শিশুমৃত্যু হ্রাসসহ ৩ সূচকে অগ্রগতি নেই

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

গত ১০ বছরে দেশের পরিবর্তন হয়নি পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং প্রজনন বা মা-শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার। এই তিনটি সূচকে বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি নেই ।

ঢাকা: গত ১০ বছরে দেশের পরিবর্তন হয়নি পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং প্রজনন বা মা-শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার। এই তিনটি সূচকে বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি নেই ।

বৃহস্পতিবার বিকালে সোস্যাল ওয়াচের ‘বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১০’ সচিবালয় উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক তৈয়াবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উন্নয়ন সমন্বয়ের কোয়ালিশন সদস্য ড. রাশেদা কে চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘এমডিজির লক্ষ্যগুলোকে বাংলাদেশে এখনও রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া এমডিজি রিপোর্টটি একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় রিপোর্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে রিপোর্টটির সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন উন্নয়ন সমন্বয়ের রিসার্চ ফেলো আখতার হোসেন।।

সোস্যাল ওয়াচের বার্ষিক প্রতিবেদন বলা হয়, শিশু মৃত্যুর হার, প্রজনন বা মা-শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এই তিনটি মৌলিক সক্ষমতা সূচকে ২০০০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬১ আর ২০১০ সালে তাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি।

তবে, একই সময়ে সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে সব চেয়ে ভাল সক্ষমতা অর্জন করেছে পাকিস্তান। তাদের মৌলিক সক্ষমতা সূচক হয়েছে ৫৫, আগে ছিল ৬৫। ভারতের মৌলিক সক্ষমতা সূচক হয়েছে ৭৩, যা আগে ছিল ৬৭। নেপালের  মৌলিক সক্ষমতা সূচক হয়েছে ৫৪, যা আগে ছিল ৫৮।  সবার নিচে রয়েছে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তাদের সূচক ৯৯, আগে ছিল ৯৮।

প্রতিবেদনের জেন্ডার ইক্যূইটি সূচকে বলা হয়, সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

সোস্যাল ওয়াচের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার ২০০০ সালে ছিল প্রতি লাখে ৭২৪ জন। ২০০৯ সালে তা ৩৩৮ জনে নেমে আসে। এই মাতৃমৃত্যু বন্ধ করতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।

এছাড়া এখনও বাংলাদেশের মোট শিশুর অর্ধেক অপুষ্টিতে ভুগছে। সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি তিনটির মধ্যে একটি শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। এছাড়া ৫ বছরের নিচে বয়সের শিশুদের মধ্যে শতকরা ৪৯ জন খর্বাকায় হয়ে জন্ম নিচ্ছে।  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও ঝরে যায়।

এর কারণ হিসেবে সোস্যাল ওয়াচের প্রতিবেদন বলা হয়, পারিবারিক দরিদ্রতার কারণে এসব শিশুরা পড়াশুনা ছেড়ে শিশুশ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা বিশ্বে জাতিসংঘঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বছরে প্রায় ১০০-১২০ বিলিয়ন ব্যয় করতে হবে। যা সারা বিশ্বের মোট জিডিপির শতকরা দশমিক পাঁচ শতাংশ। আর বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হবে বছরে ১৪ দশমিক ৮৮ ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান বাংলাদেশকে এক ডলার বৈদেশিক সাহায্যের বিপরীতে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে দেড় ডলার। যা এমডিজির অর্থায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার। একারণে এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে বাংলাদেশকে গত তিন দশকে ১০ বিলিয়নেরও বেশি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। অথচ পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এজন্য উন্নত দেশ ও দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে আরও বেশি অনুদান আদায় করার পরামর্শ দেওয়া হয় রিপোর্টে।

বাংলাদেশ সময় ২০১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১০

Nagad
নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
বিপিও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান পলকের
বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালা সংস্কারের পরামর্শ
ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড, হাসপাতাল সিলগালা
পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১,৫৬০ জন


নভোএয়ারে ভ্রমণ করলে ফ্রি কাপল টিকিট
‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন!
সব বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, বন্যার অবনতি
অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প
খুলনায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ৭৩, মোট ৩১০৮