ত্রাণ বিতরণে প্রযুক্তি সহায়তা দেবে আইসিটি বিভাগ 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভিডিও কনফারেন্সে জুনাইদ আহমেদ পলক

walton

ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সমন্বয় নিশ্চিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে বলে আশা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অংশ নেন। 

লাইভ ভিডিও কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিধপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, এটুআই বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় ও দ্রুততর করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সে বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত কি সহযোগিতা প্রয়োজন সে বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে জানতে চাওয়া হয়। এর উত্তরে বৈঠকে জানানো হয়, ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করতে সরকারি-বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং এই কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি, জাতীয় তথ্যসেবা হেল্প লাইন ৩৩৩ এর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটুআই প্রকল্প সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপকারভোগীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করবে। উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি হবে।

উপকারভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক উপকারভোগীর একটি কিউ আর কোড তৈরি করা হবে। মাঠ প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী কিউ আর কোড প্রিন্ট করে বিতরণ করবে। ত্রাণ বিতরণের সময়  বিতরণকারী এই কিউ আর কোড তার মোবাইল ফোনের অ্যাপসের মাধ্যমে স্ক্যান করবেন। ফলে উপকারভোগীর তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে হালনাগাদ হয়ে যাবে এবং সব ধরনের দ্বৈততা ও অনিয়ম পরিহার করা সম্ভব হবে। 

এছাড়া ডেটাবেজটি তৈরি হলে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে সবাই মত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সেবা সম্পর্কিত হেল্পলাইন ৩৩৩ এর মাধ্যমে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং সেই আবেদন তালিকা যথাযথ যাচাই-বাছাই করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের খাদ্য সহায়তা নিষ্চিত করবে। 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে জনগণের বৃহত্তর কল্যাণার্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেবে। 

আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি ও উপকারভোগীদের ডেটাবেজ তৈরির করার কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উভয় মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশ সময়: ২১১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৯, ২০২০
এসএইচএস/এএ

৭ জুন বাঙালির মুক্তির সনদ ‘৬ দফা’ দিবস 
ছয় দফা আন্দোলন শুরু
ইতিহাসের এই দিনে

ছয় দফা আন্দোলন শুরু

করোনা মোকাবিলায় সরকারের মন্ত্রী-শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক
করোনা প্রতিরোধের উপায় জানালেন ভারতের বিখ্যাত দুই ডাক্তার 
লেভারকুসেনকে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে বায়ার্ন


করোনা উপসর্গ নিয়ে সীতাকুণ্ডে ৩ জনের মৃত্যু
এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করে আত্মগোপন, ৫ দিন পর উদ্ধার
রাঙ্গুনিয়া পুলিশ গেলো লকডাউনে, রোগী তখন শহরে
ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশ করতে কিউআর কোড
মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন