রিফাত হত্যা: মিন্নির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি

walton

বরগুনা: দুই সাক্ষীকে হুমকির অভিযোগে বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার দুই সাক্ষীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিন্নির জামিন বাতিল আবেদনের শুনানি শেষে রোববার (০২ ফেব্রুয়ারি) বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামান এ আদেশ দেন।

এ মামলার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ নিয়ে মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রকাশ পাওয়া ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের মনোনীত আইনজীবী এম. মজিবুল হক কিসলু জানান, পাঁচ সহযোগীসহ রিফাত হত্যা মামলার দুই সাক্ষীর বাড়িতে গিয়ে তাদের হুমকি দেন মিন্নি। তাই সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এ নোটিশের জবাবের শুনানি শেষে আদালত মিন্নির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৪ জানুয়ারি পাঁচ সহযোগী নিয়ে মিন্নি রিফাত হত্যা মামলার সাক্ষী জাকারিয়া বাবু ও হারুন মৃধার বাড়িতে গিয়ে তাদের সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার হুমকি দেন। এ অভিযোগে ৮ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির বাতিলের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের জন্য ওইদিন মিন্নিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ১৫ জানুয়ারি এর উত্তর দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

১৫ জানুয়ারি মিন্নির আইনজীবী কারণ দর্শানোর নোটিশের উত্তর আদালতে দাখিল করেন। এরপর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মৌখিক আবেদনের জন্য ২৬ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের শুনানির দিন ধার্য করেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত দুই ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন। এরপর রোববার শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এরমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছেন।

পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, হাসান, মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন। 

বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০
এনটি

লিবিয়ায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি যে লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন
স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
পত্নীতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ ভাইয়ের মৃত্যু
দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়ছে যাত্রীদের চাপ
ফতুল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আ’লীগ নেতার মৃত্যু


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম করোনার উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু
চাষিদের স্বপ্ন হাঁড়িভাঙা আমে
নীলফামারীতে অতিবৃষ্টির কারণে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
কিশোরগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ফরিদপুরে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু