php glass

‌কাউকে নিয়ে ‘ট্রল’ করা জঘন্য গুনাহ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা, অতিথি লেখক, ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‌কাউকে নিয়ে ‘ট্রল’ করা জঘন্য গুনাহ

walton

কাউকে নিয়ে ট্রল (ব্যঙ্গ) করা, সব বিষয়ে মজা নেওয়া ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দেয়। এটা মুমিনের কাজ নয়। কারণ একজন মুমিন কখনো তার অপর ভাইকে বিদ্রুপ করতে পারে না। কারো দোষচর্চা করতে পারে না। কারো ওপর মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম। (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১১)

উল্লিখিত আয়াতে কোনো সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়কে নিয়ে বিদ্রুপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকার মানুষ নিয়ে, এক জেলা অন্য জেলা নিয়ে, এক দল অন্য দলকে নিয়ে হরহামেশাই ট্রল করে থাকি। কারো কারো অবস্থা দেখে মনে হয়, এরা ট্রল করা ইবাদত মনে করে। নাউজুবিল্লাহ। কারো অসুস্থতা নিয়ে, কারো মৃত্যু নিয়েতো ট্রল করার প্রশ্নই ওঠে না। এমনও হতে পারে, আপনি যার অসুস্থতা নিয়ে ট্রল করছেন, তাকে মরার আগেই জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অথচ তার আগেই আল্লাহ আপনাকেই উঠিয়ে নিতে পারেন।

হজরত আবু বকর (রা.) অসুস্থ হলে একটি কবিতা পড়তেন, যার ভাবার্থ এই, ‘প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজ পরিবারে সুপ্রভাত বলা হয়, অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চাইতেও অতি নিকটে।’

মানুষ যেকোনো সময় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হতে পারে। কেউ জানে না, কখন, কোথায়, কীভাবে আল্লাহ তাকে তলব করবেন।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,  ‘কেউ জানে না, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, আর কেউ জানে না, কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সম্যক।’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ৩৪)

একারণে কারো অসুস্থতা ও মৃত্যু নিয়ে ট্রল করতে নেই। সে কাফের হলেও না। একদিন আমাদের রাসুল (সা.) এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। এসময় তাঁকে বলা হয়েছিল, জানাজাটি একজন ইহুদির। তিনি বলেছিলেন, ‘সেকি মানুষ নয়?’ (বুখারি, হাদিস নং : ১৩১২)

দেখুন, মহানবী (সা.) একজন অমুসলিমের মৃত্যুতেও কিভাবে সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আর আমরা নোংরা রাজনীতি করতে গিয়ে হিংসার বশীভূত হয়ে অপর মুসলিমকে নিয়ে  কুৎসা রটনা করছি প্রতিনিয়ত।

রাসুল (সা.) ইরশাদ বলেন, ‘তোমরা কারো প্রতি (খারাপ) ধারণা থেকে বিরত থাকো। কেননা কারো প্রতি (খারাপ) ধারণা করা, সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না, গোয়েন্দাগিরী করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষন করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না। বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৬০৬৪)

প্রিয় বন্ধু! আসুন কোনো ব্যক্তি, জেলা বা দেশকে নিয়ে ট্রল করা থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: আলেম-গবেষক ও মাদরাসাশিক্ষক

ইসলাম বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৫ ঘণ্টা, মার্চ ০৪, ২০১৯
এমএমইউ

খুলনায় দ্বিতীয় দিনে আড়াই কোটি টাকার আয়কর
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সেই কনস্টেবল প্রত্যাহার  
সাদেক হোসেন খোকার দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
খুব শিগগিরই পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে: তোফায়েল
কটিয়াদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত


বিশ্বজুড়ে ২৬৫টি ভুয়া নিউজ সাইট চালাচ্ছে ভারতীয় গোষ্ঠী
পাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
বরিশালে দ্বিতীয় দিনে ৬১ লাখ টাকা কর আদায়
ভারতে ৩ ট্রেনে বাড়ানো হলো খাবারের দাম
ফিট উইলিয়ামসন, নিউজিল্যান্ড টেস্ট দলে লোকি ফার্গুসন