php glass

ইসলামে নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

নির্বাচন একটি প্রাচীন পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বিধান। ইসলামের ইতিহাসে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, আল্লাহর নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর দাফন-কাফনের আগে ইসলামী বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান এবং খলিফা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে হজরত আবু বকর (রা.)-কে সাহাবাদের মতামতের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচিত করা হয়।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ঈমান-আমল, জ্ঞান ও চারিত্রিক গুণাবলীকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া যেমন জরুরি, প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তিও তেমন সৎ-যোগ্য, জ্ঞানী-গুণী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি ও দায়িত্বানুভূতিসম্পন্ন হওয়া তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন।

ইসলাম একটি সামাজিক ও মানবিক ধর্ম। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে দেশ, ধর্ম ও মানবতার সেবা করার বিরাট সুযোগ লাভ করা যায়। যারা প্রার্থী হবে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় মানবতার সেবার নিয়তে প্রার্থী হন এবং আমানতদারীর সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে আল্লাহকে ভয় করে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তারা শুধু দুনিয়ায় সম্মানিত হবেন না, বরং আল্লাহর নিকটও বড় মর্যাদার অধিকারী হবেন।

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যারা মানবসেবার জন্য দৌড়ঝাঁপ করবে, তাদের মর্যাদা হবে সে লোকের মতো যে সারারাত ইবাদত করে এবং সারাদিন রোজা রাখে।’

ইসলাম সমাজকর্মীদের বড় মর্যাদা দিয়েছে। তাদের কর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে গণ্য করেছে। নিয়ম ও স্তর অনুযায়ী তাদের বিপুল পরিমাণ সওয়াব দেয়া হবে বলে হাদিসে এসেছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক কাজের সফলতা, ব্যর্থতা, সুফল ও কুফল ব্যক্তির নিয়তের ওপর নির্ভর করে। (বুখারি-মুসলিম)

সুতরাং প্রার্থী যদি নির্বাচিত হয়ে দেশ, ধর্ম ও মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং সওয়াবের কাজ করেন, তখনই শুধু তিনি সে সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। যারা ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন তারাও অনুরূপ সওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হবেন।

কারণ, ভোটারদের কারণেই তিনি এমন পুণ্যময় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যারা ভালো বা মন্দ কাজ করে বা করার ক্ষমতা ও সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় তারা ওই কর্ম সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব বা গুনাহ অর্জন করবে।’ (তিরমিজি-মিশকাত)

নির্বাচিত ব্যক্তি যদি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে মানবতাবিরোধী এবং ইসলামবিরোধী ও নির্যাতনমূলক কাজ করেন, তাহলে তাকে শুধু নয় যারা তাকে নির্বাচিত করবেন এবং ভোট দেবেন সবাইকে এসব অপকর্মের দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং কঠিন আজাবের সম্মুখিন হতে হবে। যেহেতু তাদের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার ফলেই এতসব অপকর্ম করার সুযোগ ওই মন্দ লোকটি পেয়েছে।

অনেক ইসলামি স্কলার বলেন, সামাজিক দায়িত্ব পালন করা মসজিদের ইমামতির চেয়েও মূল্যবান ও মর্যাদাপূর্ণ—যদি তা সঠিকভাবে ইসলামের বিধান মেনে পালন করা হয়। কেউ যদি ক্ষমতা পেয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দুর্নীতি করে, পক্ষপাতিত্ব করে, জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে, ইসলামবিরোধী কাজ করে, সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে পাপের বাজারে পরিণত করে, সে ব্যক্তি বা তার দলই শুধু আল্লাহর গজবে নিপতিত হবে না। বরং তারা সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীকে অশান্ত করে তুলবে। এ কারণেই মসজিদের ইমামতিকে ‘ছোট ইমামতি’ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিচালনাকে ‘বড় ইমামতি’ বলা হয়ে থাকে।

বস্তুত সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-এর দাফন-কাফনের চেয়ে রাষ্ট্রের নেতা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে হজরত আবু বকর (রা.)-কে খলিফা নির্বাচিত করেছিলেন।

ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]
বাংলাদেশ সময়: ১৫০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮
এমএমইউ/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ইসলাম
ছেলেধরা সন্দেহে নারীকে গণপিটুনি, রক্ষা করতে পুলিশ আহত
চিকিৎসা সংকট: দেশের স্বাস্থ্যসেবা মূলত শহরকেন্দ্রিক
দেশীয় ব্যবসায়ীদের সম্ভাবনাময়ী বাজার আমাজন
৭ নারী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করলো কালারস
মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহ্বান বিজিবি ডিজির


প্রিয়া সাহার অভিযোগে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে
মহাকবি কায়কোবাদের প্রয়াণ
ইতিহাসের এই দিনে

মহাকবি কায়কোবাদের প্রয়াণ

প্রিয়া সাহার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য: বিপ্লব বড়ুয়া
ছেলেধরা সন্দেহে নারী হত্যা, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জামালপুরে বন্যায় ২ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু