দৃষ্টি সুরক্ষা: বিশেষজ্ঞের মতামত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

১৩ অক্টোবর, বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য দৃষ্টি’ অধিকার নিশ্চিত করা।

php glass

১৩ অক্টোবর, বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য দৃষ্টি’ অধিকার নিশ্চিত করা।

বেসরকারি সংস্থা চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশনের (সিএসএফ) তথ্য মতে, বিশ্বের ২৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার শিকার। এর মধ্যে বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রয়েছে সাড়ে সাত লাখ। যাদের অধিকাংশই শিশু।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের প্রধান প্রফেসর শফিকুল আলম চোখের নানা সমস্যা, এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধের বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলানিউজের সঙ্গে। প্রফেসর শফিকুল আলমের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: কারা বেশি অন্ধত্বের শিকার হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই বেশি অন্ধত্বের শিকার হয়।
প্রশ্ন: এর কারণ কি?
উত্তর: প্রথমত ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব। অপুষ্টি ও মারাত্মক ডায়রিয়া শিশুদের অন্ধত্বের জন্য দায়ী। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে ছানি।
প্রশ্ন: শিশু অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-এর লক্ষণ কি কি?
উত্তর: চোখের চামড়া কুঁচকে যেতে পারে এবং চোখের মনির স্বচ্ছতা কমে ঘোলা হয়ে আসে। এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন: অন্ধত্ব প্রতিরোধের জন্য শিশুকে কি ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে?
উত্তর: শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার যেমন: হলুদ ফলমূল, গাজর, পেঁপে, সবুজ শাক-সবজি, ডিমের কুসুম, ছোটমাছ যেমন- মলা, ঢেলা এবং কলিজা খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
প্রশ্ন: জন্মান্ধ শিশুর লক্ষণ কি?
উত্তর: দুই তিন মাস বয়স থেকেই লক্ষ্য করতে হবে শিশু কোনো রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয় কি-না। আর এই বয়সেই শিশুরা পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারে, তারা কাছে এলে শিশুর কোনো প্রতিক্রিয়া বোঝা না গেলে শিশুকে চোখের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন: শিশু চোখের দৃষ্টিশক্তি কেমন তা জানা কি জরুরি?
উত্তর: অবশ্যই। একটি শিশু যখন স্কুলে ভর্তি হবে, তার আগে অবশ্যই তার চোখের পাওয়ার টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিৎ। অনেক সময় শিশু বর্ণান্ধ হতে পারে অথবা তার বেশি দূরের বস্তু দেখতে সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক শিশুকে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। এ সমস্যাগুলো আগে থেকে বোঝা গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
প্রশ্ন: অন্ধত্বের চিকিৎসা কি?
উত্তর: ৮০ শতাংশ অন্ধত্ব চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য চাই সচেতনতা এবং সময় মতো চিকিৎসা নেওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা দিলে অনেক শিশুর জীবনই অন্ধত্বের অন্ধকারে ঢাকা পড়বে না।
প্রশ্ন প্রাপ্ত বয়স্কদের অন্ধত্বের কারণ কি?
উত্তর: বিভিন্ন কারণে অন্ধত্ব হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ কর্নিয়া দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং চোখের ছানি।
    
এছাড়া প্রফেসর শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুব সহজেই অপসারণ করা যায়। দেশি, বিদেশি লেন্স এবং হাসপাতাল ভেদে এই চিকিৎসা ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় করানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সুস্থ মানুষের বছরে একবার চোখের চিকিৎসক দিয়ে রুটিনমাফিক চেকআপ করাতে হবে।’

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধ ব্যক্তি সুন্দর এই পৃথিবীর সবগুলো রঙ উপভোগ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

মাইগ্রেনের ব্যথায় 
সড়কে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে ১৪ দল
এক্সিম ব্যাংকের কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রাহক সমাবেশ 
বিআরটিএ’র বিভিন্ন পদে নিয়োগ
আফগানিস্তানে জোড়া বোমা হামলায় নিহত ৪


খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করায় দণ্ড
মানবাধিকার সমুন্নত করতে সরকার কাজ করছে
সিরিয়ায় আইএসের ‘খেলাফতের সমাপ্তি’ ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ কংগ্রেসের
মুকসুদপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু