php glass

‘দরজা খুলতেই দেখি....মাকে কোপানো হচ্ছে’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কলেজছাত্রী মিতু আক্তার (১৮)। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে মা নূরজাহানকে কীভাবে ভাই শোভন খুন করল-তার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেওয়ার সময় মিতু দু’বার মূর্চ্ছা যান।

ঢাকা : আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কলেজছাত্রী মিতু আক্তার (১৮)।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে মা নূরজাহানকে কীভাবে ভাই শোভন খুন করল-তার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেওয়ার সময় মিতু দু’বার মূর্চ্ছা যান। সম্বিত ফিরে এলে সব হারানোর দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন শূন্যে।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে কদমতলী থানার রায়েরবাগের মেরাজনগরের ১০৪৪ নম্বর বাড়িতে গিয়ে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

ঘটনার পর থেকেই শত শত মানুষের ভিড় করছে মিতুদের বাড়ি। হাজির হয়েছেন আত্মীয়-স্বজনরাও। চাপা কান্নায় সেখানে রীতিমতো গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বাড়িতেই সকাল সোয়া ১০ টার দিকে ঘটে গেছে মর্মস্পর্শী ঘটনা। দুর্ভাগা নূরজাহান বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তারই আদরের ছেলে তানভীর হাসান শোভন।

কদমতলী থানার অপারেশন অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন মিতু।

মিতু বলেন, ‘হরতালের কারণে বাবা (মাহমুদুর রহমান) সকাল ১০ টার দিকে সায়েদাবাদের দোকানের উদ্দেশে বেরিয়ে যান। এর মিনিট চারেক পরেই ভাইয়া (শোভন) মায়ের কাছে গিয়ে টাকা চান। প্রায়ই বাইরে আড্ডাবাজির খরচের জন্য টাকা যোগাড় করতে মাকে চাপ দিত ভাইয়া। মা নানা রকম বকাঝকা করলেও নিজের জমানো টাকা ভাইয়াকে দিতেন।’

একটু থেমে মিতু আবার বলতে থাকেন, ‘যথারীতি মায়ের বকাবকি চলতে থাকে, পাশাপাশি ভাইয়াও হুমকি ধামকি চালাতে থাকে। দু’জনের ঝগড়াঝাটি না শুনতে পাশের রুমে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে পড়তে বসি। কিন্তু ৪/৫ মিনিট যেতে না যেতেই মায়ের তীব্র আর্তনাদ শুনে দরজা খুলতেই দেখি মার গলা- বুক-পিঠ ও পেটে একের পর এক কোপানো হচ্ছে।’

‘গলায় ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়ায় ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুতে দেখে আমি নিজেও দিশেহারা হয়ে পড়ি....আমি এভাবে রক্ত দেখিনি, এভাবে ছুরি মারতেও দেখিনি কাউকে। ভাইয়াকে থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ভয়ে আমার হাত-পা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিল। দিশেহারা অবস্থায় নিজের রুমে গিয়ে মোবাইল ফোনে বাবাকে কল দেই... বাবা,  শোভন ভাইয়া মাকে মেরে ফেলতেছে। নিজেও উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠি, খুলে দেই বাড়ির সদর দরজা।’

‘এরপর আর কিচ্ছু আমি জানি না, আর কিচ্ছু আমি বলতে পারবো না। শুধু জানি আমার মা শেষ। আমাদের সব কিছু শেষ।’ কাঁদতে থাকেন মিতু।

চোখের সামনে মাকে খুন হতে দেখে খেই হারিয়ে ফেলা মিতু শুধু বলতে পারলেন, ‘আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলাম...’

মিতু স্থানীয় দনিয়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলাল বাদী হয়ে নিজের ছেলে শোভনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শোভনের মানসিক সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বেকার থাকা নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে শোভনের বাদানুবাদ হতো।

ঘটনার পরপরই শোভন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এসআই আব্দুর রাজ্জাক।

স্থানীয়রা জানান, শোভন নিয়মিতই এলাকার বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মাদক সেবনের পাশাপাশি আড্ডা দিত। নেশার খরচ যোগাতে মায়ের ওপর প্রায়ই চাপ সৃষ্টি করতো। ঝগড়াঝাটিসহ সংসারের জিনিসপত্র ভাংচুরসহ নানা অশান্তি করতো শোভন।

বাংলাদেশ সময় ১৬৪০ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১০

ksrm
মেহেরপুরে মেয়েকে বিষপান করিয়ে মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা
ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বেনাপোল বন্দরে
পিটিয়ে হত্যা: চার্জশিটে ২৮ জন, ২১ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্যকে দুদকের নোটিশ
জোট থেকে জামায়াত বাদ দেয়া হবে অদূরদর্শিতা: এহসানুল হুদা


মহিমাগঞ্জ ইউপি উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী
হাঁস-গবাদিপশু ছাড়াই চলছে যুব কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ
বাতি অকেজো, হাতের ইশারায় চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থা
পর্যটন বিকাশে বিদেশে মেলা, আসছে নতুন নীতিমালা
উৎপাদনের আগেই বাজারজাত কেক!