php glass

মানিকগঞ্জের ১৫ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়দিনের টানা বৃষ্টিতে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।

মানিকগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়দিনের টানা বৃষ্টিতে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।

তীব্র স্রোত সরাসরি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় আঘাত হানছে। এসব উপজেলার নদীতীরবর্তী ১৫টি ইউনিয়নের ৫০টিরও বেশি গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ।

দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি-কে জানান, গত এক সপ্তাহে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ১৫০টি ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রাতষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও আবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে।

সোমবার সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যমুনার ভাঙনের মুখে রয়েছে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়টি হাটবাজার। চরকাটারী ইউনিয়নের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়। আতঙ্কে রয়েছে ভাঙনের শিকার বাচমারা ইউনিয়নের উত্তর খণ্ড, দক্ষিণ খণ্ড ও চর খারেঙ্গার মানুষ।

এদিকে শিবালয় উপজেলার যমুনা তীরবর্তী তেওতা, জাফরগঞ্জ ও বোয়ালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায়ও শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এখানে ঐতিহ্যবাহী জাফরগঞ্জ হাট ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের কবলে পড়েছে।

যমুনার প্রবল স্রোত জাফরগঞ্জে সরাসরি তীব্র আঘাত হানায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিশাল এলাকা জুড়ে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছেন আতঙ্কে বাঁধ এলাকার মানুষ। তারা রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন বাঁধ। আকস্মিক বিপদের আশঙ্কায় এলাকার অনেক নারী ও শিশুকে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাউবো বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালালেও তীব্র স্রোতের মুখে এগুলো কোনো কাজে লাগছে না।

শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-র এ চেষ্টাকে শুভঙ্করের ফাঁকি বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, পাউবো টাকা পানিতে ফেলছে। ভাঙন থামাতে হলে যমুনা নদীর উজানে টি-বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ফাঁটল ঠেকাতে বালুর বস্তার পরিবর্তে ‘বোল্ডার’ ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে গত সাত দিনে হরিরাম উপজেলার আজিমপুর, ধুলসূরা, সুতালড়ি, লেছড়াগঞ্জ, হারুকান্দি ও বয়ড়া ইউনিয়নের কমপক্ষে দুশোর বেশি বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ ব্যাপক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে বলে এলাকার বাসিন্দারা জানান।

উপজেলার চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষজন গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে। সেখানে তারা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব দুর্গত মানুষের জন্য সাহায্য দরকার। না হলে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ জনপ্রতিনিধি।

ভাঙন প্রতিরোধ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসিরউদ্দিন মোবাইল ফোনে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি-কে জানান, হঠাৎ করে এক সঙ্গে ১৫/১৬টি ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে পাউবো। বাঁধের ধস ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া হরিরামপুর, শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, বিকল্প হিসেবে নদীর উজানে ক্রস ড্যাম কিংবা টি-বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়া ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময়: ১২০৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০১০

৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত দিবস
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের টিআরএফ সেমিনার
৭ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস
হোয়াটস অ্যাপ আইডি হারাচ্ছেন কাশ্মীরের ব্যবহারকারী
কজনা’র সভাপতি অলোক বসু-সম্পাদক অনিমেষ কর


জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন শনিবার
আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল, টেলিপ্যাবের নিন্দা
বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্ম

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত
শাহ আমানতে ২১৬ কার্টন সিগারেট উদ্ধার