php glass

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে ধীরগতি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রাজধানীতে পুলিশ হেফাজতে মাত্র ৫ দিনে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি।

ঢাকা: রাজধানীতে পুলিশ হেফাজতে মাত্র ৫ দিনে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। ডিএমপি কমিশনার একেএম শহীদুল হক শিগগিরই তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাতে ধীর গতিতে এগোচ্ছেন।

তিনটি মৃত্যুর ঘটনাতেই ‘পুলিশের দাবিকৃত ঘুষ না দেওয়ায়’ নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতদের পরিবার।

এদিকে নিহতদের পরিবার-পরিজনকে ‘পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে এসব হুমকির পাশাপাশি ‘আপস’-করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক প্রকৃত ঘটনা তদন্তে রমনা ও গুলশান অঞ্চলে দুই উপ-কমিশনারকে প্রধান করে পৃথক কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির কার্যক্রম মনিটর করার জন্য সদর দপ্তরের একজন সহকারী কমিশনারকে প্রধান করে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়।

কিন্তু ঘটনার চার দিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের কাজ শুরুই করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৮ জুন সোমবার রাত ১১টায় মগবাজারের নয়াটোলা মধুবাগ এলাকা থেকে আটকের কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যান সিএনজি চালক বাবুল কাজী।

এ ব্যাপারে রমনা থানা পুলিশের বক্তব্য, সিএনজি ছিনতাইয়ের অভিযোগে তারা বাবুল গাজীকে আটক করে। থানায় নেওয়ার পথে বাবুল গাড়ি থেকে লাফিয়ে পালানোর সময় মাথায় আঘাত পায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বাবুলের স্ত্রী শোভা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন করা সিএনজি ঢাকায় চালাতো বলে রমনা থানার এসআই আলতাফ দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তার স্বামী অত্যাচার ও মামলার ভয়ে ৭০ হাজার টাকাও দেন ওই এসআইকে।

ঘটনার দিন বিকেল ৫টায় বাবুল ঘুষের আরও ২০ হাজার টাকা নিয়ে নয়াটোলার বাসা থেকে বের হন এসআইকে দেওয়ার জন্য। এতো কম টাকায় খুশি হতে পারেননি এসআই আলতাফ, তাই লাশ হিসেবে বাবুল কাজীর ঠাঁই হয় হাসপাতালে।

বাবুল হত্যার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-কমিশনার (এডিসি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড ও রাজধানীর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তদন্ত কাজ দ্রুত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত ১ জুলাই বৃহস্পতিবার গুলশানে পুলিশের সাথে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ ছিনতাইকারী অভিযোগে গুলিবিদ্ধ হন নয়ানগরের লিজা সাউন্ডটেক সিস্টেমের মালিক মিজানুর রহমান। শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার বক্তব্য, মিজান অনেকদিন ধরেই সহযোগীদের নিয়ে রূপালি রঙের গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-৩৮০৫) ছিনতাই করে আসছিল। বুধবার রাত সোয়া ১টায় গুলশান ২-এর ৪২ নম্বর রোডে তারা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। পুলিশ তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মিজান ও মানিক গুলিবিদ্ধ হয়।

পুলিশের এমন বক্তব্যের পর রাজধানীর থানাগুলোতে খোঁজ নিয়ে মিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নিহত মিজানের স্ত্রী তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, ২৯ জুন মঙ্গলবার রাতে বারিধারার নয়ানগর থেকে গাড়ি চুরির অভিযোগে পুলিশ তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর দারোগা আনিস এক লাখ টাকা দাবি করেন। ঘুষের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে গুলি করে খুন করে পুলিশ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিজান মারা যান।

মিজান হত্যা ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএ নাওয়াজ রোববার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। কমিটিকে দশ দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাঁদা না পেয়ে হত্যার যে অভিযোগ এ সম্পর্কে তার মন্তব্য ‘তদন্তেই বিষয়টি প্রমাণ হবে’।

এদিকে গত ২ জুলাই শুক্রবার মারা যান গাবতলী বাস টার্মিনালের টিকেট বিক্রেতা মজিবুর রহমান (৪২)। নিহতের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলারটেক এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। সারারাত নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সকালে অচেতন অবস্থায় মেলারটেক নয়াবাজারে এক নৌকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মারা যাওয়ার ১০দিন আগে মুজিবুরকে দারুস সালাম থানার এসআই হেকমতউল্লাহ ও মশিউরের নেতৃত্বে আটক করা হয়। ১৪ হাজার টাকা নিয়ে তখন তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, তার ভাই নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে এসআই মশিউর ও সায়েম আবার তাদের বাসায় এসে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে সবাইকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন তারা। তিনি জানান, এ ২০ হাজার টাকা না দেওয়ায় খুন হন মুজিবুর।

নিহতের ভাই আরও অভিযোগ করেন, থানা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেয়নি।

মজিবুর হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তার আরেক ভাই মো. জাকির জানান, মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু থানায় বারবার যোগাযোগ করেও তারা মামলার কোনো অনুলিপি নিতে পারেননি।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন দারুসসালাম থানার এসআই সায়েম, হেকমতউল্লাহ ও মশিউর রহমান এবং পুলিশের সোর্স নয়ন, কাজল ও মহিবুর।

মজিবুর হত্যা ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হুমায়ুন কবীর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ঘটনাস্থলের আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে।

তদন্ত শেষ না করে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না বলে জানান তিনি। ঘুষ না পেয়ে পুলিশ হত্যা করেছে এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ১১৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১০

পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হলে, আ’লীগ ছাড়াও দেশ চলবে: রাঙ্গা
‘তথ্য বিভ্রাট ও গোপন করাই দুর্নীতির কারণ ও উন্নয়নে বাধা’
ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড ভালো লাগে না: রাষ্ট্রপতি
‘অজয় রায় আমাদের জন্য পথ তৈরি করেছিলেন’
জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর, সম্পাদক লিয়াকত 


বিডিওয়াইইএ’র বার্ষিক সাধারণ সভা
৮ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার
শাজাহান খানের বক্তব্যে সরকার বিপদে পড়বে না: কাদের
লঙ্কানদের হারিয়ে সৌম্য-শান্তদের স্বর্ণ জয়
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল সেবায় জিপি-সৃজনী-ফেরাটম গ্রুপ