ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭, ০৫ মার্চ ২০২১, ২০ রজব ১৪৪২

জাতীয়

বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস মঙ্গলবার

আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০০৪ ঘণ্টা, মে ৮, ২০১২
বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস মঙ্গলবার

ঢাকা: বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট (রেডক্রস) দিবস ৮ মে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিবসটি।

দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইয়ুথ অন দ্য মুভ’।  

বিশ্ব রেডক্রস আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হেনরি ডুনান্ট। ১৮২৮ সালের ৮ মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১০ সালে এই মানবতাবাদীর মৃত্যুর পর থেকে তার জন্মদিন ৮ মেকে সম্মান জানাতে বিশ্বব্যাপি ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলক সেবা, একতা, নিরপেক্ষতা এবং সার্বজনীনতা- এ সাত মূল মন্ত্রকে ধারণ করে সেবাধর্মী কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান রেডক্রস সোসাইটি নামে প্রতিষ্ঠনটি এদেশে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেডেক্রস সোসাইটি নামে পরিচিত হয় সংস্থাটি। ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামকরণ করা হয়।

দেশের সব প্রাকৃতিক দূর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য সংস্থাটির অবদান ছিল উল্লেখ করার মতো।  

ঐতিহাসিক ইতিবৃত্ত:  
সুইজারল্যান্ডের জিন হেনরি ডুনান্ট আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৯ সালে উত্তর ইতালির সলফেরিনো অঞ্চলে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ইতিহাসের নৃশংসতম যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৮৬২ সালের নভেম্বরে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডুনান্ট ‘সলফেরিনো স্মৃতি’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন।

এর এক বছর পর হেনরি ডুনান্ট তার ৪ বন্ধুকে নিয়ে ‘কমিটি অব ফাইভ’   গঠন করেন। এর ধারাবাহিকতায় মানবকল্যাণ আর সেবার ব্রত নিয়ে ১৮৮৩ সালে তিনি রেডক্রসের গোরাপত্তন করেন। একই সঙ্গে তিনি সংস্থাটির সেক্রেটারির দায়িত্বগ্রহণ করেন।

তবে মুসলিম দেশগুলোতে ‘রেডক্রস সোসাইটি’ ‘রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি’ নামে কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৬৫ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ২০তম আন্তর্জাতিক রেডক্রস সম্মেলনে গৃহীত হয় রেডক্রস আন্দোলনের মৌলিক নীতিমালাসমূহ। এই ৭টি নীতিমালার উপর ভিত্তি করেই রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ৬৪টি জেলায় ও ৪টি বিভাগীয় শহরে সর্বমোট ৬৮টি ইউনিট রয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে সংস্থাটি।

দিবসের কর্মসূচি:
দিবসের শুরুতে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সংস্থার সদর দপ্তরে জাতীয় ও রেড ক্রিসেন্টের পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি জাতীয় জাদুঘর হয়ে প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হবে।

সকাল ১০টায় হবে ধানমণ্ডির অঁলিয়াস ফ্রঁসেজে স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি।

দুপুর ১২টায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ ও বিকেল ৪টায় হাসপাতালের মিলনায়তনে আলোচনা ও রেডক্রিসেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১২
সম্পাদনা: ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa