php glass

ভারতীয় স্বামীকেই বেছে নিলেন নাটোরের মর্জিনা, কেঁদে ফিরলেন ঢাকার মামুন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বাংলাদেশ ও ভারতের দুই স্বামীর মধ্যে বিদেশি স্বামী আনছার হোসেনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন নাটোরের লক্ষীপুর গ্রামের মর্জিনা বেগম।

নাটোর: বাংলাদেশ ও ভারতের দুই স্বামীর মধ্যে বিদেশি স্বামী আনছার হোসেনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন নাটোরের লক্ষীপুর গ্রামের মর্জিনা বেগম।

ভারতীয় নারী-পাচারকারীদের হাত থেকে তাকে রক্ষাকারী ভারতের বনগাঁ এলাকার জিয়াউর রহমানের পুত্র আনছার হোসেনের গলায়ই নতুন করে বরমাল্য পরান মর্জিনা। মর্জিনার ইচ্ছায় গ্রামবাসী সোমবার দুপুরে নতুন করে তাদের বিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
 
এলাকাবাসী বাংলানিউজকে জানান, সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের মেয়ে মর্জিনা (১৮) দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নবীনগরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

গত ৩০ অক্টোবর নবীনগর এলাকার জব্বার আলীর পুত্র ট্যাক্সিচালক মামুন ওরফে বেলালের সঙ্গে বিয়ে হয় মর্জিনার। বিয়ের পর গত ১৪ নভেম্বর রাতে মামুনের বাড়ি থেকে অপহৃত হন মর্জিনা। ১৫ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকায় অপহরণকারীদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধারের পর বিয়ে করেন ট্যাক্সিচালক আনছার হোসেন।

বিয়ের পর ২৭ নভেম্বর ভারত থেকে আনছার ও মর্জিনা নাটোরে বেড়াতে আসেন। এদিকে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা মামুন এ খবর জানতে পেরে মঙ্গলবার সকালে লক্ষীপুর গ্রামে আসেন। তিনি সব কিছু জেনেও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চান।

কিন্তু মাত্র একমাস আগে বিয়ে করা বউ মর্জিনার মনের মন্দিরে ততদিনে স্থায়ী আসনে গেড়ে নিয়েছেন ভারতের আনছার। মর্জিনা জানান, তিনি ভারতীয় স্বামীর সঙ্গেই ঘর করতে চান। এ কথায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন মামুন।

মর্জিনার ঢাকার স্বামী মামুন বাংলানিউজকে জানান, স্ত্রী মর্জিনা অপহণের পর বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেছেন। নাটোরে এসে সব ঘটনা শোনার পরও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু ভাগ্যে না থাকায় একাই ফিরতে হচ্ছে বলে মঙ্গলবার বিকালের দিকে কাঁদতে কাঁদতে লক্ষীপুর গ্রাম ত্যাগ করেন মামুন।
 
অপরদিকে মর্জিনার ভারতীয় স্বামী আনছার আলী বাংলানিউজকে জানান, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাচারকারীরা অচেতন অবস্থায় মর্জিনাকে তার ট্যাক্সিতে করে কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছিল। বনগাঁ এলাকায় পাচারকারীরা খাবার খেতে হোটেলে যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা মর্জিনার জ্ঞান ফিরে আসে।

এ সময় মর্জিনা আনছারের কাছে জানতে চান, তিনি কোথায় আছেন। আনছার তাকে জানান, তিনি ভারতের বনগাঁয়ে আছেন। এরপর দু’জনেই বুঝতে পারেন, মর্জিনাকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর পাচারকারীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে মর্জিনাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান আনছার। এরপর মর্জিনার সম্মতিক্রমে একই দিন (১৫ নভেম্বর) তাকে বিয়ে করেন।
 
মর্জিনা বেগম বাংলানিউজকে জানান, পাচারকারীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করেছেন আনছার আলী। সব কিছু জানার পর তিনি তাকে বিয়েও করেছেন। আনছারকে নিয়ে তিনি আবার ভারত ফিরে যাবেন এবং সেখানেই সংসার করবেন।

খোলাবাড়িয়া ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসী মর্জিনার মত নেয়। মর্জিনা  আনছার আলীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত জানালে দুপুরে মামুন তাকে তালাক দেন। এরপর নতুন করে আনছার ও মর্জিনার বিয়ে দেওয়া হয়।

মর্জিনা-আনছার-মামুনের এ ঘটনায় অনেকগুলো প্রশ্ন দেখা দিলেও এলাকাবাসী মর্জিনা-আনছারের নয়া জুটিকেই মেনে নিয়েছে। চোখের পানিতে ভেসে ঢাকার নবীনগরে ফিরে এসেছেন মামুন।

এমনকি আনছার-মর্জিনার জুটি ভেঙ্গে যেতে পারে শংকায় থানা পুলিশকেও এ ঘটনা জানানো হয়নি। জানা গেছে, কয়েকদিন পর আনছার নিজ দেশে ফিরে যাবে মর্জিনাকে নিয়ে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১০

ksrm
নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
দেবীগঞ্জে কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
রাবির শিক্ষার্থী রাজু নিখোঁজ
বেনজেমার গোলে কষ্টার্জিত জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ
আগরতলায় চট্টগ্রামের শিল্পীদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী


পা দিয়ে ছবি এঁকে জাতীয় প্রতিযোগিতায় মোনায়েম
আটকের পর টিনুর বাসায় র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
দশজন নিয়ে অ্যাস্টোন ভিলাকে হারালো আর্সেনাল
বরিশালে জুয়ার আসর থেকে আটক ৮
রেকর্ড গড়ার ম্যাচে চেলসিকে হারালো লিভারপুল