পদ্মা গিলে খাবে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙ্গতে ভাঙতে পদ্মা এখন কুঠিবাড়ি থেকে মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে দূরে এসে দাঁড়িয়েছে।

কুষ্টিয়া: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙ্গতে ভাঙতে পদ্মা এখন কুঠিবাড়ি থেকে মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে দূরে এসে দাঁড়িয়েছে।

ভাঙনরোধে জরুরী ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই কুঠিবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এ অবস্থায় পানি উন্নয়ণ বোর্ড (পাউবো) শিলাইদহ কুঠিবাড়ির বাস্তবিক পরিস্থিতি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর পর গত শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেছেন, ‘কুঠিবাড়ি রাক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, রবীন্দ্রস্মৃতিধন্য কুঠিবাড়ি আগামী কয়েক বছরেই পদ্মা গিলে খাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙন শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি থেকে ৫ শ’ মিটারের মধ্যে এসে পৌঁছেছে।

কুষ্টিয়ায় গড়াইমুখ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর টেক থেকে শুরু হয়েছে ভাঙন। অপরদিকে ভেড়ামারায় পদ্মার ওপর দিয়ে লালনশাহ সেতু নির্মাণের পর থেকে ভাঙ্গনের আওতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক সময় পদ্মা পাবনা জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অব্যাহত ভাঙ্গনে নদীর মূল অংশ এখন কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে বইছে।

শিলাইদহঘাট সংলগ্ন বাড়ির মালিক লোকমান হোসেন জানান, মাত্র ২০ বছর আগেও কুঠিবাড়ি থেকে পদ্মা ছিল তিন কিলোমিটার দূরে। আজ সেই নদী শিলাইদহঘাট ভেঙ্গে পুরো গ্রামের মধ্য প্রবেশ করছে প্রায়। একটু পশ্চিমে নদীর ভাঙন থেকে কবিগুরুর কুঠিবাড়ির দূরত্ব মাত্র কয়েক শ’ মিটারে এসে দাঁড়িয়েছে।
 
স্থানীয়রা জানালেন, লালন শাহ সেতু হওয়ার পর থেকে পদ্মার গতিপথ বদলে গেছে। নদীটি এখন কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়নের উপর আছড়ে পড়ছে। এর প্রভাবে হরিপুর, বোয়ালদহ, বেড়কালোয়া, কালোয়া, শ্রীকোল, কান্দাবাড়ি ও কসবাসহ (শিলাইদহ) আশপাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে ব্যাপক আকারে। ভাঙ্গনে ফসলি জমিসহ গাছপালা, স্কুল, মাদ্রাসা, পাকা ঘর-বাড়ি ও বসতবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানালেন, নদীর ভাঙ্গন রোধ করা খুবই কঠিন। তারপরেও বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়িকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সম্ভাব্য সবকিছু করা দরকার। প্রতিদিন কুঠিবাড়িকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিতি হন শিলাইদহে। কুঠিবাড়ির কারণে শিলাইদহ ধন্য।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে পাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বাংলানিউজকে জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

তিনি জানান, বিগত ২৫-৩০ বছরে পদ্মার ভাঙনের গতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় আগামী ৪/৫ বছরের মধ্য এই নদী কুঠিবাড়িকে গ্রাস করে ফেলবে।

প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘বেড়কালুয়া থেকে শিলাইদহের অবস্থা ভয়াবহ। একদিকে পদ্মা অন্যদিকে গড়াই নদীর ভাঙনের ফলে উভয় নদী ক্রমশ এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পদ্মা শিলাইদহের কুঠিবাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে।’

তবে তিনি জানান, জরুরি পদক্ষে নিলে কুঠিবাড়িকে রা করা অসম্ভব হবে না।

বিশেষজ্ঞেদের মতে, গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ অথবা স্থায়ী প্রতিরামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কুঠিবাড়িসহ বড় একটি এলাকাকে পদ্মার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচানো সম্ভব।

প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার জানান, একাজে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর এতে কোনও বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। সরকার একটুখানি আন্তরিক হলে নিজস্ব তহবিল থেকেই তা করা যায়।

বাংলাদেশ সময়: ০৬২২ ঘণ্টা, অক্টোবর ০২, ২০১

Nagad
নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
বিপিও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান পলকের
বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালা সংস্কারের পরামর্শ
ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড, হাসপাতাল সিলগালা
পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১,৫৬০ জন


নভোএয়ারে ভ্রমণ করলে ফ্রি কাপল টিকিট
‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন!
সব বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, বন্যার অবনতি
অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প
খুলনায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ৭৩, মোট ৩১০৮