পুরুষশূন্য হয়ে গেছে রূপগঞ্জের অর্ধশত গ্রাম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রূপগঞ্জ থানার কায়েৎপাড়া, দাউদপুর ও সদর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত ২৪ মৌজার অর্ধশতাধিক গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

php glass

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে: রূপগঞ্জ থানার কায়েৎপাড়া, দাউদপুর ও সদর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত ২৪ মৌজার অর্ধশতাধিক গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

শনিবার দিনভর র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ, সেনা ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়া, র‌্যাব-পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষরা, বিশেষ করে অধিকাংশ যুবকই পালিয়ে গেছেন এলাকা ছেড়ে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আহতরা পর্যন্ত অজানা আতঙ্ক আর হয়রানির আশঙ্কায় গা ঢাকা দিয়েছেন।

শনিবার সারাদিনই রূপগঞ্জ, কায়েৎপাড়া ও দাউদপুর উত্তাল থাকলেও রোববার বিভিন্ন গ্রাম সরেজমিন ঘুরে থমথমে দৃশ্য দেখা গেছে। একদিন আগেই যেসব গ্রাম ও সড়ক ছিল হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষের দখলে রোববার সেখানে গুটিকয়েক প্রভাবশালী যুবক মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেছে। গ্রামগুলোর বাড়িঘরে মহিলা আর শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ দেখা যায়নি।

শনিবারের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জামালউদ্দিনের মৃত্যুর খবর বেলা ১২টার দিকে রূপগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে লোকজনের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে ইছাপুরে বাড়িয়াছনী গ্রামে কিছু জনতা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মোস্তফা জামালউদ্দিন (২৪) রূপগঞ্জ উপজেলার হরিনা নদীরপাড়া এলাকার মৃত রফিকউদ্দিনের ছেলে।

এদিকে সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ দুই জনের।

উপজেলার ইছাপুরে বাড়িয়াছনী গ্রামের দুটি বাড়িতে রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের আহাজারি। ওই গ্রামের মুদি দোকানী শহর আলী জানান, তার ছেলে মাসুদ (৩২) চা দোকানি। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসুদ এলাকাবাসীর সঙ্গে মিছিলে বের হয়। মিছিলটি ইছাপুর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তার স্বজনরা এগিয়ে গেলেও তাদের লাটিপেটা ও মারধর করা হয়।

মাসুদের বাড়ির প্রতিবেশী রেয়াজউদ্দিন জানান, তার ছেলে সাইদুর রহমান (২০) ফলের ব্যবসায়ী। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইদুর রহমানকে আশেপাশের লোকজন ডেকে নিয়ে যায়। পরে সাইদুর এলাকাবাসীর সঙ্গে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়। ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী মিছিলটিকে বাঁধা দেয়।

সাইদুর মিছিলের অগ্রভাগে এসে স্লোগান দিতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাইদুরকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে বলে তার বাবা রেয়াজউদ্দিন দাবি করেন। পরে গাড়িতে করে দুই জনকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে উভয় পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

এ দুইজন নিখোঁজ থাকলেও রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) ফোরকান শিকদার জানান, নিখোঁজের ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।

বাড়িয়াছনী গ্রামের বিলকিস আক্তার, চান্দু বানু, পিয়ারা বেগমসহ আরও কয়েকজন জানান, শনিবার ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ঘরছাড়া। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি-২) আখেরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে রূপগঞ্জ থানার এস আই সৈয়দ মুনছেফ আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৩ থেকে ৪ হাজার জনতাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বেআইনিভাবে জনতা লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর উপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সড়কে ব্যারিকেড ও জখমের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিশ্বাস আফজাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাহবুবুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সামসুদ্দৌজা, রূপগঞ্জ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা কাউনাইন, উপজেলার এসি ল্যান্ড রফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকাল থেকে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত ৩০০ পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ৪টি সেনা ক্যাম্পে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

পাড়াগাঁও গ্রামের বয়োবৃদ্ধা মালেকা বেওয়া (৬৫) বাংলানিউজকে জানান, শনিবার রাত থেকেই এলাকার পুরুষরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে দলে দলে পালিয়ে গেছেন। দু’চার জন যারা এলাকায় অবস্থান করছিলেন রোববার সকালে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মহড়ায় তারা আর থাকার সাহস পাননি। তারাও অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন।

মুসুরী গ্রামে পুড়িয়ে দেওয়া সেনা ক্যাম্প এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় চলছে পুলিশের টহল। আশপাশের বাড়িঘরে ছিল তালা ঝুলানো। সেনা ক্যাম্প সংলগ্ন বাড়িগুলোতে কোনো পুরুষ তো দূরের কথা, নারী-শিশুদেরও দেখা যায়নি।

তবে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোরকান শিকদার বাংলানিউজকে জানান, গ্রামগুলোতে পর্যাপ্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। থানা পুলিশ ও র‌্যাবের টহলও অব্যাহত আছে।

নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির অভিযোগে অজ্ঞাত তিন-চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে কাউকে হয়রানি বা কোনো ধরপাকড় করা হয়নি।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০১০

সাকিবকে নিয়ে তামিমের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ একাদশ
সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
‘কাটার দরকার নেই, ধানের ন্যায্য মূল্য চাই’
প্রেমিক আটক নিয়ে গ্রামবাসী-পুলিশ তুলকালাম
হারের পর গোমর ফাঁস, মধ্য প্রদেশ কংগ্রেসে দ্বন্দ্ব


এক ম্যাচ দিয়েই ভারতকে বিচার করতে চান না টেন্ডুলকার
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা নিয়োগ
রাজউকের বাধার পরেও উঠে গেলো ৮ তলা ভবন!
মাগুরায় ২ ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত দুই 
গাবতলী বাস টার্মিনালে নেই টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড়