মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তুলবেন না : প্রধানমন্ত্রী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ঠেকাতে গিয়ে দেশের মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তোলা ও বিপর্যয় ডেকে না আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদের শরৎকালীন অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি এ আহ্বান জানান।

php glass

ঢাকা: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ঠেকাতে গিয়ে দেশের মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তোলা ও বিপর্যয় ডেকে না আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদের শরৎকালীন অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি এ আহ্বান জানান।

এ সময় মহাজোটের সাংসদেরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেশের জনগণের দাবি। এই বিচার একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। এ বিচার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্য এবং যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার করতে বিরোধীরা ওঠেপড়ে লেগেছে।’
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে গিয়ে মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তুলবেন না। গোটা জাতি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। এতে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দেশ বিভক্ত হচ্ছে এটি কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার অব্যাহত থাকবে। পরের প্রজন্মও যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে পেলে বিচার করবে।’

বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হানাহানির কথা বলে তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। তার স্বামী জিয়াউর রহমান যাদের কাঁধে চেপে ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের কতজনকে হত্যা করা হয়েছে? আপনার স্বামী কতজন, সেনাকর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা করেছেন সে তালিকা দিন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে হানাহানির দিকে নিয়ে যাবেন না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে টিকে থাকার জন্য কর্নেল তাহেরসহ হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছিলেন। এসব হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হবে।’

আগামী অধিবেশনে বিরোধীদলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল সংসদে আসেনি এটা দুঃখজনক। তারা থাকলে গণতন্ত্র সুসংহত হতো। কিন্তু দেশের মানুষ যখন আশার আলো দেখছে তখন তারা সংসদে না এসে বাইরে থেকে অনেক কথা বলছে। তারা কেন সংসদে এলো না সেটা আমার বোধগম্য নয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের জন্য পুরস্কার নিয়ে আসে। উনারা ক্ষমতায় থাকলে তিরস্কার নিয়ে আসেন। মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আছে বলেই আমরা এই পুরস্কার আনতে সক্ষম হয়েছি।’

আওয়ামী লীগের ১৮ মাসের সময় হানাহানিতে বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মী হত্যা হয়েছে এ অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০ হাজার নেতাকর্মী যে হত্যা হয়েছে তার তালিকা দিন।’

দুনীতি দমনে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে দুদক যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। সরকার এ বিষয়ে হাত দেবে না।’

খাদ্য মজুদ সন্তোষজনক দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝে মাঝে উৎপাত শুরু হয়। বিদ্যুতের লোডশেডিং, যানজট, চাল সংকট এগুলো কেন হচ্ছে তার খোঁজ খবর আমরা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণকে কথা দিয়েছি ক্ষমতায় গেলে চালসহ অন্যান্য দ্রব্যের দাম সহনশীল পর্যায় রাখবো। বিদ্যুৎ ও যানজট সমস্যা দূর করতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিসহ নতুন ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ১৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কার্যক্রম চলছে। ২০১১ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রীডে এ বিদ্যুৎ যোগ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি তখন ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গেছি। বিগত বিএনপির আমলে নতুন ভাবে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় নি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময় গ্যাস উৎপাদন ছিল ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, এখন ১৯০ তে নিয়ে এসেছি। নতুন আরও পাঁচটি গ্যাস কুপ খননের প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়েছি। কর্মচারীদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৬, ২০১০

ভালোবাসা ও সহযোগিতায় ছোঁয়া সুস্থ জীবন ফিরে পাবে
বিএনপিকে বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না
বিএনপি সবকিছুতে সরকারের ছায়া খুঁজছে: আইনমন্ত্রী
দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পেলেন ক্যালিস
আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৪০ শ্রীলঙ্কানকে খুঁজছে পুলিশ


ত্রিপুরায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
মেলায় ১০০ লিচু ৪০০ টাকা!
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল
এবার বিগ ব্যাশ থেকেও ওয়াটসনের অবসর
৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাকিরাও শপথ নেবেন, আশা হানিফের