করপোরেশন নির্বাচনেও হারবে বাম-কংগ্রেস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

.

walton

কলকাতা: চলতি বছরের সম্ভবত এপ্রিলে কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচন। ফলে করপোরেশন দখল করতে শহরের সবক’টি রাজনৈতিক দল মরিয়া হয়ে ঝাপিয়ে পড়বে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দিনগুলো থেকে। তবে এখনই ভোট হলে কী হবে বামদের অবস্থা?  শুধু বাম নয় পাশাপাশি কংগ্রেসের কী হবে পরিণতি? তাই নিয়ে বামদের সদর দপ্তর আলিমুদ্দিনের এক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তাদের তথ্য অনুয়ায়ী দুই রাজনৈতিক দলের পরিণতি রাজ্যে হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনের মতোই হতে চলেছে।

আলিমুদ্দিনের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে উত্তর কলকাতা চিরকালই দুর্বল সিপিএম। করপোরেশন ভোটে অবস্থা আরও হতাশজনক হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, যা বামদের লালদুর্গ বলে পরিচিত। তাও হাত ছাড়া হতে পারে বিজেপি বাহিনীর কাছে। 

উত্তর কলকাতায় ঐতিহাসিকভাবেই দুর্বল সিপিএম। রাজ্যে বিজেপির উত্থানে সিপিএম আরও কোণঠাসা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। উত্তর কলকাতার বেশিরভাগ ওয়ার্ডে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির। পাশাপাশি লোকসভা ভোটের নিরিখে উত্তর কলকাতার বড়বাজার ও সংলগ্ন ওয়ার্ডগুলোতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিচ্ছে বিজেপি। এমনকি বেলেঘাটা, মানিকতলার মতো বামদুর্গ নামে পরিচিতি এলাকাগুলো চলে যেতে পারে বিজেপির দখলে।

এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, গার্ডেনরিচ, বেহালায় সিংহভাগ ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে মমতার দল। ওইসব এলাকাগুলো মুসলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলোতে বামদের সমীক্ষা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই ওয়ার্ডগুলো বাদে দক্ষিণ শহরের ওয়ার্ডগুলোতে লড়াই হবে সেই তৃণমূল বনাম বিজেপির। 

বামদের লালঘাটি যাদবপুরের মতো অঞ্চল গত লোকসভা ভোটের পর বদলে গেছে অনেকটাই। বেশিরভাগ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে বিজেপি। সিএএ-এনআরসির মতো বিষয় নিয়ে আন্দোলনের পরও যাদবপুরের মতো কেন্দ্রে বিজেপির এমন উত্থান দেখে হতাশ ও হতবাক হয়েছে খোদ বামদের সদর দপ্তর আলিমুদ্দিন।

সমীক্ষার অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণের পর ও গত লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আটকাতে একপ্রকার রণনীতি সাজিয়ে ফেলেছেন সিপিএম নেতারা। সঙ্গে ১৭টি বামদলের জোট তো আছেই। পাশাপাশি রাজ্য কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতাও দ্রুত পাকা করে ফেলতে চাইছেন সিপিএম। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগ নিয়েও আলোচনা চলছে দু’দলের অভ্যন্তরে। এ নিয়ে সিপিএম নেতাদের বক্তব্য কোনোভাবেই বিজেপির হাতে করপোরেশন দেওয়া যাবে না।

অপরদিকে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস কাউকেই পাত্তার মধ্যে আনছেন না কলকাতা করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তার কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা এখন জনবচ্ছিন্ন। মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’ পাশাপাশি কলকাতা করপোরেশন দখলের স্বপ্ন দেখছে বিজেপিও। 

দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ২০২০ কলকাতা করপোরেশন দখল আমরা নেবোই, কেউ আটকাতে পারবে না। ২০২১ মমতা এ রাজ্য থেকে সাফ হয়ে যাবে।

এছাড়া এনআরসি-সিএএ নিয়ে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেস-সিপিএম যৌথ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এমনকি ২০২০ ও ২০২১ একে অপরের বোঝাপড়ায় রাজ্যে নির্বাচনে লড়তে চায় তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু কেন্দ্রে কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী চায় বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার দলই কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট বাঁধুক। তাই সবমিলিয়ে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ২০২০ করপোরেশন ভোট নানা জটিল সমীকরণে হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০২০
ভিএস/আরবি/

বরিশালে আরো ৩৮ জন হোম কোয়ারেন্টিনে, ছাড়পত্র পেলো ১৫৬ জন
করোনা: কনটেইনার খালাসে বন্দরের স্টোররেন্ট ছাড়
‘মালিকদের কাছে শ্রমিক ও দেশের কল্যাণ অর্থ বহন করে না’
রাশিয়ায় ‘জোরে কথা বলায়’ ৫ জনকে গুলি করে হত্যা
করোনায় ডিএনসিসির পাঁচ তথ্যকেন্দ্র


করোনা: ৫০ লাখ রুপি দান করলেন যুবরাজ
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতার এফআইআর
অভিনেতাদের চেয়ে রাজনীতিকদের বড় রোল মডেল হওয়া দরকার
জনগণকেও দায়িত্বশীল হতে হবে: আব্দুল লতিফ জনি
করোনা সন্দেহে পাবনায় শিবরামপুরের একটি বাড়ি লকডাউন