php glass

চট্টগ্রামে প্রতি হাজার মানুষের নিরাপত্তায় এক জন পুলিশ!

৩২ বছরে সিএমপির জনবল বেড়েছে এক হাজার

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বন্দরনগরীর জনসংখ্যা গত ৩২ বছরে বেড়ে ৫২ লাখে দাঁড়ালেও পুলিশের জনবল বেড়েছে মাত্র এক হাজার। জনসংখ্যার অনুপাতে বর্তমানে এক হাজার মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ আছে মাত্র একজন।

চট্টগ্রাম : বন্দরনগরীর জনসংখ্যা গত ৩২ বছরে বেড়ে ৫২ লাখে দাঁড়ালেও পুলিশের জনবল বেড়েছে মাত্র এক হাজার। জনসংখ্যার অনুপাতে বর্তমানে এক হাজার মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ আছে মাত্র একজন।

৩২ বছর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠার সময় জনসংখ্যা অনুপাতে প্রতি ৩০০ মানুষের জন্য পুলিশ ছিল একজন।

১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর ৬টি থানা ও তিন হাজার ৬২২ জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি। তখন মহানগরীর জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখ।

৩২ বছরে জনসংখ্যা ও অপরাধের হার ও ধরণ বাড়লেও সে অনুপাতে সিএমপির জনবল না বাড়ায় নগরীর আইন-শৃংখলা রা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ০৪ ডিসেম্বর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে সিএমপি।
 
সিএমপি সূত্র জানায়, মঞ্জুরিকৃত ৫ হাজার জনবলের মধ্যে সিএমপিতে বর্তমানে সাড়ে চার হাজার জনবল নিয়োজিত আছে। এর মধ্যে মাত্র দুই হাজার জনবল সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। ছুটি, প্রশিণ ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২০ শতাংশ কর্মেেত্র উপস্থিত থাকতে পারেন না। সব মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ৫২ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় আছে মাত্র দেড় হাজার পুলিশ।
 
বাকি আড়াই হাজারের মধ্যে আড়াই শ’ রয়েছে  ৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা- কেপিআই’র (কি ইন্সটলেশন পয়েন্ট) দায়িত্বে, এছাড়া শিল্প পুলিশের দায়িত্বে দেড় শ’, ভিভিআইপিদের (রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকদের) প্রটোকল অ্যান্ড প্রটেকশনের জন্য নির্ধারিত ৯০ জন, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে চারটি টিমে থাকে ২০০ পুলিশ সদস্য। বাকি পুলিশ সদস্যরা পুলিশ কন্ট্রোল রুম, রিজার্ভ অফিস, দামপাড়া পুলিশ লাইন, বোমা ইউনিট, পোশাক ভাণ্ডার, রেশন স্টোর ও বিভিন্ন পুলিশ অফিসে দায়িত্ব থাকে।  

এর পাশাপাশি আদালত ও আসামি আনা-নেওয়ার জন্য পাঁচ প্লাটুন পুলিশ এবং চট্টগ্রাম সফররত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটি চেয়ারম্যানদের প্রটোকলের জন্য ৭টি দলকে সার্বনিক প্রস্তুত রাখতে হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কাশেম বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানে প্রতি ৪০০ জনের জন্য এক জন পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু  ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পুলিশের সংখ্যা জনসংখ্যা অনুপাতে রয়েছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ। গত ৩০ বছরে এই নগরীর জনসংখ্যা চারগুণ ও  যানবাহন ১০ গুন বাড়লে সিএমিপর জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। এছাড়া অপরাধ প্রবণতা ও অপরাধের তীব্রতা ও নাগরিক জটিলতা বাড়ছে  প্রতিনিয়ত।  তার ওপরে রয়েছে যানবাহনের অপ্রতুলতা। এত সীমিত লোকবল দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধের  সঠিক তদন্ত করা খুবই কঠিন। তারপরও সাধ্যের মধ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ক্রাইম ফাইট করতে হলে আমাদের থানা ও পুলিশ ফঁড়ির লোক ও যানবাহন বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি ৫০০ জনে এক জন পুলিশ রাখা হলে আমাদের জনবল বাড়াতে হবে ১২ হাজার। বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ ১২টি থানায় ৬৮টি মোবাইল টিম থাকলেও গাড়ির অভাবে প্রতিটি থানায় মাত্র দুটি টিম কাজ করছে এবং পায়ে হেঁটে টহল দিতে হচ্ছে।’

সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ময়নুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালে সিএমপিকে আপগ্রেড করে ৬৪৩৮ জনের নতুন জনবল প্রস্তাব করা হলেও সেটা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অপেক্ষায় রয়েছে।
 
প্রস্তাবিত জনবলে সিএমপির ক্রাইম ডিভিশন বাড়িয়ে দুটি থেকে চারটি, ট্রাফিক ডিভিশন দুটি এবং ৩টি যুগ্ম কমিশনার পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির মতো চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের পদ আপগ্রেড করে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের পদ আপগ্রেড করে উপ-মহাপরিদর্শক করার প্রস্তাব করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার পদ ৬টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টি, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ২টি থেকে বাড়িয়ে ১৯টি, সহকারী পুলিশ কমিশনার ২০ থেকে ৪০, ইন্সপেক্টর পদ ৭৪ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ জন করার প্রস্তাব করা হয়।
 
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে ৬০০ পোশাক কারখানা, দেশের অর্থনীতির প্রাণ বন্দর ও সরকারি বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এছাড়া ১৯৯০ সালে নগরীর মোট যান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯ হাজার, ২০১০ সালে তা বেড়ে হয়েছে  ১ লাখ ১৯ হাজার। ফলে নগরীরতে অপরাধের মাত্রা, তীব্রতা, ধরন দেশের অন্যান্য নগরীর চেয়ে ভিন্ন। এর পাশাপাশি শিল্প কারখানার শ্রমিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক অস্তিরতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সহিংসতা, জঙ্গিবাদসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জনবল ও যানবাহন বাড়ানো না হলে সামনের দিনগুলোতে কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে সিএমপিকে।

বাংলাদেশ সময় : ২০০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০১০

ksrm
মেঘনা গ্রুপের ভ্যাট ফাঁকি ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা
নিষিদ্ধের পরও এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি করছে মেঘনা গ্রুপ!
মানিকগঞ্জে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
মধুপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা
ক্যাসিনো: তদন্ত হচ্ছে, সবই ধরা হবে: প্রধানমন্ত্রী


টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূ নিহত,আহত ২
দুর্নীতির দায়ে ডোমারে রেল স্টেশন বুকিং সহকারী বরখাস্ত
রাবির চিত্রকলা বিভাগের ফল পুনঃমূল্যায়নের দাবি
গণধর্ষণ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন
ফের হাতি, আতঙ্কে ৬ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ