দানবীর আরপি সাহা হত্যায় বিচার শুরুর আদেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

হাইকোর্টের ফাইল ছবি

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা) ও তার ছেলে হত্যাকাণ্ডসহ তিনটি গণহত্যার অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
 

আগামী ২২ এপ্রিল সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রাখা হয়েছে।
 
বুধবার (২৮ মার্চ) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
 
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, রেজিয়া সুলতানা চমন ও তাপস কান্তি বল। আসামি মাহবুবুর রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।  
 
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন।
 
২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে ১১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। এর আগে ২ নভেম্বর তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে মামলার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ওইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, আসামি মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়।

তিনি আরও বলেন, আসামি এক সময় জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু নির্দলীয়ভাবে তিন তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছিলো ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল। তদন্ত সম্পন্ন করতে দেড় বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমসের আশপাশের এলাকা, নারায়ণগঞ্জের খানপুরের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও তার আশপাশের এবং টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজ এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করেন।

তদন্তে মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যার প্রমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে ৬০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং মোট ১০০ পাতার ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি ভলিউমে ৩৮০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করেছেন সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান।

মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে সরকার আর পি সাহাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। মানবহিতৈষী কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর খেতাব দিয়েছিলো রণদা প্রসাদ সাহাকে।

রণদা প্রসাদ সাহার বাবার বাড়ি ছিলো টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

এক সময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় নামেন রণদা প্রসাদ সাহা থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজদিখানে। সে বাড়ি থেকেই তাকে, তার ছেলে ও অন্যান্যদের ধরে নিয়ে যায় আসামি মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগিরা।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫০ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০১৮
ইএস/জেডএস

ম্যালেরিয়া পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
হবিগঞ্জ শহরে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, গৃহকত্রী আহত
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শাহজাহান আর নেই
স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ২
জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্র চলছে
অস্ত্র মামলায় একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ইলিশের জমজমাট হাট
ইমরান খানকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন খারিজ
ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ফিলিস্তিনি যুবক নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৯ কেজি গাঁজাসহ মাদকবিক্রেতা আটক