ভূতের ডিগবাজি-৩ | মাহমুদ মেনন

গল্প/ইচ্ছেঘুড়ি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: প্রতীকী

walton

সন্ধ্যায় পড়ায় মন বসছিলো না রুশোর। টেবিলে বসে বসে তার সারাক্ষণই মনে হতে থাকে- মামদো ভূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা

গুনগুন করে সেই ছড়াই গানের মতো করে গাইছিলো আর পা নাড়াচ্ছিলো রুশো।

মা রান্না ঘরে। টুনটান শব্দ আসছে। নুডুলস রান্না হচ্ছে। ডিম দিয়ে স্যুপ নুডুলস। একটু আগেই মায়ের কাছে আবদার করেছে রুশো- মা আজ খুব নুডুলস খেতে ইচ্ছা করছে।

মা তিনটা অংক দিয়ে গেছেন- বলেছেন এ তিনটা করে ফেলো আমি নুডুলস করে আনছি।
 
রুশোর নুডুলস খুবই পছন্দ। তাই খুশি মনে অংক কষতে বসলো। কিন্তু মা রুম থেকে বের হতেই তার মাথায় ঢুকে পড়লো সেই ছড়া। সব কিছু মিলিয়ে খুশি খুশি মন। আর সেই খুশিতেই ছড়ার গুন গুন-
মামদো ভ‍ূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা

হঠাৎ পায়ে সুরসুরি লাগলো তার। প্রথম বাম পায়ে, এরপর ডান পায়ে। মোলায়েম একটা কিছু পায়ে লেগে গেলো। রুশো ভাবলো পুসি বুঝি। বেড়ালটার বড্ড গা ঘেঁষাঘেষির অভ্যাস। আগেও প্রায়ই এমন হয়েছে। তাই গা করলো না রুশো।

পা নাড়িয়ে সেই গুনগুন- মামদো ভূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা

অংক এগুচ্ছিলো- কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলো সে কেবল গাইছেই না... আসলে পাতা জুড়েই লিখে ফেলেছে-
মামদো ভূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা
মামদো ভূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা
মামদো ভূতের ছানা... তার একটা চোখ কানা

যখন সেটা খেয়ালে এলো তখনই দেখলো ঠিক দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে ফুচকি মেরেছে একটি মুখ। আর চকচকে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। কি রুশো... ফাঁকিবাজি না! অংকে মন দাঁও!
আমে তুমি... আবার এসেছো। আমি ভাবলাম পুসি বুঝি। তোমার গা এত নরম কেনো? তুলতুলো! লুতুপুতু! তোমাকে তো কেউই ভয় পাবে না।

ভূতের সাথে মশকরা! ভালো হবে না কিন্তু বলে রাখছি রুশো।
আরে রাগছো ক্যানো। আমিতো মজা করলাম।
অংক করো... অংক করো ... ওই যে তোমার মা আসছেন।

মায়ের পায়ের শব্দে খাতা উল্টে অংকে মন দিলো রুশো।

মা ঢুকে দেখলেন ছেলে মন দিয়ে অংক কষছে... খুশি মনে স্যুপ নুডুলসের বাটি রেখে... বললেন খেয়ে নাও রুশো।

রুশো মাথা তুললো না... যেনো অংকেই তার ভীষণ মনোযোগ।

মুগ্ধ মা তার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে আবার রান্না ঘরের দিকে গেলেন। রুশোও অংক ছেড়ে মাথা তুললো।

দেখলো তার ডান দিকের নুডুলসের বাটি থেকে একটা একটা করে নুডুলস বাটি থেকে উঠছে আর শূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে।

নুডুলস উঠছে... শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে
নুডুলস উঠছে... শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।

মিনিট খানেক চুপ করে কা-টাই দেখলো রুশো। বুঝতে পারলো এটা ভূত ছানার কাণ্ড। ব্যাটা নিজেকে ইনভিজিবল করে দিয়ে নুডুলসগুলো খেয়ে ফেলছে।

রুশো হাঁক দিতে গিয়েও দিলো না... মা শুনে ফেলবে। তাই ফিসফিস করে বললো... এই কী করো? কী করো?

রুশোর মনে হলো ভূতছানাটার নামইতো তার জানা হয়নি। তাই কী বলে ডাকবে তাও তো জানছে না। বড়ই বেকায়দায় পড়লো রুশো। আর এই ফাঁকে ভ‍ূতছানা নুডুলস খেয়ে যাচ্ছে।

একেকটি নুডুলস বাটি থেকে উঠছে আর তার একটু দূরত্বে গিয়ে শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।

হাত দিয়ে ঠিক যেখানে নুডুলসগুলো মিলিয়ে যাচ্ছিলো সেখানে নাড়াচাড়া করে কিছুই টের পেলো না রুশো।

এবার তার কষ্ট হতে লাগলো। অনেক আবদার করে মাকে বলেছিলো নুডুলস খাবে। মা রান্নাও করলো। তাকে খেতেও দিলো। কিন্তু সে খেতে পারলো না।

এবার ভাবলো বাটিটা সরিয়ে নিলেইতো হয়। দ্রুত সেটিতে হাত দিয়ে সরিয়ে নিতে চাইলো। কিন্তু আরে বাটিওতো সরছে না। মনে হচ্ছে শক্ত করে টেবিলের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছে নুডুলসের বাটি। সব শক্তি দিয়েও বাটিটি সরানো গেলো না।

একে একে সবগুলো নুডুলস শেষ হয়ে গেলো। পড়ে থাকলো আধাবাটি স্যুপ।

এবার দেখা মিললো ভূত ছানার। নাও খাও তুমি স্যুপটাই খাও। আমি নুডুলসটুকু খেয়ে ফেলেছি।

সে তো দেখতেই পাচ্ছি! বিরক্তি রুশোর কণ্ঠে।
নুডুলস আমার খুব পছন্দ। কিন্তু তুমি সবটাই খেয়ে ফেলেছো, বললো সে।

হ্যাঁ খেলাম। জানো নুডুলস দেখলে আমি আর লোভ সামলাতে পারি না। তখন মায়ের শাসন পুরোই ভুলে যাই। জানো আজকে যে বাইরের খাবার খেলাম। আজ আমার খানা বন্ধ। মা আর কিছুই খেতে দেবে না।

কেনো? তুমি তো ডিগবাজি খাবে।  

আরে ডিগবাজি। তোমাকে তো আগেই বলেছি... মা হাত-পায়ে এমন একটা কিছু করে দেয় যে আর ডিগবাজি খেতে পারি না। মায়ের কাছে গেলে আজ সারারাত... কাল সারাদিন খাবার বন্ধ।

তাও লোভ করে নুডুলস খেয়ে ফেললে। মায়ের শাস্তির কথা একটুও মনে রাখলে না। যাও এবার কি হবে। নাও স্যুপটুকুও তুমি খেয়ে ফেলো।

আরে না... মাথা খারাপ। লিকুইড খেলে মা আস্ত রাখবে না। জানো বিছানায় হিসু হয়ে যায়। ভূতের রাজ্যে বিছানায় হিসু করা এক মস্ত অপরাধ। যে করবে তার রক্ষা নাই। এই জন্যইতো আমাদের সব বায়বীয় খাবার। ডিগবাজি... অন্ধকার। এইসব। ওতে পেট ভরে কিন্তু উদোরপূর্তি হয় না।

কী হলো ভূতছানা আজ যে বড়ো কঠিন কঠিন বাংলা বলছে। মায়ের শাস্তির কথা ভেবে বুঝি ব্যাটার মাথা কাজ করছে না।

যাই হোক মুখ ব্যাজার করে স্যুপটা খেয়ে নিলো রুশো। ঠিক তখনই মায়ের পায়ের শব্দ শোনা গেলো।

এক লাফে ভূতছানা ঢুকে পড়লো টেবিলের তলায়। রুশো অংকে মন দিলো।

হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে মা ঢুকলেন। টেবিলে এসে দেখলেন পুত্র তার গোটা এক বাটি নুডুলস খেয়ে সাবাড় করেছে। অবাক হলেন মা। বিস্ময়ের চোখে তাকালেন রুশোর দিকে। তবে কিছু বললেন না, হতেও পারে ছেলেটার আজ বেশিই ক্ষুধা লেগেছিলো। দুধের গ্লাস টেবিলের কোণায় রেখে রুশোর খাতার দিকে তাকালেন।

তখনও সেই প্রথম অংকটি করছে দেখে তার মনে হলো- আরে এ ছেলেতো অংক করেনি এতোক্ষণ! তাহলে করেছেটা কী? ভাবলেন জানতে চাইবেন। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো চুলোয় চায়ের পানি। তাই দ্রুত সেদিকে হেঁটে গেলেন।

আর রুশোর দম আটকে রাখা শ্বাসটি ফুসসসস শব্দে বের হয়ে এলো। টেবিলের কোনা থেকে মাথা তুলতে ভূত ছানাও দেরি করলো না একদণ্ড। সেও ছাড়লো বিরাট নিঃশ্বাস।

আরে তোমরা নিঃশ্বাসও নাও নাকি? বিস্ময়ের প্রশ্ন রুশোর।

ভূতছানা বলে নেবো না মানে, তাহলে আমরা বাঁচবো কী করে। ও আচ্ছা বুঝেছি তুমি মোটেই আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না। এখনো তোমার মনে হচ্ছে- ভূত বলে কিছু নেই। দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।

এই বলে ভূতছানা গায়েব। কোথাও ছানাটিকে না দেখে হাফ ছেড়ে যেনো বাঁচলো রুশো। ডক ডক করে পুরো গ্লাস দুধ খেয়ে ফেললো। নুডুলস পুরোটুকু সাবাড় করেছে ভূতের বেটা। ক্ষিধেয় তার পেটে ছুঁচো যেন ডন মারছিলো।

ছুঁচোর ডনের কথা মনে করতেই রুশোর মনে হলো ভূতছানার ডিগবাজি খাওয়ার কথা। মুখে মুচকি হাঁসলো সে। মনে মনে ভাবলো পেটের ভেতর ছুঁচোটিও কি তাহলে ডন মারে আর খায়। ওটিরও কি খাবার হচ্ছে ডন মারা!

ভাবতে ভাবতে পেটের ভেতর সত্যিই নড়াচড়া টের পেলো। তার মনে হতে লাগলো- পেটের ভেতর কিছু একটা ডিগবাজি খাচ্ছে। তাতে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হচ্ছে পেটে।

ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো রুশো। এমনটা কেনো হচ্ছে! মোটেই বুঝতে পারছে না, কী হচ্ছে পেটের ভেতর!  

একেতো কেবলই এক গ্লাস দুধ খেয়ে ফেলেছে, তায় আবার পেটের মধ্যে গুড়ুম গুড়ুম। তলপেটে ভীষণ চাপ বোধ করতে শুরু করলো। দ্রুত ছুটলো টয়লেটে। আর কমোড ভরে হিসু করলো।

যাক বাবা পেটের ভেতর কিছুটা স্বস্তিবোধ করছে এবার।

দ্রুত টেবিলে ফিরে এলো। অমনি সামনে টপ করে পড়লো ভূতছানা। রুশোর মনে হলো তার মুখের ভেতর থেকেই বের হয়ে এলো ভূত-ছানাটি।

কি! কেমন মজা দেখালাম! আর অবিশ্বাস করবে! আর ভাববে, ভূত বলে কিছু নেই!

বলেই ছুটতে ছুটতে ভেন্টিলেটার দিয়ে বেরিয়ে গেলো ভূতছানা।

পেটের ভেতর ভূতের ডিগবাজি! অ্যা.... ভাবতেই পেট গুলিয়ে উঠলো তার। আর হর হর করে বেরিয়ে এলো একগাদা বমি।

ঘুম ভেঙে গেলো রুশোর। দ্রুত মুখে হাত দিলো। দেখলো- কই নাতো কোনও বমিতো নেই। কিন্তু নিচের দিকটাতো ঠাণ্ড ঠাণ্ডা লাগছে। হাত চালিয়ে দেখলো আজও কম্ম সারা।

ভেন্টিলেটারের দিকে চোখ গেলো। সেখানে তাকিয়ে দেখতে পেলো বাইরে আলো ফুটতে শুরু করেছে।

ভূতের ডিগবাজি-২ | মাহমুদ মেনন
ভূতের ডিগবাজি ‍| মাহমুদ মেনন

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১৭
এমজেএফ

Nagad
জামালপুরের ইসলামপুরে নৌকাডুবিতে নিহত ১
শেবামেকের ছাত্রবাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সিলেট বিভাগে চার চিকিৎসকসহ আরও ১০৫ জন করোনা আক্রান্ত
১৮৬ যাত্রী নিয়ে দুবাই পৌঁছালো বিমান
সাহেদকে ধরতে মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযান


মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি সাতক্ষীরার বাকীর মৃত্যু
ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ
মালদ্বীপে বিক্ষোভের সময় ৩৯ বাংলাদেশি আটক
করোনা পরিস্থিতি ‘খারাপ থেকে আরও খারাপের’ দিকে যেতে পারে: হু
বগুড়ায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন