমাকে জানান বিষয়টি খুবই গোপনীয়। ’

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বর্তমান কয়লানীতির খসড়াটি আমি দেখিনি। তারপরেও তাদের গোপনীয়তা দেখে সন্দেহ হয়। মূলত: ফুলবাড়ি কয়লা খনি কিভাবে এশিয়া এনার্জিকে এবং বড়পুকুরিয়া কিভাবে ভারতের টাটা কোম্পানিকে দেওয়া যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বর্তমানে দেশে আবিষ্কৃত কয়লাখনির সংখ্যা পাঁচটি। এর মধ্যে জামালগঞ্জ কয়লাখনি ছাড়া বড়পুকুরিয়া, খালাসপীর, ফুলবাড়ি ও দীঘিপাড়া কয়লাখনিতে মোট মজুদের পরিমাণ ১ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন টন। জামালগঞ্জ কয়লাখনির গভীরতা বেশি হওয়ায় এখনও এর মজুদ পরিমাপ করা হয়নি।

খসড়া কয়লানীতিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোকে শক্তিশালি করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনবোধে কয়লা ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

দেশের জ্বালানী নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ও প্রত্যক্ষ দেশি/ বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলেও খসড়া কয়লানীতিতে উল্লেখ রয়েছে। দেশি-বিদেশী যৌথ বিনিয়োগকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

খসড়া কয়লানীতি প্রসঙ্গে গত রোববার ভারপ্রাপ্ত জ্বালানী সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’কে বলেন, এটা গোপনীয় বিষয়। এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাবে না। কয়লানীতির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশিত হলেই জানতে পারবেন কি কি থাকবে।

পাচঁ পৃষ্টার খসড়া কয়লানীতির বাস্তবায়ন কৌশল অনুচ্ছেদে যৌথ বিনিয়োগকারী নিয়োগ করা; বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া; আবিস্কৃত কয়লা ক্ষেত্র এবং সম্ভাব্য কয়লা সমৃদ্ধ অঞ্চল নিয়ে ‘কয়লা অঞ্চল’ গঠন করা; খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা; কয়লা ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন; মাস্টার প্ল্যাান তৈরি করা এবং লিজগ্রহণকারীকে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

কয়লা উত্তোলন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আবিষ্কৃত কয়লাক্ষেত্রের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো, ভূ-গঠন ও প্রকৃতি বিবেচনায় রেখে কারিগরি এবং অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যা পদ্ধতি অনুসরণ করে কয়লা উত্তোলন করা হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে লিজগ্রহণকারীকে কয়লা উত্তোলন করতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কয়লা উত্তোলন, অনুসন্ধান, কয়লার মজুদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিজকে বাংলাদেশের পরিবেশ সংক্রান্ত আইন মেনে চলতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে বিধিমালা নেই সেক্ষেত্রে ‘ইকুয়েটর প্রিন্সিপল’ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে খনি উন্নয়নে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে তা প্রশমনসহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার সকল কার্যক্রম নিজস্ব ব্যয়ে লিজগ্রহতিা কোম্পানিকে করতে হবে।

খনি পুনরুদ্ধার, পূর্নবাসন ও ব্যবহার সর্ম্পকিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লীজিকে পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান/খনন কার্যক্রম চলাকালে ভূমি পুনরুদ্ধার এবং পূনর্বাসনকাজ খনি এলাকা ত্যাগের আগেই শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে এর ব্যয়ও বহন করতে হবে। পরিবেশ আইন ও বিধিমালা এবং ইকুয়েটর প্রিন্সিপল-এর আলোকে প্রণীত পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করে খনি উন্নয়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের ভূমি, ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের মূল্যায়েনের জন্য আলোচনাক্রমে জনসাধারণকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে লিজগ্রহীতা কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

বিনিয়োগ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে কয়লা অনুসন্ধান, উন্নয়ন, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ও প্রত্যক্ষ দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে। এজন্য কয়লা খাত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, খনি উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তাকে স্বাগত জানানো হবে।

কয়লার রয়্যালিটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,  সরকার সময়ে সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে উত্তোলিত কয়লার রয়্যালিটি নির্ধারণ করবে। প্রতিটি কয়লাখনির মাইনিং লিজ (উত্তোলন ণিজ) দেওয়ার আগে সরকার প্রয়োজনবোধে রয়্যালিটির নতুন হার নির্ধারণ করতে পারবে।

খসড়ায় আলাদা কয়লা তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, কয়লা খাতের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সরকারি অনুদানে একটি কয়লা তহবিল গঠন করা হবে। এছাড়া কয়লা খনি উন্নয়নে ডাকা দরপত্র খাত থেকে টাকা, লিজির কাছ থেকে প্রাপ্ত গবেষণা এবং উন্নয়ন ফি ও অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অনুদানের টাকা কয়লা তহবিলে জমা হবে।

কয়লা খনির লিজিকে আর্থিক সুবিধাদি দেওয়ার ক্ষেত্রে খসড়া কয়লা নীতিতে বলা হয়, কয়লা অনুসন্ধান ও উন্নয়ন আগে লিজি কর্তৃক আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি, মালামাল, খুচরা যন্ত্রাংশের শতকরা ১০ শতাংশ ও পুনঃ রপ্তানিযোগ্যা মালামাল ইত্যাদি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হবে। করপোরট ট্যাক্স, আয়কর ও ভ্যাটসহ সকল প্রকার ট্যাক্সের ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রচলিত বিধি বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে করপোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ৭ বছরের জন্য কর মওকুফ করা হবে।

ক্ষতিপূরণ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কয়লাক্ষেত্র উন্নয়নকালে লিজির গাফলতি বা অসাবধানতার কারণে খনির কোনো ক্ষতি হলে, বিশেষ করে অবকাঠামো ও পরিবেশগত কোনো ক্ষতি হলে সেক্ষেত্রে খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা ১৮৬৮ এর বিধি ১৮ অনুযায়ী লিজিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ১৮২৬, জুলাই ৭ ২০১০।

সিংড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
জামালপুরে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৫২ সে. মি. ওপরে
এইচএসসি পরীক্ষার ফল দেখা হলো না মইনুলের 
সিরাজগঞ্জে রিং বাঁধ ধসে ৫ গ্রাম প্লাবিত
চাঁদে অবতরণের ৫০ বছর পূর্তিতে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প-সভা 


রেলে যুক্ত হচ্ছে জার্মানির তৈরি আধুনিক কিরো ক্রেন
গ্রেফতারের আগে দেশবাসীকে যে বার্তা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা
বাচ্চা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন নারী 
প্রস্তুত বেনাপোল এক্সপ্রেস, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ডেঙ্গু নিধনে অনেক চ্যালেঞ্জ: মেয়র আতিকুল