খুলনা-৬ আসনে নতুন-পুরাতন প্রার্থীর ছড়াছড়ি

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

.

খুলনা: বছরের শেষ প্রান্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট নেতারা। দুর্যোগ এলাকার মানুষ এখন নিজেদের আলোচনায় মেলাচ্ছেন ভোটের হিসাব।

php glass

খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্য দলের মোট ১২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। দলের সবুজ সংকেত পেতে অব্যাহত চেষ্টা চলছে তাদের। তারা যেমন কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন, ঠিক তেমনি করেই তৃণমূলেও করছেন গণসংযোগ। 

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মো. নূরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব আলী সানা, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব রশীদুজ্জামান মোড়ল। এলাকায় তারা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। 

২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ মো. নুরুল হক। কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। 

গতবছর পাইকগাছা উপজেলায় বিরোধপূর্ণ ৫০ শতক জমির চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলে দেন সংসদ সদস্য নূরুল হকের লোকজন। তাতে ওই দেওয়ালের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেখানে বসবাসকারী আবদুল আজিজ গোলদারের পরিবার। তারা দীর্ঘদিন ধরে মই লাগিয়ে দেওয়ালের ওপর দিয়ে এবং গর্ত খুঁড়ে দেওয়ালের নিচ দিয়ে চলাচল করতে থাকেন। যা দেশে ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায়ও প্রচারিত হয়। তৈরি হয় তোলপাড়। ওই দেওয়াল ভেঙে ফেলে উপজেলা প্রশাসন। দলীয় সভাতেও নুরুল হককে ভৎর্সনা করা হয়। এছাড়া তার ছেলের বিরুদ্ধেও ওই এলাকায় ইটভাটা দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনের সংসদ সদস্য হন সোহরাব আলী সানা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপকূলীয় এলাকার বাঁধ নির্মাণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে সোহরাব আলী সানার বিরুদ্ধে।
 
এদিকে বর্তমান ও সাবেক এমপির ইমেজ সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে আকতারুজ্জামান বাবুর।

তৃণমূল নেতারা বলেন, দলের তৃণমূলে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছেন তরুণ নেতা বাবু। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তিনি এলাকায় কাজ করছেন। 

ড. মশিউর রহমান প্রায় এক বছর ধরে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। 

অনেকে মনে করছেন, হেভিওয়েট এ প্রার্থীকে দলের সভানেত্রী মনোনয়ন দিলেও দিতে পারেন।  

বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের সঙ্গে মোবাইল নম্বরে বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া গেছে। অনুরূপভাবে ড. মশিউর রহমানকেও মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। 

আকতারুজ্জামান বাবু বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে আমি আশাবাদী। 

সোহরাব আলী সানা বাংলানিউজকে বলেন, আমি আশাবাদী মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে। বাকিটা আল্লাহর হাতে। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করছি। 

এদিকে জামায়াত অধ্যুষিত খুলনা-৬ আসনটি আবারও ফেরত পেতে চায় বিএনপি নেতারা। ইতোমধ্যে মনোনয়ন পেতে এলাকায় কাজ করছেন খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু। 

তৃণমূল নেতারা বলছেন, দলের দুঃসময়ে, কর্মীদের দুঃসময়ে যিনি পাশে থাকেন তিনি হলেন মনা। বিগত দিনের সংসদ ও খুলনা সিটি নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দাবিদার তিনি।  

শফিকুল আলম মনা বাংলানিউজকে বলেন, আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর নির্বাচনের কথা নিয়ে ভাবনা। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকবো। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচন করার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে আমার। দলের কাছে আমি এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো। 

এসএম রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বহিরাগত কাউকে খুলনা-৬ আসনে দেখতে চাই না। এলাকার মানুষ তরুণ নেতৃত্ব চায়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির অতি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেছি। অনেক দিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সেখানে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। 

আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমার বাড়ি কয়রায়। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে ২০০৮ সালের পর জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ আসনে আমার নাম ঘোষণা করা হয় দল থেকে। সেই থেকে আমি যতটুকু প্রয়োজন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। 

২০ দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশা করেন তিনি।  

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা গাজী নুর আহমদকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি বা অন্য দলের কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। 

এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে খুলনা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা স ম বাবর আলী। ১৯৭৯ সালে বিএনপি নেতা শেখ রাজ্জাক আলী এবং ৮৬’র নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শেখ মো. নুরুল হক, ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন শেখ মো. নূরুল হক।

খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলায়  মোট ভোটার দু’লাখ ১৮ হাজার ৫৬৬ জন আর কয়রা উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৯০৪ জন।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮
এমআরএম/এএ

সৈয়দপুর-ঢাকা আকাশপথে প্রতিদিন ১৪ ফ্লাইট 
বিএসএমএমইউ’র সঙ্গে টাটা মেমোরিয়ালের চুক্তি
পাথরঘাটায় আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার
পেকুয়ার দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা উপস্থাপন


বিএসইসির সংবাদ সম্মেলন সোমবার
এবি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
উখিয়ায় ৩ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন
‘বঙ্গবন্ধু হত্যার রাতে মার্কিন ও পাক দূতাবাস খোলা ছিল’
রায়গঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭, আটক ৫