বনানীতে দুই তরুণীর ধর্ষণ: পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ এপ্রিল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ

walton

ঢাকা: রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীর ধর্ষণ মামলায় পরবর্তী সাক্ষগ্রহণের তারিখ ৮ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

php glass

সোমবার (১৮ মার্চ) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষী না আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও ভিকটিমের পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাফাত আহমেদের জামিন বাতিল করে ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর একজনের জেরার দিন ধার্য ছিল সোমবার। কিন্তু ভিকটিম শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি বিধায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করেন। এ মামলার ৫ আসামিকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জেরা করার সময় আদালতের উদ্দেশে ভিকটিম বলেন, আসামিরা একের পর জামিন পাচ্ছে। আসামিদের জন্য আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

ভিকটিম আদালতকে তাড়াতাড়ি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে অনুরোধ করেন। কারণ হিসেবে ভিকটিম জানান, তিনি একটি চাকরি করেন, বার বার ছুটি চাওয়া যায় না। আর যে বিষয় নিয়ে ছুটি চাইবেন সেটা সবার সামনে প্রকাশ করাও যায় না।

২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর সাফাত আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেন একই বিচারক। এর আগে বিভিন্ন সময় ধর্ষণের সহযোগী আসামি সাফাত আহমেদের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং বন্ধু সাদমান সাকিফ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

গত বছরে ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের ১৩ জুলাই আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়।

অপর আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়। ওই দুই ছাত্রী সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়।

সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম ছাড়া বাকি আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৬ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০১৯    
এমএআর/এমজেএফ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ধর্ষণ
সিলেটে দখলকৃত ভূমি উদ্ধারে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারকলিপি
সৈয়দপুরে ২ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘সততার দোকান’
গবেষকদের সহযোগিতা করতে হবে: মেয়র
রূপসায় ট্রাকচাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত
বাস চালককে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক


বই দিবসের ছড়া | আলেক্স আলীম 
ফের ঢাকা-দিল্লি রুটে ফ্লাইট চালু করছে বিমান
ময়মনসিংহে মানবপাচারকারী চক্রের ২ সদস্যসহ আটক ১৪
চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা