php glass

‘প্যাটের মইদ্যে হরতাল দিবো ক্যাডায়’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

‘দ্যাশের মইদ্যে হরতাল দেওন যায়, কিন্তুক প্যাটের মইদ্যে হরতাল দিবো ক্যাডায়’ শাহবাগ এলাকায় ফুটপাতের ভাত বিক্রেতা মনজিলা বেগম হরতালে তার ব্যবসা চালাতে পারেননি বলে এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করলেন।

ঢাকা : ‘দ্যাশের মইদ্যে হরতাল দেওন যায়, কিন্তুক প্যাটের মইদ্যে হরতাল দিবো ক্যাডায়’ শাহবাগ এলাকায় ফুটপাতের ভাত বিক্রেতা মনজিলা বেগম হরতালে তার ব্যবসা চালাতে পারেননি বলে এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। হরতাল চলার সময় দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিরস মুখে তিনি ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। হতাশার সুরে বললেন, ‘বেচাবিক্রি না হইলে পোলাপাইন লয়া খামু কী। হরতাল যে ব্যাডারা দেয় হ্যাগো ঘরে মেলা আছে, আমগো কী আছে।’

মরজিলা বেগমের মতো যারা ুদ্র দোকানি, ফুটপাত সংলগ্ন হোটেল ব্যবসায়ী কিংবা হকার, যাদের সংসার দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল তাদের জন্য হরতাল অনেকটা জগদ্দল পাথরের মতো।

হরতালের কারণে এদের কারো কারো ঘরে হয়তো আজ উনুনও জ্বলবে না। কেউ কেউ আবার কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে না পেরে, বউ ছেলেমেয়ের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে হরতালের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতোই রোজগারের সন্ধানে নিয়োজিত করেছেন নিজেকে।

হরতাল চলাকালে কথা হলো পুরানা পল্টন মোড়ে ফুটপাতে বই বিক্রেতা আজিজের (৪৫) সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রতিদিন যা বিক্রি হয় তা দিয়েই তার সংসার চলে। হরতালের কারণে এখানকার বই ও পুরনো পত্রিকা বিক্রেতাদের অনেকেই আজ তাদের পসরা সাজিয়ে বসেননি।
 
কথা প্রসঙ্গে আজিজ বলেন, ‘হরতালে ঘরে বসে থাকলে খাবো কী? যদিও আজ তেমন বিক্রি-বাট্টা হবে না, তবু পরিবারের একবেলা খাওয়া তো হবে।’

আজিজের পাশেই বসে ছিলেন সোলেমান (২৩)। তিনি বই-পত্র সাজিয়ে বসবেন কি-না এখনো ঠিক করতে পারছেন না। তিনি বললেন, ‘দেখি না, কিছুক্ষণ। পরিস্থিতি কী হয়! আজিজ ভাই তো বসেছেন। কাস্টমার দেখলে আমিও খুলবার পারি। নয়তো শুধু শুধু খুলে লাভ কী!’

দৈনিক বাংলার মোড়ে সকাল থেকেই মুখ ভার করে বসে আছেন ফল বিক্রেতা মোখলেস মিয়া (৫৫)। দুপুর ১টা পর্যন্ত একটা ফলও বিক্রি হয়নি তার। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই প্রথমে ক্রেতা ভেবে বিক্রেতাসুলভ হাসি দিয়েছিলেন। পরক্ষণেই মলিন হয়ে যায় তার মুখ। আজ সকালে নাস্তাও জোটেনি তার। দিনশেষে কী নিয়ে বাড়ি ফিরবেন এ দুঃশ্চিন্তা তার পুরো অবয়বে। মোখলেস মিয়া বলেন, ‘এমনিতে অন্য সময় তার যা বিক্রি হয় এতে করে দিন চলে যায় কোনোরকম। কিন্তু আজ সকাল থেকে একজন ক্রেতারও দেখা পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু ফল আবার বেশিদিন রাখাও যায় না’।   

দিলকুশা এলাকায় ফুটপাতে বসে ঘড়ি মেরামত করেন হোসেন (২৮)। তার ভাষায়, ‘টুকটাক যা কামাই খারাপ না। দু’জনের সংসার চলে যায় মোটামুটি।’ আজ হরতালের দিনে তার স্ত্রী তাকে আসতে দিতে চায়নি। কিন্তু তবুও তিনি এসেছেন। পরিচিত দু’একজন কাস্টমার আজ আসার কথা। তারা এখনো আসেননি। এছাড়া অন্য কোনো কাস্টমারও আজ তিনি পাননি।

হরতালে আজ মতিঝিল অফিস পাড়ার আনাচে-কানাচে ভাত-রুটি বিক্রির দোকানগুলোর অধিকাংশই ছিল বন্ধ। তবে বন্ধ থাকলেও এদের কাউকে কাউকে আশে-পাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। কোনো ধরনের বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় তারা আজ ব্যবসা বন্ধ রেখেছে।   

তবে হরতালের মধ্যেও ব্যবসা একেবারে খারাপ যাচ্ছে না এমন ভাগ্যবান দোকানদারও রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে চা বিক্রি করেন আলী আহমেদ। তার চায়ের দোকানে ভিড় অন্যান্য দিনের মতো লেগেই আছে। জিজ্ঞেস করতেই হাসি মুখে জানালেন, তার বিক্রি খারাপ না।

এর বাইরে হরতালের মধ্যে খোলা ছিল পল্টন মোড়ের আজাদ প্রডাক্ট ও আইডিয়াল প্রডাক্টের শো-রূম দু’টি। জানতে চাইলে আইডিয়াল প্রডাক্টের এহতেশামুল হক চৌধুরী জানান, ‘হরতালের দিন আসলে বিক্রি হয় না। তবে খোলা রাখতে হয় বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানের কার্ড ডেলিভারি দেওয়ার জন্য’।

বাংলাদেশ সময় : ১৯২৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০ , ২০১০

ksrm
বাচ্চাকে মারপিটের নালিশ নিয়ে হনুমান দল থানায়!
মৃত ব্যক্তির বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করছেন নারী ইউপি সদস্য!
মুষ্টিমেয় শিক্ষক আন্দোলনের কলকাঠি নাড়াচ্ছেন
নকলায় বাসচাপায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত
জাতীয় নারী দাবায় শীর্ষস্থানে রানী হামিদ


আন্দোলনের মুখে ইবি প্রক্টরকে অব্যাহতি
ফরিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এনজিও কর্মকর্তা নিহত
বিজয়নগর সায়েম টাওয়ার থেকে আটক ১৭
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ছাগলনাইয়া পাইলট
ইয়েমেনের কাছে হেরে গেলো বাংলাদেশের কিশোররা